আগৈলঝাড়ায় ২৪৩ বছরের মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় ২৪৩ বছরের মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত - ajkerparibartan.com
আগৈলঝাড়ায় ২৪৩ বছরের মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত

3:22 pm , January 15, 2023

আগৈলঝাড়া প্রতিবেদক ॥ আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ২৪৩ বছরের প্রাচীণ মারবেল মেলা রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় শুধু আগৈলঝাড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া, উজিরপুর, ডাসার, মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বয়সের হাজার-হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। মেলা কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ হালদার জানান, রামানন্দের আঁক গ্রামে ২শত ৪৩ বছর পূর্বে মা সোনাই চাঁদ আউলিয়ার ৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়। ৭ বছর বয়সে স্বামী মারা গেলে নি:সন্তান অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে একটি নিমগাছের গোড়ায় শিবের আরাধনা ও পূজা-অর্চনা শুরু করে। ক্রমশ: তাঁর অলৌকিত্ব ছড়িয়ে পড়লে ওই স্থানে বাৎসরিক পূজার আয়োজন করা হয়। মা সোনাই চাঁদ আউলিয়ার জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৭৮০ ইং সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে সাংস্কৃত গান, বৈষ্ণব সেবা, নিরামিশ খাবার, নবান্ন উৎসব, মারবেল মেলা ও মারবেল খেলার মাধ্যমে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাঁর মৃত্যুর পরে ওই বাড়িটি মা সোনাই চাদঁ আউলিয়ার বাড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর এই দিনটি উপলক্ষে বৈষ্ণব সেবা, নাম সংকীর্ত্তন, কবিগান শেষে সোয়ামণ (৫০ কেজি) চালের গুড়ার সাথে সোয়ামণ আঁখের গুড়, ৫০ জোড়া নারকেল ও প্রয়োজনীয় কলাসহ অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে নবান্ন তৈরী করে মেলায় আগত দর্শণার্থীদের প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম আকষর্ন পৌষ সংক্রান্তিতে বাস্তুপূজা উপলক্ষে ২৪৩ বছর ধরে এ গ্রামে মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মারবেল মেলা উপলক্ষে ওই বাড়ির মেয়ে ঢাকা থেকে শিখা বিশ্বাস পরিবার সহ এসেছেন। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা থেকে মারবেল খেলার জন্য এসেছেন সৈকত বিশ্বাস, বাগধা গ্রাম থেকে নমিতা মন্ডল পরিবারের সকলকে নিয়ে মারবেল মেলায় এসেছে। তিনি জানান মেলা এসে মারবেল খেলতে পেরে ভাল লাগছে। মারবেল খেলার মূল রহস্য সম্পর্কে স্থানীয় চিত্র রঞ্জন বিশ্বাস (৮০) জানান, আমাদের পূর্বপুরুষরা এ খেলার মাধ্যমে মেলার প্রচলন করেছিল। যা আজও অব্যাহত আছে। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমরা সেই প্রাচীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এদিনটিকে ঘিরে রামানন্দের আঁক গ্রামে মহোৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের এ মার্বেল মেলায় আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারবেল খেলা চলছে। রাস্তার ওপর, বাড়ির আঙিনা, অনাবাদী জমি, বাগানসহ সর্বত্রই মারবেল খেলার আসর বসেছে। রামানন্দের আকঁ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বসেছে বাঁশ-বেত শিল্প সামগ্রী, মনিহারী, খেলনা, মিষ্টি, ফলসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান। কোটালীপাড়া উপজেলা থেকে মেলায় আগত প্রভাষক তরুন চন্দ্র নাথ (৪০) জানান, এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী মারবেল খেলার কথা শুনে মেলায় এসেছি। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। কোদালধোয়া  গ্রামের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র নয়ন হালদার ও ১০ম শ্রেনীর উত্তম রায় জানায়, সারা বছর টাকা জমিয়েছি মারবেল খেলার জন্য। শিশু থেকে শুরু করে কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতীরা মেলার প্রধান আকর্ষণ মারবেল খেলায় অংশগ্রহণ করেন। এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই মারবেল মেলায় আগত সারধারন লোকজন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা এসেছি। মেলা পরিচালনার জন্য ৪০ সদস্য একটি মেলা উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়। মেলায় মারবেল খেলার জন্য অনেকে দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন তাদের জন্য পূর্ব থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মারবেল মেলাকে জনপ্রিয় করার জন্য মেলাস্থলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিসহ মাঠ সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের দৃষ্টি কামণা করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT