আজ রাজাপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস  আজ রাজাপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস  - ajkerparibartan.com
আজ রাজাপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস 

3:32 pm , November 22, 2022

বুলবুল আহমেদ, রাজাপুর প্রতিনিধি ॥ আজ ২৩ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল অঞ্চলের মধ্যে রাজাপুর থানা সর্বপ্রথম পাক হানাদার মুক্ত হয়। বৃহত্তর বরিশালের রাজাপুরের আকাশে উড়ে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বরের পর সারাদেশের ন্যায় রাজাপুরে মুক্তিযুদ্ধ তীব্র হয়। দেশীয় দোসরদের সহায়তায় পাক বাহিনী সাধারণ নিরীহ জনগণকে ধরে এনে বধ্যভূমি সংলগ্ন নদীর ঘাটে বেঁধে গুলি করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। লাশের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম বাবলুকে  জাঙ্গালিয়া নদীর পাড়ে গর্ত করে জীবন্ত মাটি চাপা দেয় হানাদাররা। ১৯৭১ সালের এই দিনে এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে রাজাপুর থানাকে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরমুক্ত করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন ৯নং সেক্টরের অন্যতম সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহজাহান ওমর বীরোত্তম  খেতাবে ভূষিত হন। ওইদিনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও হোসেন আলী নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন কমপক্ষে বিশজন মুক্তিযোদ্ধা। তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধে রাজাপুর থানা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন কেরামত আলী আজাদ। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন চালায়, শুরু হয় গুলি-পাল্টা গুলি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদেও সাথে রাতভর যুদ্ধের পরে হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ২৩ নভেম্বর সকালের দিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। রাজাপুর থানা ছিলো বরিশাল সাব সেক্টরের অধীনে। সাব সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর। উপজেলার কানুদাসকাঠিতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি তৈরি করেন । রাজাপুর থানায় সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে তিনিও এ যুদ্ধে অংশ নেন এবং সে দিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার ফলে এ অঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত হয়েছিলো রাজাপুর। দেড় যুগ ধরে প্রতি বছর এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে রাজাপুর প্রেসক্লাব। দিবসটি উপলক্ষ্যে  বুধবার সকালে  রাজাপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে  মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানোর জন্য এক  আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা ঘাটের বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রাজাপুরে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করা হয়। সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরের বাড়ির সামনের বধ্যভূমিতে আরও প্রায় ২০০ লোককে হত্যা করা হয়। এছাড়াও শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়ায় ২০১০ সালে দুইটি গণকবর পাওয়া যায়। যার একটি থেকে অনেক মানুষের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার হয় এবং সাতুরিয়ার তারাবুনিয়া গ্রামে একটি (অখননকৃত) গণকবরের সন্ধান দেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT