জেলখানা মোড়ের যানজটের অন্যতম কারণ পার্কিং চাঁদাবাজি জেলখানা মোড়ের যানজটের অন্যতম কারণ পার্কিং চাঁদাবাজি - ajkerparibartan.com
জেলখানা মোড়ের যানজটের অন্যতম কারণ পার্কিং চাঁদাবাজি

4:04 pm , January 2, 2023

বিশেষ প্রতিবেদক  ॥ বরিশাল নগরীর আরেক বিষফোঁড়া জেলখানা মোড়ের যানজট। এখানে টাকার বিনিময়ে গড়ে ওঠা পার্কিং জোনই যানজটের অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। এখানে রাস্তার তিন পাশেই অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজির ঘাটি বানিয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতারা। ৮ ও ১৯ নং ওয়ার্ডের তিন নেতার দাপট এই ঘাটিতে বলে জানা যায়। অন্যদিকে এখানে যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ট্রাফিক কনস্টেবলের উদাসীনতাকে দায়ী করেন পরিবহন চালকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একজন কনস্টেবল সবদিক সামলাতে পারেনা, তাই লোকবল বৃদ্ধির দাবী ট্রাফিক বিভাগের।
সরেজমিনে ২ জানুয়ারী সোমবার বরিশাল নগরীর সদর রোডে প্রবেশ মাত্র থমকে যেতে হয়েছিলো বিশাল যানজটের কারণে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একের পর এক মিছিল এসে জড়ো হচ্ছিলো সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই যানজটে অচল এই এলাকা। এর উপর জেলখানা মোড়ে অটোরিকশা সিএনজি ও ইজিবাইকের যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় অতিষ্ঠ নগরবাসীর জীবন। এখানে একদম মোড়েই রাস্তার উপর স্থায়ী পার্কিংজোন তৈরি করে গাড়ি প্রতি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থেকে প্রতি ট্রিপে ১০ টাকা, সিএনজি থেকে ৪০ টাকা এবং মোটরসাইকেল থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন স্থানীয় দুই ওয়ার্ডের তিন নেতাসহ আরো অনেকে। একটা ভাগ ট্রাফিক পুলিশের কাছেও যাচ্ছে বলে জানালেন কয়েকজন ফুটপাত ব্যবসায়ী। আর স্থানীয় দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায় এখানে এই পার্কিংজোন তৈরি করে বাণিজ্য করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কানা সেলিম, কালা ও নুরু। কালা ও নুরু সিএনজি এবং মোটরসাইকেল থেকে এবং কানা সেলিম ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের সাহায্য করছে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবলরা। তবে এ বিষয়ে ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু এবং ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সেলিম কিছুই জানেন না বলে জানান।
দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবলকে দেখা গেলো রাস্তার পাশে গল্পরত অবস্থায়। তবে ট্রাফিক সার্জেন্ট আসতেই ব্যস্ত হলেন তিনি। এসময় মূহুর্তেই ফাঁকা হয়ে গেল জেলখানা মোড় এলাকা। পাশের ফুটপাত দোকানদার জানালেন, ট্রাফিক পুলিশের বড় কোনো কর্মকর্তা এপথে এলেই যানজট আর থাকেনা, কিন্তু তারা চলে গেলেই আবার একই চিত্র পাবেন।
এসময় বয়োবৃদ্ধ একজন ট্রাফিক কনস্টেবল এগিয়ে এসে বলেন আমরাওতো মানুষ। সকাল থেকে টানা আট ঘন্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করছি। আমাদেরও একটু বিশ্রামের দরকার হয়, দু চারজন পরিচিত জনের সাথে হঠাৎ দেখা হলে এড়িয়ে যেতেও পারিনা। দাঁড়িয়েই একটু কথা বলা জরুরী হয়ে যায়। আসলে আগেতো এতো চাপ ছিলোনা। পদ্মা সেতুর কারণে নগরীতে গাড়ির চাপ অনেক বেড়েছে। ইজিবাইক ও অটোরিকশা চারগুণ বেড়েছে এখন। সড়কের পরিধি বড় করতে হবে, প্রতিটি মার্কেট ও ভবনের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না হলে এ শহরের পরিণতি খুবই ভয়াবহ হবে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহিন বলেন, কনস্টেবলকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মোড়গুলোতে একজন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ খুবই কঠিন। বরিশালে রয়েছে মাত্র ৭৯জন কনস্টেবল। ৩৬টি পদ এখনো শূন্য আছে। একই দশা ট্রাফিক সার্জেন্টদেরও। ৩৭ জনের কাজ করছি আমরা ২৭ জন সার্জেন্ট।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT