বিলুপ্ত প্রায় গৈলার গোলার দীঘি খাল ভরাট করে উঠছে স্থাপনা  বিলুপ্ত প্রায় গৈলার গোলার দীঘি খাল ভরাট করে উঠছে স্থাপনা  - ajkerparibartan.com
বিলুপ্ত প্রায় গৈলার গোলার দীঘি খাল ভরাট করে উঠছে স্থাপনা 

3:02 pm , January 12, 2023

আরিফ আহমেদ ॥ দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যেন একটি মাঠ। কাছে এসে বোঝা গেলো এটি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ মৃতপ্রায় একটি বিশাল দীঘি। অনেকটাই বরিশালের চাঁদপুরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গজনীর দীঘির মতো এটিও গৈলার ঐতিহ্যের স্মারক। প্রায় হাজার বছর আগে সুলতানী আমলে খনন করা এই গৈলা দিঘি মনসামঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের স্মরণ বহন করছে। এই দীঘিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে গৈলা বাজার। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে বেশকিছু গোলাঘর তৈরি হয়। ফলে দীঘির নামকরণ হয় গোলার দীঘি। এখনো এখানে রয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন ভবনের ধ্বংসাবশেষ। দীঘির চারপাশে এখনো পড়ে আছে পুরানো দিনের ভাঙ্গাচুরা মন্দির, দালানকোঠা। আরো আছে ঐতিহ্যের চিহ্ন হিসেবে তিনটি খালের অস্তিত্ব। যার একটি গৈলা খান, মনসার খাল ও দাসের খাল নামে পরিচিত। খালগুলোর আঁকাবাকা পথে বাধা তৈরি করে ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে এখন। ফলে খালগুলোর আকার আকৃতি থাকলেও অস্তিত্ব হারিয়েছে। এ অঞ্চলের সড়কগুলো বেশিরভাগ ভাঙ্গাচোরা। চার বছরে সড়কের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। খাল আর সড়কের মতই অযতেœ অবহেলায় গৈলা দীঘিটিও আজ বিলীন হওয়ার পথে। তবে চোখ জুড়িয়ে যায় বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দিরের পাশের দীঘিটি দেখে। এটি অবশ্য ব্যবসায়িক কারণে সযতেœ লালিত হচ্ছে। ষোল, গজালসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছের চাষ হচ্ছে সেখানে। মনসা মন্দির ও বিজয় গুপ্তের স্মৃতি স্থানটি দর্শনীয় করার চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে সড়ক ও পর্যটন উপযোগীতার অভাবে। কেননা এখানে কবি বিজয় গুপ্ত স্মৃতি পাঠাগারের পিছনের অংশ ও আশেপাশের সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাব স্পষ্ট। পাশাপাশি গোলার দীঘি ও পুরাতন পুরাকীর্তিগুলোকে সংরক্ষন করা গেলে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর আয়তনের গৈলা ইউনিয়ন বা গ্রামটি হয়ে উঠতে পারে পর্যটন স্পট। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চরম অবহেলার শিকার এই বৃহৎ গোলার দীঘি ও আশেপাশের এলাকা। ইতিহাস বলে, সুলতানি শাসন আমলে হোসেন শাহ এই দীঘি খনন করেন। তখন কবি বিজয় গুপ্ত এ অঞ্চলের জমিদারি দেখতেন। তাকে সাহায্য করতেন স্থানীয় বৈদ্য বা বনৌষধি চিকিৎসক সম্প্রদায়। সংস্কৃতি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিলো এই গৈলা। যে কারণে দূরদূরান্ত থেকে সংস্কৃতির পাঠ নিতে আসতেন উচ্চবর্ণের হিন্দু, মুসলিম ও ব্রাহ্মণ শিক্ষার্থীরাও। সে সময় হাতেগোনা কয়েকটি বাড়িঘর ছিলো। নৌকা নির্ভর ছিলো যাতায়াত ব্যবস্থা। দাসের হাট ছিলো প্রথম গড়ে ওঠা বাজার। ওখানেই এই গৈলার প্রথম পাঠশালা তৈরি হয়েছিলো বলে জানান এখানের দাসবাড়ির সন্তান বরিশালের শিক্ষক নেতা আশিষ দাস গুপ্ত। তিনি বলেন, আমাদের এই দাস বাড়িটি মূলত কবি কুসুমকুমারী দাসের বাড়ি। ইতিহাস ঘাটলে অনেক কিছু জানতে পারবেন। এই গৈলা বৈদ্যিক চিকিৎসার তীর্থ ভূমি ছিলো। আমার পর দাদাদের একজন এ অঞ্চলে তালুকদার হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি সুলতানী আমলে বনৌষধি চিকিৎসক হিসেবে এই তালুকদারি প্রাপ্ত হন। বংশানুক্রমে আমার দাদা ভগবতী চরণ দাস গুপ্ত এবং বাবা সত্যরঞ্জন দাস গুপ্তও বৈদ্য বা বনৌষধি চিকিৎসক। তিনি খুব শিক্ষানুরাগী ছিলেন। আমাদের তিনভাই ও পাঁচ বোনকে তিনি সুশিক্ষিত করার চেষ্টা করছেন বলেই আজ আমরা কেউ শিক্ষকতায়, কেউ সাংবাদিকতায় সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই গৈলা গ্রামের উন্নয়ন। এটিকে পর্যটন নগরী হিসাবে ঘোষণা দেয়ার দাবী আমাদের সকলের।
এ বিষয়ে আগৈলঝারা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, গৈলা বাজারের পাশে ওটা আসলে গোলার দীঘি। ব্রিটিশ শাসনামলে ওখানে আশেপাশের পুরাতন ভবনগুলো গোলাঘর হিসেবে ব্যবহার হতো। তাই ওটা গোলার দীঘি নামকরণ হয়। দুবছর আগেও এ দীঘিতে মাছ চাষ হয়েছে। প্রচুর মাছ পাওয়া যেত ওখানে। কিন্তু স্থানীয় কিছু মানুষের স্বার্থপরতার কারণে দীঘিটির আজ এ অবস্থা। তারা বিভিন্ন কৌশলে ওখানে জমি ক্রয় করে এমন অবস্থা করেছে যে দীঘিটার চারপাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। ফলে দীঘিটি সংরক্ষণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরাও চাই সরকারি উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক গৈলা গ্রামটি পর্যটন স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এ জন্য সব সহযোগিতা আমরা করবো।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT