একের পর এক নৌযান দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ একের পর এক নৌযান দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ - ajkerparibartan.com
একের পর এক নৌযান দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ

3:58 pm , December 31, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ সঠিক দিক নির্দেশনাকারী পাইলট বিহীন নৌযানের বেআইনী পরিচালনে একের পর এক দুর্ঘটনায় নৌ যোগাযোগ নির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। সাথে নাব্যতা সংকটও পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলছে। বিশেষ করে রাতের বেলা নৌযান পরিচালন ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে এখনো বেসরকারী নৌযানগুলোকে পাইলট নিয়ে চলাচল নিশ্চিত করতে পারেনি অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে বিআইডব্লিউটিএ’র পাইলট নিয়ে চলাচল আইনগনভাবে বাধ্যতামূলক হলেও অনুমোদিত ও নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরণের প্রায় ১৫ হাজার নৌযানের জন্য পাইলটের সংখ্যা সাড়ে ৩শর বেশী নয়। কিন্তু অনুমোদিত এ স্বল্প সংখ্যক পদেরও অনেকগুলোই শূন্য পড়ে আছে।
একদিকে স্বল্প সংখ্যক পাইলটের অনুমোদিত পদ অপরদিকে অনেকগুলো পদেই জনবল শূন্য থাকায় দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় নৌপথেই প্রায় সব বেসরকারী নৌযান এখন পাইলট বিহীন অবস্থায় চলাচল করছে। ফলে নৌযান সমূহের বেআইনী পরিচালনসহ পাইলটের ব্যবহারও পরোক্ষভাবে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক দশকে  বরিশাল-ঢাকা নৌপথের চাঁদপুর অংশ, বরিশাল-চট্টগ্রাম, বরিশাল-ঝালকাঠী-বরগুনা, বরিশালÑঝালকাঠী-গাবখানÑঘাশিয়াখালীÑমোংলা-খুলনা নৌপথে অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনায় যেসব নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটেছে তার একটিতেও  কোন পাইলট ছিলোনা।
এমনকি ২০২১ এর মধ্যভাগে বরিশাল নদী বন্দরের দক্ষিণ পাশেই যাত্রিবাহী নৌযানের ধাক্কায় দেড় হাজার টন ক্লিংকার বোঝাই একটি পণ্যবাহী নৌযান ডুবির ঘটনায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বন্দরের পরিচালন ব্যবস্থাই হুমকীর মুখে পড়ে। বছর পাঁচেক আগে সারা দেশের সাথে মোংলা ও খুলনা বন্দরের নৌ যোগাযোগের একমাত্র নৌপথের ‘গাবখান চ্যানেল’এ একটি পণ্যবাহী নৌযান ডুবির ঘটনায় ১৫ কিলেমিটার দীর্ঘ ‘বাংলার সুয়েজ খাল’ খ্যাত চ্যানেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিলো ৩ মাসেরও বেশী সময়।
চট্টগ্রাম-হাতিয়া-বরিশাল নৌপথেও একাধিক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর গড়ে ১০টি করে নৌযান ডুবির ঘটনা ঘটলেও এর বেশীর ভাগই সময়মত উদ্ধার হচ্ছে না। বর্তমানে এ রুটে প্রায় ১০টি নৌযান নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালন পরিদপ্তরের মতে এসব নিমজ্জিত নৌযান এলাকায় যথাযথ মার্কিং করা হয়েছে। ফলে  তা নৌযান চলাচলে কোন বিঘœ ঘটাচ্ছেনা। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানগুলো মালিক পক্ষ সময়মত উদ্ধার না করায়  তা নিলামে বিক্রী করে অপসারণের বিষয়টিও চলমান বলে জানান কৃতপক্ষ।
সর্বশেষ গত ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর যাবার পথে ভোলার সন্নিকটে ভাটি মেঘনায় ঘন কুয়াশায় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি নৌযানের  ধাক্কায় ১১ লাখ লিটার জ¦ালানী বোঝাই ‘এমভি সাগর নন্দিনী-২’এর  পেছনের দিকের তলা ফেটে অর্ধ নিমজ্জিত হয়েছে। ভাটি মেঘনার ওই দুর্ঘটনাস্থলে গভীরতা কম থাকায় নৌযানটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত না হলেও স্থানীয় লাগসই প্রযুক্তিতে তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও গত এক সপ্তাহে নৌযানটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব ৪টি উদ্ধারযানের সাহায্যেও এতবড় জ¦ালানিবাহী নৌযানের উদ্ধার সম্ভব নয়। ফলে মোংলা বন্দর ও কোষ্টগার্ড সহ বেসরকারী লাগসই প্রযুক্তিতে উদ্ধার কাজ চললেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত নৌযানটি ভাসানো সম্ভব হয়নি। তবে মেঘনার সাগর মুখী ¯্রােতের সাথে প্রচন্ড কুয়াশা আর গা হীম করা ঠান্ডায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডুবে যাওয়া ‘এমভি সাগর নন্দিনী-২’ চট্টগ্রাম-বরিশাল ও চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথে নিমজ্জিত হলেও তা আপাতত সুষ্ঠু নৌ যোগাযোগে কোন বিঘœ ঘটাবেনা বলে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বশীল মহল দাবী করেছেন। তবে যে কোন নিমজ্জিত নৌযান অপসারণে যত বিলম্ব ঘটবে নদীর প্রবাহ ও গতি ছাড়াও নৌ পথকে ততটাই  তা প্রভাবিত করে বলেই মনে করছেন নদী বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT