পৌনে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে পৌনে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে - ajkerparibartan.com
পৌনে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলাÑলক্ষ্মীপুর মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে

3:19 pm , November 28, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নানামুখী জটিলতা কাটিয়ে প্রায় পৌনে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ভিন্ন প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামÑবরিশালÑখুলনা/মোংলা মহাসড়কের বরিশাল মহানগরী অংশসহ ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এ জন্য বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কটির উন্নয়নে ৩১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় সোয়া ৫শ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি প্রকল্পটি একনেক এর চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করায় এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে ভূমি হুকুম দখল সম্পন্ন করলে ২০২৪ এর মধ্যেই ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি ১২ ফুট হার্ড শেল্ডারসহ ৩৪ ফুট প্রশস্ত করে মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সড়ক অধিদপ্তরের  দায়িত্বশীল মহল।
বিদ্যমান ক্যারেজওয়ের মান উন্নয়নসহ মহাসড়কটির জন্য অনুমোদিত প্রকল্পটি গত অর্থ বছরে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ না করেই বিদ্যমান মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করতে গিয়ে নানামুখী জটিলতায় তা আটকে যায়। ফলে পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলের এ প্রকল্পটির আওতায় বরিশালের ১৩.৩৬ কিলোমিটার, ভোলাতে ১৬.৪৭ কিলোমিটার এবং লক্ষ্মীপুরে প্রায় ১০ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত করণ সহ মান উন্নয়নের কথা রয়েছে। এখন ভূমি অধিগ্রহণ সহ প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা।
অপরদিকে বরিশালÑফরিদপুরÑঢাকা মহাসড়কের বরিশাল মহানগরীর প্রবেশদ্বার ‘গড়িয়ার পাড়’ এলাকা থেকে মহানগরী হয়ে দপদপিয়া সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নেও  ৫৫ কোটি টাকার একটি ভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে আগামী মার্চে। নগরীর অভ্যন্তর দিয়ে বহমান এ মহাসড়কটির উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের ‘প্রিওডিক ম্যান্টেনেন্স প্রজেক্ট’এর আওতায় দুটি প্যাকেজে ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কের এ অংশের ডিভাইডারের দুই পাশে মূল ক্যারেজওয়ে দুই লেন করে ৪ লেনের আদলে ৪৮ থেকে ৫৫ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার পাশাপাশি পরিপূর্ণ ওভার-লে করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কটির এ অংশে সব ধরণের সড়কÑসংকেত ব্যবস্থা সহ সড়কের উপর মার্কিং করে যানবাহনের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘœ করা হচ্ছে। এর ফলে নগরীর অভ্যন্তর দিয়ে চলে যাওয়া জাতীয় মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল অনেকটাই নির্বিঘœ ও নিরাপদ হবে বলে বরিশাল সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন।
অপরদিকে বরিশালÑভোলাÑলক্ষ্মীপুর মহাসড়কটির মানোন্নয়নে ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ তৈরীর সময় যথাযথ সমীক্ষা সহ বেশ কিছু বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ না করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। মূল ডিপিপি’তে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় ডিপিপি সংশোধন করে সড়ক অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয় হয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করতে হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সহ কয়েকটি কালভার্ট প্রশস্ত করতেও প্রকল্প ব্যয় ৩১২ কোটি থেকে এখন প্রায় ৫২০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে ।
এ মহাসড়কটির মাধ্যমেই চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দর এবং দেশের বৃহত্তম বেনাপোল ও ভোমড়া স্থল বন্দরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান। উপকূলীয় এ জাতীয় মহাসড়টির কারণে উল্লেখিত ৩টি বিভাগের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩০Ñ৪০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পাওয়া ছাড়াও চট্টগ্রামÑঢাকা মহাসড়কটির উপর যানবাহনের চাপও  হ্রাস পাবার কথা।
দুই বছর আগে কার্যাদেশ দেয়ার পরেও মহাসড়কটির বরিশাল সড়ক বিভাগের ১৪ কিলোমিটারের বেশীরভাগ অংশে ব্যক্তি মালিকানার জমিতে নির্মান প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরুই করতে পারেনি। এখন মহাসড়কটির বরিশাল অংশে প্রায় ২৫.৪২ হেক্টর জমি হুকুম দখলে প্রায় ১৮৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সহ প্রকল্প ব্যয় ৫২০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
অপরদিকে, ভোলা সড়ক বিভাগের আওতাধীন ১৬.৪৭ কিলোমিটার মহাসড়কটি নির্মানকালে এর দুই পাশে যেসব গাছ রয়েছে, প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তার একটি বড় অংশই কাটা পড়েছে। সরকারী নীতিমালার অলোকে এসব গাছ অপসারণ করে মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগে নেয়া হলেও একটি এনজিও’র আবেদনে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হলেও তা দূর হয়েছে। লক্ষ্মীপুর প্রান্তের ১০ কিলোমিটার মহাসড়ক উন্নয়নে তেমন কোন সমস্যা না থাকায় সেখানে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। মহাসড়কটির বরিশাল অংশে যেখানে সড়ক বিভাগের নিজস্ব জমি রয়েছে, সেখানে নির্মান প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে ।
তবে ডিপিপি অনুমোদনের পরেও সব আইনগত বিধি বিধান অনুসরণ করে ভূমি অধিগ্রহণে অন্তত ছয় মাস থেকে ১ বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ফলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের আগে পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নাও হতে পরে। তবে সড়ক অধিদপ্তর ২০২৪-এর জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চাচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ও বরিশাল সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি সব জটিলতা কাটিয়ে যত দ্রত সম্ভব বরিশালÑভোলাÑলক্ষ্মীপুর মহাসড়কটির মান উন্নয়ন সহ সার্বিক প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে’। পাশাপাশি বরিশাল মহানগরীর অভ্যন্তরে জাতীয় মহাসড়কটি উন্নয়ন কাজও আগামী মার্চের মধ্যে শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT