চরফ্যাশনে মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা চরফ্যাশনে মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা - ajkerparibartan.com
চরফ্যাশনে মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা

3:31 pm , January 10, 2023

চরফ্যাশন প্রতিবেদক ॥ ভোলার চরফ্যাশনে শ্বশুর বাড়িতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে সোহাগ নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীসহ শ্বশুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। মারধর ও বিষপানে গুরুতর আহত যুবকের মৃত্যুর ৬ দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নিহত যুবকের মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে পুত্রবধুসহ ৬ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত দায়ের করা মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত যুবক সোহাগ আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের মৃত নাছির আহম্মেদের ছেলে। মামলা ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানাযায়, উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল বারেক হাওলাদারের মেয়ে নাসিমার সাথে পার্শ্ববর্তী আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের মৃতঃ নাছির আহম্মেদের ছেলে সোহাগের সাথে পারিবারিক ভাবে ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে লামিয়া নামের সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সোহাগ স্ত্রী- সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। সোহাগ চট্রগ্রামের রাজ মিস্ত্রির পেশায় কর্মরত ছিলেন। তার উপর্জিত টাকা স্ত্রী ও শ্বশুরের কাছে জমা রাখেন। গত সোমবার তিনি কর্মস্থল থেকে শ্বশুর বাড়িতে যান। পাওনা টাকা চাইলে জামাতা সোহাগের সাথে শ্বশুর পরিবারের বিরোধ শুরু হয়। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে গত বুধবার সোহাগকে মারধর করে। এতে সোহাগ সঙ্গাহীন হয়ে পড়লে মুখে বিষ ঢেলে দেন। বিষক্রিয়ায় সোহাগের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর আহত সোহাগকে ঘরে আটকে রাখেন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চরফ্যাসন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে কর্তব্যরত চিকিসৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। দুই দিন বরিশালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সোহাগ তাকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। তাকে এবং সন্তানকে রেখে তিনি ঢাকা ও চট্রগামের রাজ মিস্ত্রির কাজ করতেন। কয়েক মাস পরপর তিনি বাড়িতে আসতেন। গত সোমবার তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে তার কাপড় ছাড়াই কর্মস্থল থেকে তিনমাস পর বাড়িতে আসেন। পরেদিন মঙ্গলবার সকালে স্বামী সোহাগ তাকে সাথে নিয়ে নিজের জন্য প্যান্ট, সার্ট ও গেঞ্জি কিনতে স্থানীয় শশীভূষণ বাজারে যায়। কাপড় কিনে ফিরে এসে তিনি একাধিক মানুষের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। সারাদিন গড়িয়ে রাতভর তিনি তার সাথে এবং সন্তানের সাথেই ছিলেন। গত বুধবার সকালে তিনি ঘরের রান্নার জন্য বাজার করতে যান। বাজারে যাওয়ার আগে তিনি মোবাইল ফোনে কার সাথে যেন কথা কাটাকাটি করছিলেন। কেনাকাটা শেষে বাড়িতে ফেরার পথে যে কোন সময় সে বিষপান করে বাড়িতে ফিরে আসেন। এবং ঘরে ফিরে তেঁতুল খেতে চান। তেঁতুল খেতে চাওয়ায় বিষয়টি তার (নাসিমা) সন্দেহ হয়। পরে তার মুখে ও শরীরের বিষের গন্ধ পাওয়ায় তাৎক্ষনিক তাকে চিকিৎসার জন্য চরফ্যাসন হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রাথমিকি চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। তবে কি কারনে তিনি বিষপান করেছেন তার আমার জানা নাই। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে মারধর ও টাকা পাওনা এসব কোন বিষয়ই সঠিক নয়।
শশীভূষণ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বরিশালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এজনই শশীভূষণ থানায় কোন মামলা নেয়া হয়নি। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে মৃত্যুর আসল কারন জানাযাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT