দেশের বিভিন্নস্থানে জাটকা পাচারের নিরাপদ রুট তালতলী বাজার দেশের বিভিন্নস্থানে জাটকা পাচারের নিরাপদ রুট তালতলী বাজার - ajkerparibartan.com
দেশের বিভিন্নস্থানে জাটকা পাচারের নিরাপদ রুট তালতলী বাজার

3:31 pm , April 6, 2023

মাসোয়ারা পাচ্ছে প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের বিভিন্ন নদী থেকে অবাধে জাটকা ও চাপলী শিকার ও বেচাকেনা হচ্ছে। কতিপয় মাছ ব্যবসায়ী প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রকাশ্যে মদদে শিকার ও পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে মাছ শিকার ও পাচারের জন্য প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের গুছ করার নামে মাসে ২৫ লাখ টাকা জেলেদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হয়। জাটকা ও চাপলী শিকার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কাজীর হাট থানার নেতা মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ওই নেতার অভিযোগ জাটকা চাপলী মাছ শিকার ও পাচারের জড়িতদের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে তিনবার আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শিকার ও পাচার আগের মতোই চলছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে জাটকা ও চাপলী শিকার ও পাচারকারীদের ছবিসহ যাবতীয় তথ্য কোষ্টগার্ডের কাছে সরবরাহ করা হয়। কোষ্টগার্ড কোন ব্যবস্থা না নিয়ে শিকার ও পাচারকারীদের কাছে তথ্য সরবরাহকারীর নাম প্রকাশ করেছে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলো : কালাবদর নদীর শ্রীপুর থেকে হিজলা, মেঘনা নদীর উলানিয়া, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালিগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরমোনাই, আড়িয়াল খা ও কীর্তনখোলা নদীতে জাটকা এবং চাপলী শিকারে প্রতিদিন জেলেরা জাল ফেলে। তারা অবাধে পাইজাল, মশারী জাল, বাধ জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ও চাপলী মাছ শিকার করে। জেলেদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলো মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দনপুর এলাকার ছোলেম মাল, খোকন হাওলাদার, রিয়াজ মোল্লা, রিয়াজ হাওলাদার, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের হারুন হাওলাদার, ইউসুফ বেপারী, রাসেল চৌকিদার, সোহরাব মাল, কবির মাঝি, রহিম গাজী, বশির সরদার, নিজাম মীর, তালুকদার চরের দেলোয়ার গাজী, মিজান হাওলাদার, সুমন হাওলাদার, পাভেল মোল্লা, কীর্তনখোলা নদীতে আজিম, রত্তন ও আমির গাজী আরো অন্তত ৩০ জনের নেতৃত্বে কয়েকশ জেলে প্রতিদিন মাছ শিকার করে। তাদের কাছ থেকে মশারী ও বাধ জাল থেকে ২ হাজার ৫শ, কারেন্ট ও পাইজাল থেকে ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা করে উত্তোলন মাছ ব্যবসায়ী চর শেফালীর আলমগীর হাওলাদার ও ভাষানচর বাগরজা এলাকার দেলোয়ার হাওলাদার। এরা টাকা উত্তোলন করে তালতলী বাজারের শাকিলকে দেয়। শাকিল ওই টাকা পোর্ট রোডের আলতাফকে নিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস ও সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামতের পক্ষে রনির কাছে এবং কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, কাউনিয়া থানা ও এয়ারপোর্ট থানার মাঝিদের কাছে পৌছে দেয়।
জেলেদের দাদন দিয়ে জাটকা ও চাপিলা কিনে নেয় বাগরজার দেলোয়ার হাওলাদার, আলমগীর হাওলাদার, পাতারহাটের আলমগীর জোমাদ্দার, ইউসুফ মাল, মজিদ হাওলাদার, কবির মেম্বর। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ মন জাটকা জেলেদের কাছ থেকে কিনে নেয়ার পর তালতলী বাজার এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে এ মাছ গ্রহন করে শাকিল, কালু ও মিরাজ। পরে তারা এ জাটকা ও চাপলী মাছ ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাজার, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার ও উত্তরা আব্দুল্লাহপুর।
এছাড়াও উলানিয়া উত্তর ও দক্ষিন ইউপির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিদিন উলানিয়া বাজার, গজারিয়া খালের মাথা, ঘোলপাড় খালের মাথা, চিকন খাল, ধোনের মুখ খাল, লালগঞ্জ বাজারের খালের মুখে জাটকা ও চাপলী বাজার হাট বসে। এখান থেকেও মাছ কিনে তালতলী বাজার থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার করা হয়।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT