অভাব অনটন ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় সূরা ইউসুফ পথপ্রদর্শক অভাব অনটন ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় সূরা ইউসুফ পথপ্রদর্শক - ajkerparibartan.com
অভাব অনটন ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় সূরা ইউসুফ পথপ্রদর্শক

4:04 pm , January 20, 2023

=জুম্মাবার=
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দুর্ভিক্ষ, অভাব অনটন থেকে মুক্তির পথপ্রদর্শক পবিত্র কোরআন। আজ পবিত্র কোরআন থেকে এমন একটি সূরা নিয়ে আলোচনা হবে যা সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে শুধুই গল্প। অতীতের গল্প পবিত্র কোরআন কেন বলছে? বিশ্ব-ইতিহাস এবং অতীত অভিজ্ঞতার মধ্যে মানুষের ভবিষ্যত জীবনের জন্যে বিরাট শিক্ষা নিহিত থাকে। সূরা ইউসুফ তেমনি একটি সূরা। পবিত্র কোরআনের ১২তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ১১১ এবং এর রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১২। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে স্টিমারঘাট জামে মসজিদের প্রবীণ খতিব মাওলানা শরফুদ্দীন বেগ সূরা ইউসুফ এর ঘটনা বর্ণনা করেন। তারাদের সেজদা করার স্বপ্ন, তাকে কুয়ায় ফেলে দেয়া, মিশরের কর্মকর্তার তাকে ক্রয় করা, ইউসুফ জুলেখা চরিত্রটি ব্যাখ্যা সহ এই সূরার প্রতিটি বাক্য আল্লাহর কুদরতের নমুনা ও শিক্ষা লুকিয়ে আছে।
স্টিমারঘাট জামে মসজিদের ঈমাম শিহাবউদ্দিন বেগের পিতা এই শরফুদ্দিন বেগ বয়সের ভারে নুয়ে পরলেও পবিত্র কোরআন থেকে এখনো স্পষ্ট তেলওয়াত ও ব্যাখ্যা করতে পারেন দৃঢ়তার সাথেই। তিনি সূরা ইউসুফ এর ঘটনা বর্ণনা করেন ও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ মুহূর্তে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় হজরত ইউসুফ (আ.)-এর পলিসি হতে পারে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় সফল উপায়। তখনকার মিসরের বাদশাহ একটি স্বপ্ন দেখে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যান। জ্ঞানীদের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তারা ‘অলীক স্বপ্ন’ বলে এড়িয়ে যায়। বাদশাহর একজন সেবক হজরত ইউসুফ (আ.)-এর কথা বলেন। পবিত্র কোরআনে স্বপ্নের ব্যাখ্যাসহ মিসরের দুর্ভিক্ষ এবং তা মোকাবেলায় হজরত ইউসুফ (আ.)-এর নেয়া পদক্ষেপগুলো বড় সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কোরআনের ভাষায়, ‘বাদশাহ বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি সাতটি মোটা গাভীকে সাতটি জীর্ণ-শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলেছে এবং দেখেছি সাতটি শীষ সবুজ সাতটি শীষ শুকনো। ওহে সভাসদবৃন্দ! তোমরা যদি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানো তাহলে আমাকে বল। তারা বলল, এটি একটি অর্থহীন স্বপ্ন, আমরা এমন স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানি না। তারপর দু’জন কারাবন্দির মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল দীর্ঘ সময় পর তার ইউসুফ (আ.)-এর কথা মনে পড়ল। সে বলল, আমি আপনাদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দেব। আমাকে কারাগারে যাওয়ার সুযোগ দিন। কারাগারে এসে সে বলল, হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটা গাভীকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী খেয়ে ফেলেছে এবং দেখেছি সাতটি শীষ সবুজ সাতটি শীষ শুকনো। আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দাও যাতে করে আমি মানুষকে জানাতে পারি। ইউসুফ (আ.) বললেন, তোমরা সাত বছর লাগাতার চাষাবাদ করবে, তারপর তোমরা যে শষ্য সংগ্রহ করবে তার মধ্য থেকে যা তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শষ্য তোমরা শীষসহ সংগ্রহ করবে। তারপর আসবে সাতটি কঠিন দুর্ভিক্ষের বছর। এই সাত বছরে লোকেরা যা সঞ্চয় করে রেখেছে কেবল তাই খাবে। এ ছাড়া আর কোনো ফসল উৎপন্ন হবে না।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে বাদশাহ বলল, ইউসুফকে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর হিসেবে নিয়োগ করব। ইউসুফকে দেখে বাদশাহ বলল, আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাসভাজন মানুষে পরিণত হয়েছ। ইউসুফ বললেন, আমাকে দেশের ধন-সম্পদের দায়িত্ব দিন, আমি বিশ্বস্ত ও সুবিজ্ঞ হয়ে দায়িত্ব পালন করব। এভাবেই ইউসুফকে আমি সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম। আমি যাকে ইচ্ছা তার প্রতি দয়া করি, আমি সৎ মানুষের শ্রম নষ্ট করি না। দুর্ভিক্ষের সময় ইউসুফের ভাইয়েরা খাদ্য নিতে এলো। ইউসুফ তাদের চিনতে পারলেন। কিন্তু ভাইয়েরা তাকে চিনতে পারল না। যখন ইউসুফ তাদেরকে খাদ্য বণ্টন করে দিলেন তখন সে বলল, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না- আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিই। অর্থাৎ আমার মাঝে স্বজনপ্রীতি কিংবা চুরির দোষ নেই (সূরা ইউসুফ)।
হজরত ইউসুফ (আ.)-এর এ ঘটনার মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় যে জরুরি বিষয়গুলো আল্লাহতায়ালা মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন তা একজন আলেম এভাবে বর্ণনা করেছেন। সেটা হল- ১. কৃষি ও খাদ্য বিভাগের দায়িত্বশীলকে অবশ্যই খাদ্য ও ফসল উৎপাদন বিদ্যায় পারদর্শী এবং সুষম বণ্টনে অভিজ্ঞ হতে হবে। ২. তাকে অবশ্যই শতভাগ আমানতদার হতে হবে। ৩. খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকা চাই। ৪. জনগণের বাস্তব অবস্থার সঠিক তথ্য এবং পরিসংখ্যান জানতে হবে। ৫. প্রয়োজনমতো খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৬. স্বজনপ্রীতি ও প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে থেকে সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। ৭. জনগণের সামর্থ্যানুযায়ী বিনিময় মূল্য গ্রহণ করে এবং সামর্থ্যহীনদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ৮. দুর্ভিক্ষকবলিত জনগণের প্রতি অনুগ্রহ নয় বরং অধিকার হিসেবে আপদকালে তাদের খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ৯. ব্যবস্থা এমন হতে হবে যেন মানুষ সরকারি ত্রাণ সম্মানের সঙ্গে নিতে পারে। ১০. এ বিভাগের কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় ভাতা ও সুরক্ষার নিশ্চিত করতে হবে। ১১. সব কাজ তাকওয়ার ভিত্তিতে এবং সততার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে ১২. সবসময় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT