অভিযোগের অন্ত নেই শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে - ajkerparibartan.com
অভিযোগের অন্ত নেই শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

3:31 pm , February 12, 2023

স্কুলের সবগুলো ল্যাপটপ নিজ ঘরে রেখে দিয়েছেন

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেঙ্কারি, শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণ না দেয়া ও সরকারি দানকৃত ল্যাপটপ নিজ ঘরে রাখা সহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর এ অভিযোগগুলো তুলেছেন তারই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের একাংশ। সভাপতি ও শিক্ষকদের অনেকেরই অভিযোগ হচ্ছে, স্কুলে কার্যক্রম পরিচালনায় নিজের খেয়াল খুশি মতো চলছেন প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ। তিনি এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলছেন, গত ২০১১ সালের ১ জানুয়ারী থেকে আমি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অথচ সভাপতির সাথে কখনোই কোনো দ্বন্দ্ব আমার নেই। আমি যখন যা করেছি সব-ই তার পরামর্শে, তার অনুমতি সাপেক্ষে করেছি। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ বরিশালের জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে।
ঘটনার অনুসন্ধানে রবিবার সকালে শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল প্রধান শিক্ষক উপস্থিত নেই। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ৫ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষকরা জানালেন, প্রধান শিক্ষক তিনদিনের ছুটির আবেদন জমা দিয়ে চলে গেছেন। কনফারেন্স কক্ষে সভাপতি ও সদস্যরা প্রধান শিক্ষককে অপসারণ বিষয়ে বৈঠক করছিলেন। তারা একগাদা অভিযোগ লিপি তুলে ধরলেন সংবাদ কর্মীদের সামনে।
আইটি শিক্ষক শবনম অভিযোগ করেন, তিনি শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বিষয়ে কোনো জ্ঞানই দিতে পারেননি ল্যাবে কম্পিউটার না থাকার কারণে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই জানালেন, তাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী কম্পিউটার সম্পর্কে কিছুই জানে না। দশম শ্রেনীর ছাত্রীদের হাতেগোনা দু-চারজন নিজঘরে কম্পিউটার শিখেছেন। স্কুলের আইটি থেকে তারা কিছুই শেখেনি।
এখানে স্কুল ভবনের দোতালায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব নামের একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সরকার এই ডিজিটাল ল্যাবের জন্য আঠারোটি ল্যাপটপ বরাদ্দ দেয়। ২০১৭ সালে সাতটি ল্যাপটপ চুরি হয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় জিডিও করা হয়েছে। সেই থেকে প্রধান শিক্ষক বাকি ল্যাপটপগুলো তার ঘরে নিয়ে রাখেন। করোনাকালীন সংকট কেটে গেলে পুনরায় শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবার পর শের ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতিতে আইটি শিক্ষাও চালুর উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। যে কারণে আইটি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল ল্যাবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা ছাড়াও প্রজেক্টর ও একসাথে ষোলজন শিক্ষার্থী বসার উপযোগী কম্পিউটার ডেস্ক রয়েছে এখানে। কিন্তু প্রতিটি ডেক্স শূন্য খা খা করছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা চাইলেও প্রধান শিক্ষক ল্যাপটপ দেন না বলে অভিযোগ সকলের। স্কুল কমিটির সভাপতি স্থানীয় কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব বলেন, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ সব ল্যাপটপ নিয়ে তার ঘরে আটকে রেখেছেন। আমি বহুবার বলার পরও আইটি রুমে কোনো ল্যাপটপ রাখেননি তিনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে গত সাত আট বছর ধরে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তাকে অপসারণের একাধিক অভিযোগ পেয়ে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। তাই তাকে অপসারণের আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি আমরা।
এতোটা বছরতো একসাথেই কাটালেন, তাহলে এখন কেন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, আরো আগে কেন নিলেন না? প্রশ্নের উত্তরে বিপ্লব কাউন্সিলর বললেন, আসলে এতোদিন আমি আমার নিজের ব্যবসা, রাজনীতি ও কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলাম। তাই এদিকটায় মনোযোগ দিতে পারিনি। তাছাড়া একজন শিক্ষক মানুষ। তারও একটা সম্মান আছে, এসব চিন্তা করে অনেক ছাড় দিয়েছি। এতে পরিস্থিতি আরো উল্টো হয়েছে। তার বিরূদ্ধে অভিযোগ ক্রমশ বেড়েই চলছে। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন স্কুল কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমান বিপ্লব। বিপ্লব আরো বলেন, আমরা তাকে এতোটাই বিশ্বাস করতাম যে, তার কথার উপর ভিত্তি করে আমরা তার মেয়েকেও এখানে চাকুরী দিয়েছি। সেই মেয়েও ঠিকমতো তার দায়িত্ব পালন করে না। আজও সে অনুপস্থিত রয়েছে।
ফোনে প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদকে না পেয়ে স্কুলের পিছনে তার ঘরের দরজায় দাঁড়ানো মাত্র পিছন থেকে মহিলা কণ্ঠ বললেন, বাবা ঘরে নেই, তিনি স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে তিনদিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছেন। আগামীকাল চলে আসবেন। ঘরে প্রবেশ করতে করতে মহিলা তার পরিচয় দিয়ে বললেন, আমার নাম সেতু। আমি হারুন অর রশিদ স্যারের ছোট মেয়ে। যার কথা সভাপতি সাহেব আপনাদেরকে একটু আগে বলেছেন যে, আমি দায়িত্ব পালন করিনা। অথচ আমি তখন উপস্থিত ছিলাম এবং আমাকে ওখানে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল।
মেয়ে সেতু ফোনে তার বাবাকে ধরিয়ে দিলে চুরি হওয়ার পর থেকে অবশিস্ট ল্যাপটপ নিজের ঘরে রাখার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, কিছু ঝামেলা থাকায় এখন চাইলেও ল্যাপটপগুলো দিচ্ছিনা, এটা সত্যি। কেন তা পরে আপনারা জানতে পারবেন। হঠাৎ করে আমার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ কি জন্যে বা কেন তাও আমি বুঝতে পারছিনা। গত বারো বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আমি একসাথে সবকিছু করেছি। আমি কখনোই তাকে না জানিয়ে বা তার পরামর্শ ছাড়া কিছুই করিনি। হঠাৎ গত জানুয়ারীর প্রথম থেকে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। আমাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আমি তার যথাযথ উত্তরও দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে নারী ঘটিত অভিযোগেরও উত্তর আমি দিয়েছি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমার মেয়েও চাকুরি করছে। এটা তাদের বোঝা উচিত।
তবে আশেপাশের দোকান ও প্রতিবেশী শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের অনেকেই প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করেন না বলে অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর তালুকদারও বললেন, তার পিছনে তার সম্পর্কে কিছু বলাটা গীবত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT