‘শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেই আমার দিন কাটছে’ ‘শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেই আমার দিন কাটছে’ - ajkerparibartan.com
‘শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেই আমার দিন কাটছে’

4:00 pm , January 2, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোক্তার হোসেনের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার বেলা ১১ টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে বানাড়ীপাড়া উপজেলার লবনসাড়া গ্রামের মরহুম মো. চেরাগ আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা মো. মোক্তার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন ‘আমি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমি এবং আমার বন্ধু মিলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাই।
আমরা ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে ভারতের বারাসাতে টাকিপুর থুবা ক্যাম্পে যোগ দেই মুক্তিযুদ্ধ ট্রেনিং এর জন্য। থুবা ক্যাম্পে আমাদের থাকা খাওয়া এবং ট্রেনিং এর জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিছু দিন ট্রেনিং হওয়ার পরে আমি খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। সুস্থ্য হওয়ার পর আমাকে ঔষধপত্র খাওয়ানোর পরে এক পর্যায়ে সুস্থ্য হয়ে উঠি। তখন সুবেদার মেজর কবির আমাকে নিয়ে ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার জলিল এর সাথে দেখা করেন।
ওই সময় সেখানে বরিশালের এমপি এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মঞ্জুও উপস্থিত ছিলেন। আমাকে দেখে ওনারা সুবেদার মেজর কবিরের পার্টির সাথে বাংলাদেশে পাঠিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।
কবিরের পার্টিতে আমরা ৩৭/৩৮ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। পরবর্তীতে বেড়ে ৬০/৬৫ জন হয়েছিলো।
ক্যাম্প থেকে আমাদের নদীর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পিরোজপুরের সাইজদ্দির কাঠের নৌকায় তুলে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। হিরণ পয়েন্ট হয়ে রায়েন্দা/স্বরণ খোলা সুন্দরবনের ভিতরে পৌঁছাই তখন অনুমান বেলা ১০টা হবে।
ওখানেই আমাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর আমাদের নদী পার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তখন আমাদের সাথে ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর পার্টির অন্যান্য বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন,  দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পিরোজপুর কলেজ মাঠে আমাদের অস্ত্র-সস্ত্র জমা নেওয়া হয়। আমার পার্টির কমান্ডার সুবেদার মেজর কবির সাহেব আমাকে একখানা সার্টিফিকেট দেয়। আমার কমান্ডার সাহেব স্বাধীন হওয়ার পরেই মারা যান, এটাই আমার জন্য দুঃখ জনক। আমার ভারত হতে পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা নং- ৩৬৬৬। স্বাধীনের পরে আমি মনে করেছিলাম যে আমি একজন ভারতে ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার নাম অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে থাকবে। আমি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরীতে চাকুরি নেই।
১৯৭৫ সনে আমি ঢাকা ছেড়ে খুলনা চলে আসি। যেহেতু আমার ফ্যাক্টরীটা বন্ধ হয়ে যায়। খুলনা থাকা কালীন অবস্থায় জানতে পারি যে, নিজ এলাকায় এবং নীজ থানায় মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। থানা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে নাম থাকতে হবে। তখন আমি আমার থানা
বানাড়ীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা অফিসে যোগাযোগ করি। আমি মনে করেছিলাম যে বঙ্গবন্ধুর আহবানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি সেক্ষেত্রে আমার নাম ৯ নম্বর সেক্টরের খাতায় আছে বলে আমি মনে করেছিলাম।
কাজেই সরকারী খাতায় নাম থাকা মানেই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
কিন্তু সরকারী সার্কুলার মোতাবেক আমি থানা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে এবং ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করি। তখন থানা কমান্ডার মো. হোসেন বালি এবং ইউনিয়ন কমান্ডার মো. আবু সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে আমার নাম বানাড়ীপাড়া
তিনি লিকিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমি ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি। চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আবেদন করি। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিয়ন কমান্ড, স্বরুপকাঠী, পিরোজপুর শাখা থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ প্রত্যয়ন পত্র দেয়। অনলাইনে দাখিল, আবেদনের ডিজি নং- উএ১১৩১৫৫০, তাং-১৫/০৩/২০১৪ নিজে ও মন্ত্রাণালয়ে গিয়ে বহুবার ধর্ণা দিয়েছি। পরবর্তীতে আমার যাচাই বাছাই হবে এ আশায় কেটে গেল কয়েক বছর।
আমার বয়স প্রায় ৭০। এ জীবনে দেশ স্বাধীন করার সাধ কি পাব না আমার ছেলে মেয়েররাও কি জানতে পারবে না স্বাধীনতার যুদ্ধে আমার কি অবদান ছিলো এখন কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। শরীরের ভিতরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেই আমার দিন কেটে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT