ভোলার চরাঞ্চলবাসী ৭ মাস ধরে আলোর মুখ দেখে না ভোলার চরাঞ্চলবাসী ৭ মাস ধরে আলোর মুখ দেখে না - ajkerparibartan.com
ভোলার চরাঞ্চলবাসী ৭ মাস ধরে আলোর মুখ দেখে না

3:55 pm , January 21, 2023

মো: আফজাল হোসেন, ভোলা ॥  মেঘনা মধ্যবর্তী ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ৭মাস বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে ওইসব গ্রামের মানুষরা। কবে নাগাদ পাবে তা নিয়ে রয়েছে শংকা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা আর বন্ধের উপক্রম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
দ্বীপ জেলা ভোলা। যার চারপাশটা মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী বেষ্টিত। মেঘনার সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী পাড়ি দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায় ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার মাঝের চর,মদনপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নে। সেই মদনপুর ইউনিয়নের ছোট্ট একটি ঘরে জরাজীর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন বিবি ছকিনা। স্বামীকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বসবাস করছেন ছোট্ট খড়ের ঘরটিতে। বসার জন্য একটি কাঠের চেয়ার না থাকলেও একটু শান্তির আশায় অন্যদের মত ফ্যান,লাইট ও ফ্রিজ ক্রয় করেছেন বিদ্যুৎ আসার আনন্দে। ৩মাস ভালোই চলছিলো সব। গত বছরের ২৬জুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এর ফলে আশার আলো নিবে যায় বিবি ছকিনার। সেই থেকে এখন পর্যন্ত অন্ধকারে আছেন ছকিনার মত হাজারো পরিবার। ছকিনার মতে আগেই ভালো ছিলাম। যেমন ভাবেই হোক সোলার কিংবা তেল দিয়ে কুপি জ্বালিয়ে চলছে জীবন। সবকিছুতে একটা ধারাবাহিকতা ছিলো। বিদ্যুৎ দিতে পারবে না, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকবে তাহলে দেয়ারই দরকার কি ছিলো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী মো: রুহুল আমিন। এলাকায় বিদ্যুৎ আসার খবরে আশায় বুক বেঁধেছিলেন নতুন করে বাঁচার। তা থমকে আছে গত ৭মাস ধরে। বিদ্যুতের সাথে সম্পর্কিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের পাটোয়ারী বাজারে। এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা দিলেও বিদ্যুত না থাকায় দোকান রয়েছে বন্ধ। একই অবস্থা ওই বাজারসহ আশপাশের অন্যসব বাজার ব্যবসায়ীদের। একই ধরনের ক্ষোভ রয়েছে অন্য গ্রাহকদের। গ্রামের পর গ্রাম বিদ্যুতের খুটি বসিয়ে লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে তড়িঘরি করে ২০২১ সালের ৫ডিসেম্বর সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় ৩টি ইউনিয়নে। সংযোগের ১২ দিন পরেই সাবমেরিন ক্যাবলে সমস্যা দেখা দেয়। ৩টি ক্যাবলের ১টি সমস্যা হয়। একে একে পুরোপুরি বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয় গেলো বছরের ২৬ জুন। শতভাগ বিদ্যুতায়ণ ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি যৌথ প্রকল্পের ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা ও পটুয়াখালি জেলার ১৯টি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলককে বিদ্যুতায়িত করা হয়।  পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে শুধু সদর ও দৌলতখান উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ৭মাস ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪৭২ কিলোমিটার এলাকার ৭৩টি গ্রামকে ২টি সাব স্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়। এজন্য ৮টি সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৪ হাজার ৪৫০গ্রাহক এই সুবিধার আওতায় এসেছে বলে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ভোলার জেনারেল ম্যানেজার মো: আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন। তিনি বলেন,বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ৩টি ইউনিয়নকে পুনরায় বিদ্যুতায়নের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এজন্য ২কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। তিনি বলেন, জাহাজ নোঙ্গর করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  এজন্য ওই এলাকাকে ডেঞ্জারজোন ঘোষণা করে ক্যাবল পুনরায় স্থাপন অথবা নতুন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে। এজন্য কাজ চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT