যে কষ্টের শেষ নেই… যে কষ্টের শেষ নেই... - ajkerparibartan.com
যে কষ্টের শেষ নেই…

2:52 pm , December 4, 2022

মো. জসিম জনি, লালমোহন ॥ শিশুকাল থেকেই তারা সুস্থ সবল। কিন্তু বয়স ১৫ অতিক্রম করলেই এক এক করে ৩ মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। গত ১০ বছর ধরে এই ৩ মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে একটি দিনমজুর পরিবার। ছোট আরো এক ছেলেকে নিয়ে এখন দুঃশ্চিন্তায় আছেন তারা। লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রহিমপুর গ্রামের এই ৩ বোনকে ঘরেই আটকে রাখতে হচ্ছে বাবা-মাকে। এরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। হাটতে পারে না। হাটতে গেলেই পড়ে গিয়ে আঘাত পায়। উদ্ভট আচরণ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে। গায়ের দিকে তেড়ে যায়। দরিদ্র পিতা আবু তাহেরের পক্ষে তাদের পেটে ভাত জোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছে, সেখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোন সামর্থ নেই ওই পরিবারের। গরীবের ঘরে এমন বিবাহযোগ্য ৩টি মেয়েকে লালন-পালন করতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন জানা গেছে, চরভূতা রহিমপুর গ্রামের রোশন আলী বাড়ির আবু তাহের দিনমুজরী করে সংসার চালান। বয়স ৫০ পার হয়েছে। কাজ না থাকলে বাড়িতে বসে বাঁশ দিয়ে হাজি তৈরি করে বিক্রি করেন। স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের গর্ভে প্রথমে জন্ম নেয় তাছলিমা। ধীরে ধীরে তাছলিমা বড় হতে লাগলে বুঝতে পারে সে বাঁক প্রতিবন্ধী। শুধু বাক প্রতিবন্ধীই নয়, বয়স বাড়লেও তার শিশুসুলভ আচরণ যায়নি। দ্বিতীয় মেয়ে আকলিমা জন্ম নিলে স্বাভাবিকভাবেই বড় হতে থাকে। বয়স ১৫ পার হতেই এ বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য কথা বার্তা চলে আকলিমার। বড় মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে রেখে আকলিমার জন্যই বিয়ের কথা বার্তা চালায় বাবা-মা। কিন্তু সেসময়ই দেখা দেয় আকলিমার মধ্যেও পরিবর্তন। সে হঠাৎ করে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলা করতে পারে না। উদ্ভট আচরণ শুরু করে দেয় বাবা-মায়ের সাথে। আটকে রাখতে হয় ঘরে। না হলে বাবা-মাকে মারতে যায়। তৃতীয় মেয়ে সোনিয়াও ছোট বেলায় ভালো ছিল। তাকে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে দেওয়া হয়। কিন্তু তারও বয়স ১৫-১৬ পার হতেই একই আচরণ শুরু হয়। ওই ঘরে এখন ৩ মেয়েই প্রতিবন্ধী।
এদের নিয়ে বাবা আবু তাহের ও মা মোর্শেদার দুশ্চিন্তা থেমে নেই। ৪র্থ আরো একটি মেয়ে আছে তাদের। তাকে আগে ভাগেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবার ছোট ছেলে আবু ছায়েদ। তার বয়স এখন ১২ বছর। তাকে লালমোহন বাজারে একটি চায়ের দোকানে কাজে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বড় ৩ মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা কুঁড়ে কুড়ে খাচ্ছে বাবা-মাকে।
বাবা আবু তাহের বলেন, অভাবের সংসারে ৩ মেয়ের এ অবস্থায় আমরা দুর্বীসহ জীবন কাটাচ্ছি। ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। তবুও সোনিয়াকে নিয়ে বরিশাল পর্যন্ত গিয়েছিলাম ডাক্তার দেখাতে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঔষধ দেন ডাক্তার। কিছুদিন ঔষধ খাওয়ালেও টাকার অভাবে আর ঔষধ কিনতে পারিনি। তাদের চিকিৎসার জন্য এর আগে বাড়ির ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। এখন নিজের ঘর ভিটা ছাড়া তেমন কিছু নেই।
মা মোর্শেদা বেগম জানান, ৩ মেয়ের এমন করুন পরিণতি হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। তাদের সেবা করতে করতে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে গেছেন। গোসল করানো, নিয়মিত খাইয়ে দেওয়া, প্রাকৃতিককাজ সব কিছুই একা তাকে সামাল দিতে হচ্ছে। এখন নিজেও চলতে পারেন না। শরীরেও নানান রোগ বাসা বেঁধেছে মায়ের। তিনি কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। ৩ মেয়ের বড় মেয়ে জন্ম থেকেই বোবা হয়েছে। বড় হয়ে সে উ™£ান্তের মতো চলে। ছোট দুই মেয়েরা বড় হয়ে একই আচরণ করতে থাকে। হাটতে গেলে পড়ে গিয়ে দাঁত ভাঙ্গে, শরীর জখম হয়। আবার মারতে আসে। এ অবস্থায় তাদের ঘরে আটকে রাখতে হয় সবসময়। নাহলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়না। মেয়েদের বিয়ের বয়সও শেষ হয়ে গেছে। বড় মেয়ে তাছলিমার বয়স এখন ২৫, মেঝ মেয়ে আকলিমার বয়স ২৩ ও সোনিয়ার ২১। তাদের কোন ভবিষ্যত নেই।
ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান টিটব জানান, আবু তাহেরের ৩ মেয়ে প্রতিবন্ধী। তাদের নামে পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিছু সহযোগিতা পাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT