দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কুয়াশামাখা নিম্নমুখী তাপমাত্রায় জনজীবনে বিপর্যয় দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কুয়াশামাখা নিম্নমুখী তাপমাত্রায় জনজীবনে বিপর্যয় - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কুয়াশামাখা নিম্নমুখী তাপমাত্রায় জনজীবনে বিপর্যয়

3:42 pm , January 1, 2023

পাকা আমন আর বোরো বীজতলাও ক্ষতির মুখে
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রার সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। গত ৫ দিন ধরে শেষরাত থেকে মেঘনা অববাহিকার সব নদ-নদী থেকে দিগন্ত বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে মঝারী থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। সূর্যের মুখ দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেক বেলা অবধি। সাথে তাপমাত্রার পারদ মৌসুমের সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাপমাত্রার পারদ নামার সাথে ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের শুধু সরকারী হাসপাতালগুলোতেই নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিশু ও বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই সর্বাধিক।
মাঠে উঠতি পাকা আমন আর বোরো বীজতলাও ক্ষতির মুখে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের মাধ্যমে ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৪ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে এখন মাঠে কৃষি যোদ্ধারা। কিন্তু হিমেল হাওয়ার সাথে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিচে নামায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরির ক্ষতির মুখে।
রোববার সকালে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১১.৯ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও শুক্রবার সকালে মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা ছিলো স্বাভাবিকের ৩.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচে। অথচ মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে বুধবার সকালে বরিশালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের প্রায় ৬ ডিগ্রী ওপরে ১৯ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে গিয়েছিলো।
মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। তবে সোমবার সকালের পরিবর্তে  ৪৮ ঘন্টায় তাপমাত্রার পারদ আরো নামবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের আকাশ জুড়ে হালকা থেকে মাঝারী মেঘের আনাগোনায় সূর্য বারবারই আড়ালে থাকেছে। ফলে জনজীবনে সংকট আরো বাড়ছে। হিমেল হাওয়ার হাড় কাঁপানো শীতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন এখন অনেকটা বিপর্যস্ত। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া দপুরের পরে অনেকেই ঘর থেকে  বের হচ্ছেন না।
এমনকি এ কনকনে ঠান্ডায় দক্ষিণাঞ্চলের মাঠ জুড়ে পাকা আমন ধান কর্তণও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায়ই কৃষি শ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না হীম শীতল ঠান্ডার সাথে উত্তরের হাওয়ায়। ফলে কৃষকের দুঃশ্চিন্তাও ক্রমশ বাড়ছে। গত বুধবার শেষ রাতে এক দফা বৃষ্টিপাতে দক্ষিনাঞ্চলের উঠতি পাকা আমন কিছুটা ক্ষতির কবলে পড়েছে। সদ্যসমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদকৃত আমন থেকে প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টন চাল উৎপাদন লক্ষ্য অতিক্রমের কথা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT