ফুডপান্ডার ভয়ঙ্কর প্রতারণা, দেড়গুণ বেশি খরচেও নি¤œমানের খাবার  ফুডপান্ডার ভয়ঙ্কর প্রতারণা, দেড়গুণ বেশি খরচেও নি¤œমানের খাবার  - ajkerparibartan.com
ফুডপান্ডার ভয়ঙ্কর প্রতারণা, দেড়গুণ বেশি খরচেও নি¤œমানের খাবার 

3:51 pm , January 17, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ডিসকাউন্টের নামে ডিজিটাল পন্থায় ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে ফুডপান্ডা। দোকানে যে খাবার ১০০ টাকা ফুডপান্ডায় তা দেড়গুনেরও বেশি। এর উপর নি¤œমানের খাবার দিচ্ছে বলে অভিযোগ বেশিরভাগ ক্রেতাদের।
জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় ফুড কিং রেস্টুরেন্টে গিয়ে একটি থাই স্যুপ পার্সেল নেয় এক ক্রেতা। সিঙ্গেল ওই সুপটি রেস্তোরা থেকে দাম রাখা হয় ১০০ টাকা। এর পরের দিনই ফুডপান্ডা এ্যাপে গিয়ে ওই একই রেস্টুরেন্টে একই স্যুপ অর্ডার দিতে গিয়ে দেখেন স্যুপের দাম ১৪০ টাকা। যা ফুডপান্ডার সার্ভিস চার্জসহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৫০ টাকায়। কিন্তু ব্যস্ততা থাকায় ওই ক্রেতা দেড়গুন বেশি দামে ফুডপান্ডা থেকে স্যুপ কিনে পুনরায় বোকা বনে যান। অর্ডারের ৪০ মিনিট পর কাগজের ঠোঙায় ঢুকানো অবস্থায় ঠান্ডা স্যুপটি পান।
১২ জানুয়ারী সকালে নতুন বাজার ঘরোয়া রেস্তোরা থেকে নাস্তা অর্ডার করেন নগরীর এক চাকুরীজীবী। সেখানে তার প্রতি পিস পরাটার দাম পড়েছে ১৩ টাকা করে এবং পায়ার দাম পড়েছে ৬২ টাকা। যা দোকানে বিক্রি করা হয় ৫০ টাকায়। শুধু ফুড কিং রেস্টুরেন্ট কিংবা ঘরোয়া  নয় বরিশালের এক তৃতীয়াংশ রেস্টুরেন্টের চেহারা এটি। দোকানে যে জিনিসের দাম ৮০ টাকা ফুডপান্ডা এ্যাপে সেটা ১২০ টাকা। একই সাথে খাবারের কোয়ালিটি খুবই খারাপ।  ফুডপান্ডার আউটলেটভুক্ত আরও প্রায় ৩/৪ টি রেস্তোরায় অনুসন্ধান চালানো হলে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কফি সপের ম্যানেজার জানান, দোকানে যে দাম তার চেয়ে ফুডপান্ডায় কিছুটা বাড়িয়েই প্রাইজলিষ্ট দেয়া হয়। কারণ দাম যদি না বাড়ানো হয় তাহলে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে লস গুনতে হবে। কেননা প্রতি বিক্রিতে ফুড পান্ডা লাভ বাবদ২০-২৮% পযর্ন্ত টাকা কেটে নেয়।তাই বাধ্য হয়েই এমন পন্থা। কিন্তু এতে যে ভোক্তাদের অধিকার লঙ্ঘন হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ সকল দোকানীরা বলেন, এটা ফুডপান্ডা অফিস থেকে নির্ধারণ করে দিয়ে যায়। এছাড়া ফুডপান্ডার লেনদেনও খুব খারাপ বলে অভিযোগ তাদের। তারা পুরো সপ্তাহে আমাদের কাছ থেকে ব্যবসা করে কিন্তু আমাদের টাকা দিতে দেরি করে। পুরো এক সপ্তাহে ফুডপান্ডায় পাওয়া অর্ডার তাদেরকে ইনভেস্ট করে চলতে হয়। এজন্য তাদেরকে ফুডপান্ডায় ব্যবসা করতে হলে এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানান তারা।
২০২০ সালের শুরুর দিকে বরিশালে কার্যক্রম শুরু করে ফুডপান্ডা। প্রথমদিকে সুনামের সাথে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক।
এ বিষয়ে বরিশাল ফুডপান্ডা অফিস ম্যানেজার মোঃ আসিফ  বলেন, না না আমাদের এখানে কোন দাম বৃদ্ধি করা হয় না।
কিন্তু তাকে প্রমাণস্বরুপ কিছু নথি দেখানো হলে তিনি বলেন, এমন হবার কথা নয়। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিষয়টি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তবে  প্রতিনিয়ত ফুডপান্ডা এ্যাপস ব্যবহার করা বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্রথমদিকে ফুডপান্ডা খুব জমজমাট ছিলো। কোন টাকা কাটতো না আবার ডিসকাউন্ট পাওয়া যেত। পাশাপাশি ভালো রেস্তোরাগুলো এদের সাথে যুক্ত ছিলো। কিন্তু এখন আর সেগুলো নেই। খাবারের মান খুবই খারাপের সাথে সাথে রয়েছে চড়া মূল্য।
এছাড়া ফুডপান্ডায় বর্তমানে যে সকল রাইডার আছে তারা বিভিন্ন সময়ে খাবার দিতে এতো দেরি করে যে খাবার ঠান্ডা হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, ফুট পান্ডায় ক্রেতারা দাম দেখে খাবার অর্ডার করছে। সে ক্ষেএে এদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হবে। নি¤œমানের খাবার দিলে তার প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT