আগৈলঝাড়ায় প্লাষ্টিকের বোতল বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক লোকজনের ভীর আগৈলঝাড়ায় প্লাষ্টিকের বোতল বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক লোকজনের ভীর - ajkerparibartan.com
আগৈলঝাড়ায় প্লাষ্টিকের বোতল বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক লোকজনের ভীর

2:53 pm , December 4, 2022

কেএম আজাদ রহমান, আগৈলঝাড়া ॥ প্লাস্টিকের রঙ-বেরঙের পরিত্যক্ত বোতল দিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাড়ি নির্মাণ করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক দন্ত চিকিৎসক। সে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আকঁ গ্রামের জ্যোতিষ চন্দ্র বাড়ৈর ছেলে দন্ত চিকিৎসক পলাশ চন্দ্র বাড়ৈ। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামানন্দের আকঁ গ্রামের পাঁচকক্ষ বিশিষ্ট এ বাড়িটির নির্মাণকাজ চলমান থাকতেই বোতল বাড়ির একাধিক ছবি ভাইরাল হওয়ার পর গোটা বরিশাল জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বাকি থাকা বোতল বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্নস্থান থেকে উৎসুক লোকজন আসছেন। স্বপ্নের এ বোতল বাড়িটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দেরআঁক গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক জ্যোতিষ চন্দ্র বাড়ৈ ছেলে দন্ত চিকিৎসক পলাশ চন্দ্র বাড়ৈ। পলাশের পিতা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জ্যোতিষ চন্দ্র বাড়ৈ বলেন, ইন্টারনেটে জাপানী প্রযুক্তির বোতল বাড়ি দেখে আমাদের কাছে পলাশ বোতল দিয়ে বাড়ি বানানোর কথা বলে। প্রথমে আমরা তাকে নিষেধ করি। পরে তার অনুরোধে বাড়ি বানানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছি। এখন দেখি ভালোই হয়েছে। সবাই বাড়ি দেখতে আসছে, পলাশের প্রশংসাও করছে। পলাশের স্ত্রী জুঁই রানী দাশ সাংবাদিকদের বলেন, নির্মানাধীন বোতল বাড়ি দেখতে আসা মানুষের কাছে স্বামী পলাশ চন্দ্র বাড়ৈর প্রশংসা শুনে বেশ ভালোই লাগছে। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘বোতল বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। অভিনব পদ্ধতিতে বাড়ি নির্মাণের সাথে জড়িত থাকতে পেরে ব্যাপক খুশি রাজমিস্ত্রী ও শ্রমিকরা। বোতল বাড়ি নির্মান কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকরা বলেন, বাড়িটি নির্মাণে ইটের বদলে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত বোতল আর বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতলগুলোর মধ্যে বালু ও সিমেন্ট ভরে তা ব্যবহার করা হয়েছে বাড়ির দেয়ালের গাঁথুনি তৈরিতে। ইতোমধ্যে ইটের বদলে প্লাস্টিকের বোতল দিয়েই বাড়ির দেয়ালের গাথুনির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির পাশের পুকুরের ঘাটলাও নির্মান করা হয়েছে বোতল দিয়ে। রাজমিস্ত্রী মতি সিকদার বলেন, বিগত দশ বছর ধরে আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি। বোতল দিয়ে বাড়ি বানানো এটাই আমার জীবনের প্রথম কাজ। পলাশের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করি। কাজ যতদূর করা হয়েছে, তাতে নিশ্চিত বাড়ির নির্মাণ কাজ খুবই মজবুত হয়েছে। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ির তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। শ্রীর্ঘই বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাঁচকক্ষ বিশিষ্ট বোতল বাড়িটি দোতলা করার ইচ্ছের কথা জানিয়ে দন্ত চিকিৎসক পলাশ চন্দ্র বাড়ৈ আরও বলেন, এসব বোতল ক্রয় করে বাড়িতে এনে তাতে বালু ও সিমেন্ট ভরে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই সমপরিমাণ জায়গায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ইটের প্রয়োজন হতো। সে হিসেবে আমার অর্ধেকের বেশি খরচ কম হয়েছে। ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পাকা বাড়ির চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ কম খরচে স্বপ্নের এ বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব বলেও মনে করছেন পলাশ চন্দ্র বাড়ৈ। এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, এধরনের বাড়িতে খরচ কিছুটা কম হবে সেটা নিশ্চিত। তবে বোতল বাড়ি কতোটা টেকসই, পরিবেশ বান্ধব এবং দীর্ঘস্থায়ী তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে বোঝা যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT