আজ সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র জন্মদিন আজ সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র জন্মদিন - ajkerparibartan.com
আজ সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র জন্মদিন

3:48 pm , November 18, 2022

বেলায়েত বাবলু ॥ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ঠে যিনি ব্যথিত হয়ে সর্বস্ব দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সেই মানবতার ফেরিওয়ালা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর আজ ১৯ নভেম্বর জন্মদিন। এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল জেলার একজন রাজনীতিবিদ এবং বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পিতা বরিশাল-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মাতা সাহান আরা আব্দুল্লাহ উভয়ই রাজনীতিবিদ।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ জননী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম ২০২০ সালের ৭ জুন ইন্তেকাল করেন।সাদিক আবদুল্লাহর দাদা আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভগ্নীপতি ও তাঁর আমলের ভূমি প্রশাসন, ভূমি সংস্কার ও ভূমি রাজস্ব ও বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী।সাদিক আবদুল্লাহর স্ত্রী লিপি আব্দুল্লাহ। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতিক নিয়ে ২০১৮ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৯ সালে সর্বশেষ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় সাদিক আবদুল্লাহ তার জীবদ্দশায় নানা ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করে আজ নিজেকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। মাত্র দেড় বছর বয়সে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিলো তাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে যখন নির্বিচারে হত্যা চালানো হয়েছিল তখন সাদিক আবদুল্লাহ ছিলেন তার মমতাময়ী মায়ের কোলে। আগস্ট ট্রাজেডির পর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সাদিক আবদুল্লাহকে যাযাবর জীবনযাপন করতে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেখান থেকে দেশে ফেরা, আবার আমেরিকায় গিয়ে প্রবাস জীবনযাপন এতো কিছুর মধ্যেও ধৈর্য্য হারাননি তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাদিক অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন আর অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে তিলে তিলে নিজেকে তৈরি করেছেন।সক্রিয় রাজনীতিতে তার যুক্ত হওয়ার সময় খুব বেশী না হলেও এই কম সময়েই তিনি নিজেকে আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আজ তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের জন্য একজন অপরিহার্য্য নেতা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন প্রয়োজনে তিনি সহায় সম্বল বেচে দেবেন, তারপরও সংগঠনের কোন নেতাকর্মীকে বিনা চিকিৎসায় অথবা না খেয়ে মরতে দেবেন না। অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মন জয় করে তিনি যেমন দলে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন, তেমনি গরিব মানুষসহ সকলের সাথে সহজভাবে মিশে তিনি হয়ে উঠেছেন গণমানুষের একজন। সাদিক আবদুল্লাহ নিজেকে নগর পিতা নয় একজন সেবক হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেন। মেয়র হিসেবে আজ নগরীর সর্বোচ্চ আসনে আসীন হলেও তিনি সবসময় থাকতে চান জনতার কাতারে। ওয়াক্তের নামাজ অথবা জানাজা নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি কখনো সামনের কাতারে দাঁড়ান না। তার মতে প্রধানমন্ত্রী দেরিতে গিয়েও সামনের কাতারে বসাকে অপছন্দ করেন। তাই তিনি এ থেকে বিরত থাকেন। মুক্তা পানি খাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেদিন আহবান জানিয়েছেন সেইদিন থেকে তিনি ওই পানি ব্যবহার করছেন। সাদিক আবদুল্লাহ বয়স্কদের যেমন সম্মান করেন, তেমনি ছোটদের স্নেহ করেন। মেয়রের মতে আগে নেতাকে নয় মা-বাবাকে সম্মান করো। মুরুব্বিদের সম্মান করো। কারন সম্মানিত ব্যক্তি সম্মান না পেলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। বরিশাল সফরে এসে মেয়রর আদব কায়দা আর কর্মতৎপরতা দেখে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বরিশালবাসীকে সাদিক আবদুল্লাহ’র পাশে থাকার আহবান জানিয়ে বলেছিলেন, ওর (সাদিকের) শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, ও বেইমানী করবে না। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সাদিক আবদুল্লাহ যেমন সেখানে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন, আবার তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হয়েছেন মানবিকও। তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়িয়েছেন। অনিয়মিত সকল কর্মচারীর জন্য চালু করেছেন বোনাস। মাসের প্রথম সপ্তাহেই পরিশোধ করা হচ্ছে বেতন। চাকুরি শেষে অবসর যাওয়ার পর যাবতীয় সকল সুবিধা পাওয়ার স্বপ্ন কেউ কখনো দেখেননি। কিন্তু সাদিক আবদুল্লাহ দাবি করার আগেই অবসরে যাওয়া ৪৬ জন স্টাফকে একসাথে তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে বিসিসির ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছেন। নগরীর সিনিয়র সিটিজেন ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের জন্য নগর ভবনে একটি হেল্প ডেক্স চালু করেছেন প্রথমবারের মতো।বয়সে নবীন এই মেয়র সকলকে সাথে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন আগামীর বরিশাল গড়ার। তাদের কিভাবে ভালো রাখা যায় এই ভাবনা ভাবতে তিনি স্ত্রীসহ সন্তানদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মেয়র বরিশালের জনগণকে তার পরিবারের সদস্য মনে করে প্রায়শই বলে থাকেন জনগনের ভালবাসা ত্যাগ করা যায় না বলেই তিনি সংসারের মায়া অনেকটাই ত্যাগ করেছেন। এ কারনে কোন ক্ষোভও হয়তো নেই প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনী লিপি আবদুল্লাহ’র। আদরের তিন সন্তান পিতা সাদিক আবদুল্লাহ’র স্নেহ ভালবাসা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। ধর্মভীরু সাদিক আবদুল্লাহ নামাজ পড়া নিয়ে যেমন মিথ্যাচার না করতে আহবান জানিয়েছেন, তেমনি কর্মীরা সালাম দিলে তার উত্তর দেয়ার জন্য নিজ সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। পিতার মতোই তিনিও অলি আউলিয়া, পীর মাশায়েকদের ভক্তি শ্রদ্ধা করেন। সময় পেলই ছুটে যান তাঁদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। মেয়র ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়িকে মোটেও পছন্দ করেন না। প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ সেটাকে মর্ম বাণী হিসেবে মানেন সাদিক। তিনি ইমামদের জন্য ইমাম ভবন নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ভবন নির্মান কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ইমামদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছেন। আবার গত বছর থেকে মহানগরীর পূজা মন্ডপগুলোতেও অনুদানের অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের নিয়মিত অর্থ সহায়তা প্রদান করে থাকেন। শিশু মনের মানুষ সাদিক আবদুল্লাহ শিশুদের ভীষণ পছন্দ করেন। শিশুবান্ধব নগরী গড়ার জন্য তিনি কাজ করছেন। উৎসবের সময় নতুন পোশাক নিয়ে ছুটে যান এতিমখানাসহ দুস্থ শিশু নিবাস কেন্দ্রগুলোতে। শিশুদের জন্য একটি পার্ক সংস্কারের পাশাপাশি নগরীতে গড়ে তুলেছেন আরেকটি শিশু পার্ক। ঘোষণা দিয়েছেন নগরীর পাড়া মহল্লায় মিনি পার্ক নির্মাণের। মিডিয়াবান্ধব সাদিক আবদুল্লাহ গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যাপক মূল্যায়ন করে থাকেন। তিনি মনে করেন রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা একে অন্যের পরিপূরক। কারন সাংবাদিকরা লিখনীর মাধ্যমে জনগণের ভালমন্দ তুলে ধরেন। আর রাজনীতিবিদরা জনকল্যাণের জন্য রাজনীতি করেন। সংস্কৃতিপ্রেমী সাদিক আবদুল্লাহ তার মায়ের মতো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পছন্দ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাদিক প্রায়ই বলে থাকেন, একজন বিবেকহীন শিক্ষিত লোকের চেয়ে একজন দেশপ্রেমিক অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা অনেক ভালো। আর সে কারনেই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছেন। মেয়র হওয়ার আগেই নগরী থেকে মদ, জুয়া, হাউজিসহ অপকর্ম উৎখাত করতে সক্ষম হওয়া সাদিক মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে বলেছেন, কোন মাদক কারবারীকে ছাড় দেয়া হবে না। আসলে শতভাগ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাদিক আবদুল্লাহ একজন মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকতে চান। সস্তা জনপ্রিয়তা নয়, তিনি নগরীর টেকসই উন্নয়নের মতোই মানুষের কাছ থেকে টেকসই ভালবাসা আশা করছেন। তিনি তার উপর ভরসা রাখার কথা বলেন। তিনি দুর্যোগে নগরবাসীর জন্য হাটু সমান পানিতে নামতে পারেন। করোনা কালীন সময়ে তিনি বরিশাল নগরীর প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ পৌঁছে দিয়েছেন।উৎসবে ঘরে ফেরা মানুষকে নির্বিঘেœ যাতায়াতের জন্য যেমন ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করে তাদের জন্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন তেমনি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে ফ্রি বাস সার্ভিস পরিচালনা করেছেন। নগর উন্নয়নে তেমন কোন অর্থ বরাদ্দ না পেলেও তিনি নিজ উদ্যোগী হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক নির্মান, সংস্কার, বর্ধিত কয়েকটি এলাকায় পানির সংযোগের ব্যবস্থা করেছেন।তার সময়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্মুখে দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ম্যুরাল নির্মান করা হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ মাঝেমধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে বলেন, ঘাতকের ছোড়া বুলেটের আঘাতে বড় ভাই সুকান্ত বাবুর মতো তিনিও প্রান হারাতে পারতেন। হয়তো ১৫ আগস্টের শহীদদের ছবির পাশে তার ছবিও স্থান পেতে পারতো।কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রানে বেঁচে গিয়েছিলেন।সাদিক আবদুল্লাহ বলেন,হয়তো মানুষের সেবা করার সুযোগ দানের জন্যই মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।তিনি বলেন, যতো দিন এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি ততোদিন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। আজ জন্মদিনে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের ভালবাসায় সিক্ত হবেন তিনি। দুই বছরের বেশী হলো মায়ের স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত সাদিক আবদুল্লাহ হয়তো জনতার শুভেচ্ছা আর ভালবাসায় সিক্ত হলেও একাকী আজকের দিনটাতে তার মমতাময়ী মাকে স্মরণ করবেন। যে মা তাকে শুধু গর্ভেই ধারণ করেননি। পরম যতেœ বড় করেছেন, বিশেষ করে শত্রুর বুলেটের মধ্যে পড়ে নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও রক্তে ভেজা বুকের মধ্যে শিশু পুত্র সাদিক আবদুল্লাহকে আগলে রেখেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT