প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চলা সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চলা সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার - ajkerparibartan.com
প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চলা সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার

3:16 pm , November 29, 2022

সাম্প্রতিক সাড়াশি অভিযানের মধ্যেও বন্ধ হয়নি
লাইসেন্স নেই ২ বছর ॥ ম্যানেজে চলছে প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার। নাম করণে প্রতারণার মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু। ২ বছরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স না পাওয়ার পরও  অনিয়মের আশ্রয় নিয়েই চলছে রোগীর সাথে প্রতারণা। বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য অবকাঠামোগত সহ যে সব প্রয়োজনীয় উপকরণ দরকার তার অধিকাংশই নেই এ প্রতিষ্ঠানটির। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরবর্তী বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রতিবেদন আজকের পরিবর্তনের কাছে এসে পৌঁছেছে। পরিদর্শন টিমের সভাপতি বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ হুমায়ুন শাহীন খান ও পরিদর্শন টিমের সদস্য সচিব বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান স্বাক্ষরিত পরিদর্শন টিমের মন্তব্যের কলামে উল্লেখ করা হয়েছে ‘প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টারের ভৌত অবকাঠামো সন্তোষ জনক নয় এবং সিটি স্ক্যান কক্ষ মান সম্মত নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নাম, ছবি, শিক্ষা সনদ, নিয়োগ ও যোগদান পত্র সঠিক নেই। অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম নেই। এরকম অন্তত ৩৯ টি শর্তের প্রায় সবগুলোই নেই। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে এত নাই, নাই থাকার পরও রোগীদের সাথে প্রতারণা করে দাপটের সাথে চলছে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার। আরো বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে সম্প্রতি সারাদেশে অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক  ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিরোধী সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা একবার জরিমানাও গুনতে হয়নি এই প্রতিষ্ঠানটিকে। কারণ যতবারই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তার আগেই সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার তালাবদ্ধ করে পালিয়েছেন কর্তৃপক্ষরা। অর্থাৎ এটা প্রমানিত যে, আগেভাগেই অভিযানের খবর জেনে যেত সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ। ফলে বরিশাল স্বাস্থ্য সেক্টরের একটি পক্ষ এই কাজের সাথে যে জড়িত তা অনেকটা নিশ্চিত। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকও স্বীকার করেছেন অভিযানের আগেই বন্ধ করে পালানোর বিষয়টি। বরিশাল স্বাস্থ্য সেক্টরের একাধিক দায়িত্বশীল নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে পানি অনেকটা গড়ানোর পর এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কোন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েও লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে ওই সূত্রগুলো। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ও বরিশাল সিটি এলাকার বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন টিমের সভাপতি ডাঃ হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, আমি ঢাকায় একটি সভায় রয়েছি। ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অবৈধ ভাবে কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
তথ্য বলছে, ২০২১ সালে নগরীর বান্দ রোডে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে যাত্রা শুরু করে সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সাইনবোর্ডে মেডিনোভা সিটি সেন্টার অক্ষরগুলো লেখা হয়েছে অনেক বড় ও আকর্ষনীয় করে আর সাউথ শব্দটি লেখা হয়েছে ছোট ও সুক্ষ্ম করে। এই লেখার একটি উদ্দেশ্য রোগীরা যেন বুঝে নেয় এটি বিখ্যাত ও স্বনামধন্য মেডিনোভা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। যা রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে প্রতারণার শামিল। বিষয়টি টের পেয়ে বরিশাল মেডিনোভা কর্তৃপক্ষ বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে সাউথ মেডিনোভার লাইসেন্স বন্ধ রাখার জন্য একাধিক বার আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটিডে এবং বরিশাল সিটি সেন্টার দুটি প্রতিষ্ঠান মেডিনোভা গ্রুপের। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানের লোগো ও নাম ব্যবহার করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার।
আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু একবারও তদন্ত টিমের প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। যে কারনে অবৈধ ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পরিচালিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শুধু নামকরণে প্রতারণা করেই থেমে থাকেনি এই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে রোগী ভাগাতে ও বেশী রোগী পেতে শেবাচিম হাসপাতালে কর্মরত ২০/৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা তথা পরিচালনা পর্ষদে। কিন্তু সরকারী বাধ্য বাধকতার কারণে সরকারী হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নামগুলো গোপন রেখে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে অন্য মালিকও শেয়ার হোল্ডারদের। যারা সরকারী বাধ্য বাধকতার বাইরে। প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগকে তারা ওই মালিক তথা শেয়ার হোল্ডারদের ওই চুক্তিনামা প্রদর্শন করে। আর শেবাচিম হাসপাতালে কর্মরত যে সব কর্মকর্তা কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথে জড়িত তাদের সাথে করা হয়েছে ভিন্ন অপর একটি চুক্তি পত্র। যা অভ্যন্তরীন ও গোপনীয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টার প্যাথলজিক্যাল লাইসেন্স না পেলেও ইতিমধ্যে অনেকটা অলৌকিকভাবে বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ থেকে সনদ পেয়েছে। পেয়েছে পরিবেশ সনদ ও সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সও। লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ৮/১০ বিষয়ের উপর কাগজপত্র থাকলে আমরা পরিবেশের ছাড়পত্র দিয়ে থাকি। তারা বেশীর ভাগই দেখাতে পেরেছে। তাই আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিবেশের সনদ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের সদন প্রদানের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের সনদ দিয়ে থাকে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপক দ্বীন ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। বরিশাল স্বাস্থ্য সেক্টরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা এখনো লাইসেন্স পাইনি। কিন্তু এর কারণ আমার জানা নেই। এবিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ করেননি বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান। উল্লেখ্য, অবৈধ সাউথ মেডিনোভা সিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দেয়া মহসিন মার্কেটের এক কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন লিটন নামের একজন নিজেকে যুবলীগের বড় নেতা পরিচয় দেয় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সবাইকে ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছি বলেও দম্ভোক্তি দেখায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT