দক্ষিণাঞ্চলের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকী দক্ষিণাঞ্চলের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকী - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকী

3:42 pm , December 7, 2022

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধি বিধান পালনের উদ্যোগ নেই
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলের দুটি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ৬টি জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩৬টি উপজেলা হাসপাতাল সহ বেসরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করণের ন্যূনতম কোন ব্যবস্থা  এখনো অনুপস্থিত। অথচ সরকার এ লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ‘পরিবশে সংরক্ষন আইন’র ক্ষমতা বলে ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর ‘চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা-২০০৮ প্রনয়ন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। কিন্তু ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষন আইন এবং ২০০৮ সালের বিধিমালা অনুুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলে সরকারী হাসপাতাল গুলোতেই চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ফলে এসব চিকিৎসা বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমশ বিপর্যয় ডেকে আনছে।  এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ পরিবশ অধিদপ্তরও অনেকটা উদাসীনবলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালের বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে  একটি কর্তৃপক্ষ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালককে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত একজন কর্মকর্তা ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের সব সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ পর্যন্ত সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে এখনো অনেক দূরে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল মহল স্বীকার করেছেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রনালয় থেকে সারা দেশের হাসপাতাল সমূহের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই একটি ‘ইনসাইনেরেটর’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক জানিয়েছেন।
এমনকি বরিশাল মহানগরীর ছোট ও মাঝারী প্রায় ৫০টি বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালের অবস্থা আরো করুন। কয়েকটি এনজিও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও নিবন্ধন নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা বর্জ্য যেনতেন ভাবে অপসারণ করলেও অতি সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন এ দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর ওইসব এনিজিও’র নিবন্ধন নবায়নও করেনি। তবে নভেম্বর মাস থেকেই মহানগরীর সব বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতাল সমূহের চিকিৎসা বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের অপসারণের কথা থাকলেও তা এখনো সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর থেকে  নগর ভবন এ কাজটি শুরু করার কথা জানালেও ৭ডিসেম্বর পর্যন্ত শুরু করতে পরেনি। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান রবিউল ইসলাম বুধবার দুপুরে জানান, এ লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই এ কার্যক্রম শুরুর কথা জনান তিনি।
দক্ষিনাঞ্চলের অন্যসব জেলা উপজেলা সদরগুলোর অবস্থা আরো করুন। ওইসব জেলাÑউপজেলার ক্লিনিকগুলোর  চিকিৎসা বর্জ্যরে বেশীরভাগই  রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকেই পৌর সভাগুলোর পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তা অনিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে থাকেন।
এমনকি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল সমূহ সহ নগর ভবনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদেরও কোন প্রশিক্ষন নেই।  বরিশাল মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও চিকিৎসা বর্জ্য সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, প্যাকেটজাতকরণ, বিনষ্টকরণ, ভষ্মীভূতকরণ, পরিশোধন, বিশোধন সহ অপসারণ হচ্ছে না। এমনকি সংক্রমিত ও অসংক্রমিত তরল বর্জ্য প্রেসারাইজড বর্জ্য, অসংক্রমিত ও ক্ষতিকর সাধারন বর্জ্য, এনাটমিক্যাল বর্জ্য, প্যাথলজিক্যাল বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল বর্জ্য, জীবানুযুক্ত বর্জ্য, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, ধারাল বর্জ্য সমূহ সংগ্রহ, অপসারণ ও বিনষ্টকরণে  কোন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থা গোটা দক্ষিণাঞ্চলেই অনুপস্থিত।
বরিশাল মহানগরীতে এনজিও সমূহ এখনো যে চিকিৎসা বর্জ্যসমূহ সংগ্রহ করছে তাও  খুব একটা পরিবেশ সম্মতভাবে অপসারণ বা বিনষ্ট করছে না। সেই ধরণের কোন ব্যবস্থাও তাদের নেই বলে জানা গেছে। শুধুমাত্র বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থেকে  বর্র্জ্যসমূহ সংগ্রহ করে তারা সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগারেই ফেলে আসছে।
এসব বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূরাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বিষয়টি নিয়ে তাগিদ দিয়ে আসছি। সরকারী প্রতিষ্ঠান বিধায় চাইলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সব কিছু করতে পারেন না। তবে আমরা চলমান চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর রাখে সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী পরিবেশ সম্মতভাবে তা করারও তাগিদ দিচ্ছি ।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক  ও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সভাপতি ডাঃ হুমায়ুন শাহিন খানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কথা স্বীকার  করেন। খুব শীঘ্রই বরিশাল শের-ই  বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফার্মাসিউটিক্যাল এবং জীবানুযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি ‘ইনসাইনেরটর’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সারাদেশের মত দক্ষিণাঞ্চলের সব সরকারী হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা বর্জ্য পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করবেন বলে জানান পরিচালক।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT