আর্মড পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তার মামলা আর্মড পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তার মামলা - ajkerparibartan.com
আর্মড পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তার মামলা

4:13 pm , January 2, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের একটি আদালতে প্রতারনার মাধ্যমে বিয়ে ও ধর্ষনের অভিযোগে দশম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে নালিশী অভিযোগ দায়ের করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা। সোমবার বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশী অভিযোগ দেন। বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন নালিশী অভিযোগ বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. হুমায়ন কবির জানিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে নালিশী অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার গ্রহন বিষয়ে শুনানী হবে। নালিশী অভিযোগের বিবাদী হলো- বরিশাল দশম আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস (৪০)। সে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বোরানাল গ্রামের মো. আব্দুল আউয়াল খন্দকারের ছেলে। বিবাদী নারী (৩৭) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক। নালিশী অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী নারী ও বিবাদী পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতো। সেই সুত্রে তাদের পূর্ব পরিচয় ছিলো। বরিশাল অফিসার্স ক্লাবে তাদের দেখা হয়। পূর্ব পরিচয়ের সুবাধে ক্লাবে তারা ব্যাডমিন্টন খেলতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সুস্পর্ক হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা ও নারী কর্মকর্তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তখন নারী কর্মকর্তা বিবাদী পুলিশ কর্মকর্তার সাথে দেখা ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় দেখা হলে অনুনয় বিনয় করে আবারো সু সম্পর্ক করে। এ সম্পর্কের বিষয়টি নারী কর্মকর্তার স্বামী জানতে পেরে গত বছরের জানুয়ারীতে ডিভোর্স দেয়। ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী দশম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বাংলোতে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী অনুষ্ঠানে উভয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে অংশ নেয়। গত বছরের মার্চে পুলিশ কর্মকর্তার প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ দশম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বাংলোতে আসে। তখন বিয়ের কাবিন করার জন্য চাঁপ দিলে বাংলোতে তাকে বেধরকভাবে পেটানো হয়। সুস্থ হয়ে বিষয়টি দশম আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের অধিনায়কের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে কাবিন করতে রাজি হয়। এ সময় জানায়, বর্তমানে ৩/৪টি বিভাগীয় মামলা রয়েছে। মামলার ঝামেলা গেলেই কাবিন করা হবে। গত ২২ জুলাই নারীকে ঢাকা নিয়ে রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ অফিসার্স মেসে নেয়। গত ২৫ জুলাই গুলশানের এক বন্ধুর বাসায় কাবিনসহ বিয়ে হয়। বরিশালে ফিরে ৭ অক্টোবর কাবিননামা চায়। গত ৮ অক্টোবর বরিশাল থেকে চলে যায়। পথিমধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হলে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বিয়ের কথা স্বপ্ন মনে করে ভুলে যেতে বলে বিয়ের কথা অস্বীকার করে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে গুলি হত্যাসহ সহকর্মীদের মাধ্যমে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হুমকি দেয়। এরপর থেকে যোগযোগ বন্ধ করে দেয়। তাই গত ২০ নভেম্বর স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে আইনী নোটিশ দেন। কিন্তু জবাব না দেয়া গত ২৭ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পুলিশ আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। মামলার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসের মোবাইল ফোন নম্বর ও হোয়াটস এ্যাপে যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT