থামছেনা কীর্তনখোলার ভাঙ্গন রসুলপুরে চর কাটার দাবী জনতার থামছেনা কীর্তনখোলার ভাঙ্গন রসুলপুরে চর কাটার দাবী জনতার - ajkerparibartan.com
থামছেনা কীর্তনখোলার ভাঙ্গন রসুলপুরে চর কাটার দাবী জনতার

3:24 pm , January 14, 2023

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥  কিছুতেই থামছেনা কীর্তনখোলা নদীর চরকাউয়া অংশের ভাঙন। শক্তিশালী বাঁধ দিয়ে চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ, বাসস্ট্যান্ড ও মসজিদ মাদ্রাসা রক্ষার চেষ্টা করা হলেও সেই বাঁধও এখন হুমকির মুখে। নতুন করে ভাঙনের শিকার আরো প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতে ওপারে জেগে ওঠা চর গভীর ভাবে কেটে দিয়ে জলযান চলাচল ওই পথে সরিয়ে নিলে রক্ষা পাবে চরকাউয়া ইউনিয়ন। অন্যথায় চরকাউয়া অংশ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাসস্ট্যান্ড ও মাদ্রাসা তৈরি করে দেয়ার  দাবি তাদের। সরেজমিনে ১৪ জানুয়ারী শনিবার সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধ, সাতআনি ও নয়আনি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চরকাউয়া ঘাট এলাকায় বাঁধ রক্ষা করতে পুনরায় ব্লক ফেলে চাপা দেয়া হয়েছে। প্রচন্ড ভাঙনের শিকার হয়ে সাতআনির এখন কয়েকঘর অবশিষ্ট আছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে নয়আনি এলাকায়।
এখানে নয়আনির বাসিন্দা মোঃ মোজাম্মেল হাওলাদার জানান, চরকাউয়া সাতআনি এলাকায় তার বাড়ি ছিল। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে  এখন নয়আনি ১ নং ওয়ার্ডে বসবাস তার। কিন্তু এখানেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরপর কোথায় যাবেন জানেন না তিনি।
সাতকানির শাহিন হাওলাদারের ঘর অনেক আগেই খেয়েছে নদী। এখন তিনি পরিবার নিয়ে দিনারের পুলে থাকেন। শাহিন বলেন, ওপারে রসুলপুর  অংশের লোকেরা একটু চর দেখলে বা ভাটার সময়ে বালুর বস্তা ফেলে নদীর গতি আটকে দিচ্ছে। যে কারণে নদী এই অংশে বেশি ভাঙছে। নয়আনি ও সাতআনি মাঝখানে নদীর ভাঙন খুবই তীব্র।   ক্রমশ ভিতরে ঢুকছে।
চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, চরকাউয়া ঘাট এলাকায় বাঁধের কারণে ভাঙন কিছুটা কমেছে। তবে সাতআনি ও নয়আনি এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। আগামী বর্যা আসার আগেই যদি এটার কিছু করা না হয় তাহলে বিলুপ্ত হবে ওই এলাকা। মনিরুল ইসলাম ছবি আরো বলেন, একেতো এই অংশে নদী গভীর, তার উপর সব লঞ্চ, স্টিমার ও জাহাজ এ পথেই চলছে। অন্যদিকে রসুলপুরের শেষপ্রান্তে চরের কারণে  পানির স্রোত সরাসরি চরকাউয়ার নয়আনি ও সাতআনি অংশে আঘাত করছে। এসময় স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও বাসিন্দারা বলেন, ওই যে রসুলপুর এলাকায় আবারও চর দেখা যাচ্ছে। ওই চর যদি গভীরভাবে কেটে দেয়া যায় তাহলে কীর্তনখোলার স্রোত বিভক্ত হয়ে দুর্বল হয়ে যাবে। এতে করে ওই অংশেও নৌযান চলাচল করলে চরকাউয়ার ভাঙন রোধ করা সম্ভব।
সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে এই গ্রামবাসীর বক্তব্যের সাথেই সহমত পোষন করলেন বরিশালের নদী গবেষক রফিকুল আলম। তিনি বলেন, সামাদ নামের একটি লঞ্চ রসুলপুরের ওই অংশে কাত হয়ে ডুবে গিয়েছিলো। সেই থেকে ওখানে চর পরা শুরু হয়। আর চর জাগা মাত্রই তা দখলের প্রতিযোগিতা চলে। চর গভীরভাবে কেটে দিয়ে নদীর গতিপথ ঠিক রাখার চেষ্টা আমাদের নেই।
রফিকুল আলম আরো বলেন, নদীর গতিপথে হাইড্রোলিক ফোর্স পয়েন্ট থাকে। এই ফোর্স এই মুহুর্তে চরকাউয়া অংশে আঘাত করছে। এটা ঠেকাতে হলে রসুলপুর এলাকায় নতুন করে জেগে ওঠা চর গভীরভাবে কেটে দিয়ে জলযান চলাচল উপযোগী করতে হবে। অন্যথায় এ অংশে টাকার অপচয় হবে শুধু।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর আসনের এমপি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, চরকাউয়া ইউনিয়নের ঘাট এলাকা থেকে উভয়পাশে তিন কিলোমিটার করে ছয় কিলোমিটার এলাকা শক্তিশালী বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ওই এলাকার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভাঙন কবলিত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চরকাউয়া এলাকার সাতআনি ও নয়আনিতেও টেকসই বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  আর রসুলপুর অংশের চর কাটা বিষয়টি নিয়ে নদী সংশ্লিষ্ট গবেষকদের সাথে আলোচনা করতে হবে। সম্ভব হলে চর কেটে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT