মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি - ajkerparibartan.com
মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

3:31 pm , November 10, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারী বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে মাছের খাদ্যে ক্ষতিকর মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন অধিকাংশ মৎস্য খামারীরা। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ফলে অনেকেই চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। সরেজমিন গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুকুর এবং ঘেরের উপরে লেয়ার এবং পোল্ট্রি মুরগীর খামার তৈরি করে মাছ চাষ করছেন খামারীরা। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগীর বিষ্ঠা যা স্থানীয় ভাষায় লিটার হিসেবে প্রচলিত তা খামারীদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রাণী সম্পদ কিংবা মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তরের কোন মনিটরিং না থাকায় মুরগীর বিষ্ঠা ক্ষতিকর জেনেও তা ব্যবহার করছেন মৎস্য খামারীরা।
একাধিক মৎস্য খামারীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পূর্ব থেকেই যদি মুরগীর বিষ্ঠার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে খামারীদের সাথে আলোচনা করতো তবে অনেক খামারী মাছের খাদ্য হিসেবে বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করে দিতো। মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারনে অনেক চাষী বিষ্ঠা ব্যবহার করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, দেশের প্রতিটা উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাছ চাষীদের নিয়ে উদ্ধুদ্ধকরণ সভা করে বিষ্ঠার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলে বিষ্ঠার ব্যবহার রোধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ ব্যাপারে শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মাহাবুব আলম মির্জা বলেন, মুরগীর খাবারে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগীর মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানব দেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য মাছের খাবার হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাসার জানান, মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খামারে ব্যবহার করলে পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হয়। পাশাপাশি ওই মাছ মানুষ খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধে খামারীদের সচেতন করা হচ্ছে। কিন্ত খামারীরা আইন না মেনে অজ্ঞতাবশত মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, মুরগীর বিষ্ঠা সরাসরি মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে খামারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা দিয়ে কম্পোষ্ট তৈরি করার পর ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি নেই। মাঠ পর্যায়ের উঠান বৈঠকে মুরগীর বিষ্ঠা মৎস্য খামারে ব্যবহার বন্ধে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT