বাবুগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট ও স্ত্রী-সন্তানদের মারধরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন বাবুগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট ও স্ত্রী-সন্তানদের মারধরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন - ajkerparibartan.com
বাবুগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট ও স্ত্রী-সন্তানদের মারধরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন

4:02 pm , January 24, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশায় ফসলি জমিতে পানি সেচের জন্য নালার (ড্রেন) জমি উদ্ধার করতে গিয়ে সৃষ্ট ঘটনার একদিন পরে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট, স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান ইউপি সদস্য মোসলেম উদ্দিনের পক্ষে কাজ না করায় তিনি আমার ও আমার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোসলেম উদ্দিন, সাইফুল আকন, আব্দুর সত্তার, আমিনুল ইসলামসহ আরও বেশ কিছু লোক আমার বসতবাড়ি ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। তখন আমি বাধা প্রদান করলে চলে যায়।  পরে একটি মামলা দায়ের করলে সেই মামলা উঠিয়ে নেয়াসহ এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মোসলেম মেম্বার। অন্যথায় আমার বসতঘর ভাংচুর ও আমাকে খুন জখমের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারি মোসলেম উদ্দিন তার লোকজন নিয়ে আমার বসত বাড়ির উঠান, মুরগির ফার্ম ও বিভিন্ন গাছপালা উপরে ফেলাসহ ক্ষতিসাধন করে।  ওইসময় ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে কোনভাবে সম্পদ রক্ষা করি। পরবর্তীতে মোসলেম  মেম্বার আমার জমির ওপর দিয়ে নালা কেটে নেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি লিখিত আকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে জানালে মোসলেম মেম্বারসহ বিরোধীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়।  এরপর তারা যেকোন উপায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ফেললে কোন কাগজপত্র যাচাই না করেই মেম্বারের কথায় আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তিতে বেকু চালিয়ে নালা কাটার কাজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু করেন। এসময় তারা আমার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে থাকা আমার বসতবাড়ি ভাংচুরই নয়, মিথ্যে অভিযোগ এনে আমার ৩ ছেলেক আটক করে নিয়ে যায়। যারমধ্যে ২ ছেলেকে সাজা দিয়ে জেলেও পাঠায়।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের বিষয়টি আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে কাগজপত্র যাচাই করার কথা বলেছি।  কিন্তু তারা মেম্বারের কথার বাইরে শুরু থেকেই কাজ না করায় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাদের কাছে গিয়ে তাদের অবহিত করেছি।  জেলা প্রশাসক আগামী ২৬ জানুয়ারি বরিশালে এসে বিষয়টি দেখবেনও বলেছেন।  জেলা প্রশাসক বরিশালে না আসা পর্যন্ত উচ্ছেদ হবে না, তবুও ইউএনও কার প্ররোচনায় আমার বসতবাড়ি ভাংচুর করলো এ প্রশ্ন রাখছি।
উচ্ছেদের সময় কোন কথা বলতে গেলে ইউএনও কর্তৃক অশোভন আচরনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সমাজের কাছে আমাকে সন্ত্রাসী উপাধি দিতে বোমা হামলার কথা বলা হলেও ওখানে কোন বোমা ফোটেনি। বরং ইউএনওর উপস্থিতিতে মোসলেম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমার বাড়ির মধ্যে ঢুকে নারকীয় তান্ডব চালায়, পটকা ফাটায়। ইউএনওর অভিযানের সময় আমাদের একটি রুমে আটকে রেখে সবার মোবাইল নিয়ে যাওয়া হয় যা আমরা এখনও ফেরৎ পাইনি।  সেইসাথে আমার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, ৫ লাখ টাকাসহ অনেক মূল্যবান জিনিস খোয়া গেছে। আমার ছেলেদের ও স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে। ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশে স্বাধীনতা এনে কি পেলাম?
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, যখন উচ্ছেদ শুরু হয় তখন আমার ছেলেরা সেখানে গেলে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। ওইসময় মেম্বারের লোকজন তাদের মারধর করে এবং একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে।  ইউএনওর কাছে আমার স্বামী কথা বলতে গেলে তার সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং আমাকে পুলিশ যেখানে ছিলো সেখানে নিয়ে কয়েকটা থাপ্পরও দিছে ইউএনও সাহেব।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমা বলেন, এখানে জমির মালিকানা নয়, জনস্বার্থে কাটা নালা নিয়ে ঘটনা।  আর দীর্ঘদিন জনস্বার্থে ব্যবহৃত জমিতে ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকেনা।  উচ্ছেদের সময় সেখানে কি হয়েছে সে বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি দফতরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রতক্ষদর্শীরা ভালো জানেন। তারা যেসকল অভিযোগ তুলেছেন তা ভিত্তিহীন।  লুটপাটের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ আমাকে জানাতেন।
মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রীকে মারধরের বিষয়ে বলেন, ওনার সাথে আমার আলাদা কোন কথাই হয়নি, যা হয়েছে জনসম্মুখে। এ ঘটনা ওনাদের লোক ছাড়া বাহিরের আর কে দেখেছে। ওনার পরিবারের লোকজন ওনার পক্ষে কথা বলবে, আর আমার অফিসের লোকজনকেও বাদ দিলাম এর বাহিরে কে দেখেছে এমন ঘটনা। এ অভিযোগও সত্যি নয়।
এদিকে মেম্বারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তা তিনি রিসিভ করেননি। তবে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, যে সকল অভিযোগ তোলা হয়েছে এসব অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে আমি ছিলাম, আমাদের সাথে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডারসহ অনেক গণ্যমাণ্য ব্যক্তি ছিলেন। সেখানে কাউকে মারা হয়নি, লুটপাটও করা হয়নি। বরং আব্দুল হালিম ও তার পরিবার বাহিরের লোকজন নিয়ে এসে প্রশাসনের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে, ফলে আমাকেও দৌঁড়ে পালাতে হয়েছে। তারা ককটেল পর্যন্ত ফাটিয়েছে। স্থানীরাও ইট-পাটকেলের আঘাতের শিকার হয়েছে, পুলিশ না থাকলে আর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে যেতে পারতো। আর প্রশাসন তো জনস্বার্থে ব্যবহৃত নালাটি উদ্ধার করেছে। এই নালা বৃটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে যার কিছু অংশ আব্দুল হালিমই ভরাট করেছেন। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে উচ্ছেদের আগে নানাভাবে তাদের অনুরোধ করেছি কোন লাভ হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT