২৪ লাখ গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ২৪ লাখ গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড - ajkerparibartan.com
২৪ লাখ গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

3:22 pm , November 22, 2022

শতভাগ বিদ্যুতায়িত দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকা
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধিভূক্ত ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকের ঘর আলোকিত করার মাধ্যমে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যে গত কয়েক বছরেই প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের  ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার ৪ হাজার ৭৭২টি গ্রামের শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবি। ফলে নিকট অতীতে সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়ে পড়া গ্রামাঞ্চল এখন গভীর রাত পর্যন্ত সাধারন মানুষের পদচারনায় মুখর থাকছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে নানামুখী কুটির শিল্প গড়ে উঠছে পল্লী এলাকায়। ঘুরছে অর্থনীতির চাকা। কৃষির পাশাপাশি নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গ্রামাঞ্চলে বেকার সমস্যাও অনেকাংশে লাগব করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এমনকি নদ-নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে নদীর তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে মূল সাব-স্টেশন থেকে ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও .০৪ কেভি লাইনের মাধ্যমে সুদূর পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার পরেও দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গড় সিষ্টেম লস ১০%-এর নিচে।
ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, কুয়েত উন্নয়ন তহবিল,জাপান উন্নয়ন সংস্থা ও মার্কিন সাহায্য সংস্থাসহ কয়েকটি দাতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সারাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ সবিধা পৌঁছে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। বোর্ডের আওতাধীন ৭০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এখন গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। যার প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকই দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায়। আগামী জুনের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ২৫ লাখ অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯৭৭ সালে গঠিত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ওই বছরই ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিÑ১’এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের সূচনা করে। সেখান থেকে এখন সারা দেশের পল্লী এলাকায় প্রায়  দুই কোটি গ্রাহকের ঘর আলোকিত করেছে ৭০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
দক্ষিণাঞ্চলে ১৯৮২ সালের ৮ মে সর্ব প্রথম পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার পরিচালন কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে ক্রমান্বয়ে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিÑ১ ও ২ এবং পটুয়াখালী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ভোলা ও ঝালকাঠী জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ইতিমধ্যে ৩৩ কেভি, ১১ কেভি এবং এলটিসহ ৫৭ হাজার কিলোমিটার লাইনের সাহায্যে প্রায় ৩৮৫টি ইউনিয়নের ৫ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহ করছে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। এ অঞ্চলের প্রায় ২৪ লাখ গ্রাহকের জন্য ৯৫৭ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন ৭০ টি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে পিক আওয়ারে গ্রাহকদের কাছে ৪৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো।
তবে সেচ, বানিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকের অভাবে আবাসিক গ্রাহক নির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো মুনাফা অর্জন করতে না পরায় আর্থিক ভীত অনেক নড়বড়ে। সরকারী নির্দেশনার আলোকে দেশের মুনাফা অর্জনকারী সমিতিগুলোর কাছ থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অর্থিক ভর্তুকিতে এসব লোকাসানী সমিতিগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এমনকি এ অঞ্চলের ২৪ লাখ গ্রাহকের ২১ লাখ ২০ হাজারই আবাসিক। এসব আবাসিক গ্রাহককে সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে অনেকটা পাইকারী ক্রয় মূল্যেই। ফলে মুনাফা দূরের কথা অব্যাহত লোকসানেই সমিতিগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা ধরে রাখতে হচ্ছে। সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে সেচ গ্রাহকের সংখ্যা দেড় হাজারেরও কম। শিল্প গ্রাহকের সংখ্যাও হাতে গোনা। বানিজ্যিক সহ অন্যান্য গ্রাহকের সংখ্যা ২ লাখের কিছু বেশী। ফলে এসব সমিতি যুগের পর যুগ লাভের মুখ দেখছে না।
সরকারী নীতিমালার আলোকে দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিই বছরের পর বছর লোকসান গুনে ২৪ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দক্ষিণাঞ্চলে আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি কৃষি-সেচ ব্যবস্থা বিদ্যুতায়নে গুরুত্বারোপ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিবীদরা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, লাগাতার লোকাসানী সমিতিগুলোর অস্তিত্ব রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার পাশাপপাশি কৃষিÑসেচ ব্যবস্থাকে বিদ্যুতায়নের বিকল্প নেই।
কৃষি সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর ২০০২Ñ০৩ সাল থেকে সরকার ২০% ভর্তুকি প্রদান করে আসলেও বিষয়টি এ অঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষকেরই অজানা। এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ব্লক সুপারভাইজার ও পল্লী বিদ্যুতের তরফ থেকেও কৃষক ও কৃষি জীবীদের বিষয়টি অবহিত না করায় এ অঞ্চলের কৃষি সেচ গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে না বলেও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণে অব্যাহত লোকাসানের মধ্যেও সরকার নিজস্ব তহবিলে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ক্ষমতা বর্ধন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের  ৩০ জুনের মধ্যে ১ হাজার ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকার এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হবে বলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT