আতংকিত আইএইচটির ২ শতাধিক ছাত্রী! আতংকিত আইএইচটির ২ শতাধিক ছাত্রী! - ajkerparibartan.com
আতংকিত আইএইচটির ২ শতাধিক ছাত্রী!

3:49 pm , January 21, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মানসিকভাবে অসুস্থ নিরাপত্তা প্রহরীর কারনে আতংকে বরিশাল ইনষ্টিটিউট অব হেলথ এন্ড টেকনোলজির (আইএইচটি) আবাসিক ছাত্রীরা। শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে হোষ্টেলের নিরাপত্তা কর্মী হাজেরা খাতুন গভীর রাতে বটি নিয়ে ছাত্রীদের ধাওয়া করায় সকলের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর মানসিক সমস্যা শুক্রবার রাত থেকে ধরা পড়েছে। শনিবার বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আজ এ বিষয়টি নিয়ে জরুরী সভা ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মানষ কুমার কুন্ডু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আবাসিক ছাত্রী বলেন, বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডে আইএইচটির ক্যাম্পাস। ওই ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রীরা থাকছেন।  ছাত্রী নিবাসে দুই জন নারী নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে একজন হলেন হাজেরা খাতুন।
ওই ছাত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই নিরাপত্তা কর্মীর অস্বাভাবিক আচরন শুরু হয়। গভীর রাতে হাড় কাপানো শীতের মধ্যে গোসল, নামে-বেনামে গালি দিতে শুনতে পাওয়া যায়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাকে আবারো গোসল করতে দেখা যায়। শুক্রবার গভীর রাতে হোষ্টেলের এক ছাত্রী তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে রওনা হয়। এ সময় তাকে দেখতে পেয়ে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে ছাত্রীদের ধাওয়া করে। সে চিৎকার করে দৌঁড়ে কক্ষের মধ্যে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে অন্যান্য ছাত্রীরা বের হলে তাদেরও ধাওয়া করে হাজের খাতুন। তখন ছাত্রীরা যে যার কক্ষে গিয়ে সমস্বরে চিৎকার শুরু করে। তখন পাশের ছাত্র হোষ্টেলের ছাত্ররা এলে হাজেরা খাতুন শান্ত হয়। ওই ছাত্রী বলেন, হোষ্টেলে প্রায় ২ শতাধিক ছাত্রী থাকে। কিন্তু হোষ্টেলের কোন সুপার সেখানে থাকে না। তাই কোন সমস্যা হলে, সমাধানে কেউ আসে না। হোষ্টেলের প্রবেশ কক্ষে তালাবদ্ধ থাকায় কেউ এগিয়ে আসতে পারবে না। ওই ছাত্রী বলেন, সুবোধ রঞ্জন নামে এক শিক্ষক হোষ্টেল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। গত তিনদিন ধরে তার ফোন বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত হোষ্টেল সুপারের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ মানষ কুমার কুন্ডুকে জানানো হয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারনে তিনিও ক্যাম্পাসে আসেননি।
এক ছাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে ছাত্রীদের ডাক চিৎকার শুনে ছুটে গিয়েছি। কিন্তু মূল গেট বন্ধ থাকায় বাহির থেকে নিরাপত্তা কর্মী ও ছাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি।
শাম্মী আকতার নামে এক ছাত্রী জানান, স্যাররা বলেছে একটু সহ্য করো। আমরা দেখতেছি। কারো তো ক্ষতি করে না।
তিনি আরো বলেন, হাজেরা বেগমের একমাত্র মেয়ের বয়স যখন দুই মাস তখন তার স্বামী মারা যায়। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে তার চাকুরি ছিলো। সেই চাকুরি চলে গেছে। খুব অসহায় অবস্থার মধ্যে ছিলো। খুব কষ্ট করে কন্যাকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। পারিবারিক কারনে ওই নারী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এই জন্য চিৎকার চেচামেচি করেন। নতুন শিক্ষার্থীরা একটু ভয় পেয়েছিলো। তার কন্যাকে খবর দেয়া হয়েছে। শাম্মীর দাবি তিনি গিয়ে শান্ত করেছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মানষ কুন্ডু বলেন, শনিবার সকালে বিষয়টি ছাত্রদের মাধ্যমে শুনেছি। যতদূর জানি ওই নিরাপত্তা প্রহরীর মানসিক সমস্যা শুরু হয়েছে। যা বিগত দিনে ছিলো না। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার কারনে শনিবার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সাথে বসা সম্ভব হয়নি। রোববার বিষয়টি নিয়ে জরুরী সভা ডাকা হয়েছে।
স্থায়ীভাবে হোষ্টেল সুপার না থাকার কারন হলো সেখানে আবাসিক সুবিধা নেই। তাই তিনি দিনে দায়িত্ব পালন করেন, সন্ধ্যার পর বাসায় চলে যায়। ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কি কি ব্যবস্থা নেয়া যায় জরুরী সভায় সিদ্বান্ত নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT