দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

3:55 pm , January 17, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলে বছর জুড়ে ডায়রিয়া দাপিয়ে বেড়াবার মধ্যেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত এক বছরে এ অঞ্চলের ৬ জেলার ৪২ উপজেলার সরকারী হাসপতালগুলোতেই প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে এখনো বিভিন্ন চিকৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাসায় এবং প্রাইভেট ক্লিনিকসমূহে অধিকাংশ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করছেন বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট মহল। সে হিসেবে গত এক বছরে দক্ষিণাঞ্চলে ন্যূনতম দুই লাখ মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের প্রথম ১৫ দিনে শুধু সরকারী হাসপাতাল গুলোতে প্রায় আড়াই হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসার জন্য এসছেন বলে জানা গেছে। এখনো গড়ে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ডায়রিয়া রোগী সরকারী হাসপাতালে আসছে। ২০২১-এর মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিনাঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া আক্রান্তের  চিকিৎসা হয়েছে।
এরসাথে সাম্প্রতিককালের হাঁড় কাঁপানো শীত আর উত্তর-পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি বিগত বছরগুলোর তুলনায় আশংকাজনক হারে বাড়ছে। চলতি মৌসুমে  বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ইতোমধ্যে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমেছে। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরাই এসব রোগে বেশী মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে। বরিশাল শের ই বাংলা  মেডিকেল কলেজ হসপাতালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি সরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানেই নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগির ভীড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বেশীরভাগ সরকারী হাসপাতালের মেঝেতেও ঠাঁই নেই। সাথে হিমেল হাওয়া শীতের অনুভূতিকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রতিটি ওয়ার্ডেই ৩ থেকে চারগুনের বেশি রোগী সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যাবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে এ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে অন্তত ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্য জেলাগুলোতেও আরো বেশ কয়েকজন শিশু মারা গেছে।  দুই বছর পর বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এবার ডেঙ্গু আবার প্রভাব বিস্তার করে। সদ্য বিদায়ী বছরের শেষভাগে সরকারী হিসেবেই দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো সাড়ে ৩ হাজার। পিরোজপুর ও বরগুনাতেই আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। মৃত ১২ জনের সবাই বরিশাল শের ই বাংলা মডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেছেন। তবে ডিসেম্বরের শুরু থেকে দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। অপরদিকে সদ্য বিদায়ী বছরের শেষভাগে দক্ষিণাঞ্চল থেকে করোনা মহামারী অনেকটা দূরে সরে থাকলেও এখনো ৮০ ভাগের বেশি মানুষকে কোভিড-১৯ প্রতিষেধকের প্রথম ডোজেরই আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। আর দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬৮%। বুষ্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩৫ ভাগেরও কম মানুষ। বিদায়ী বছরের শেষ মাসের মধ্যভাগ থেকে করোনা প্রতিষেধকের ৪র্থ ডোজ শুরু হলেও দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার ৪২ উপজেলায় মাত্র ৬ হাজারের মত মানুষ এ টিকা গ্রহণ করেছেন। মূলত করোনার প্রকোপ হ্রাসের সাথে উদাসীনতা আর জনসচেতনতা এবং প্রচারনার অভাবেই দক্ষিণাঞ্চলে ভ্যাকসিন প্রয়োগের গতি ঝিমিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মহল।কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এখনো ডায়রিয়ার চোখ রাঙানি বন্ধ হচ্ছেনা। বিদায়ী বছরের শেষ মাসেও দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৫ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসার  জন্য আসে বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে জানা গেছে। কত মানুষ এখনো করোনা ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে রয়েছেন, তা বলতে না পারলেও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার অন্তত ২০ ভাগ এখনো করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT