তের পাতায় কষ্টের কথা লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা তের পাতায় কষ্টের কথা লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা - ajkerparibartan.com
তের পাতায় কষ্টের কথা লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

3:06 pm , November 2, 2022

 

মো. জসিম জনি, লালমোহন ॥ ‘আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যাতে পরপারে ভালো থাকতে পারি। সবার মতো আমিও সুন্দর একটা জীবন নিয়ে সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু এই সমাজ আমাকে বেঁচে থাকতে দিলো না। মিথ্যা কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে ইচ্ছে করে না। বাবা-মা স্বামীর সম্মানের দিকে তাকিয়ে কখনো কোন পর পুরুষের সাথেও কথা বলি নাই, নিজের চরিত্রকে খারাপ করি নাই। কিন্তু আজ আমি চুরি না করেও চোর সবার মুখে মুখে’।
মৃত্যুর আগে শ^শুর বাড়ির লোকজনের অনেক যন্ত্রণা আর অপবাদ লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে নিজের হাতে ডায়েরির পাতায় এমন কষ্টের কথাগুলো লিখে গেছেন গৃহবধূ রতœা। রোববার রাতে লালমোহনের চরভূতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাহাবুব চৌকিদার বাড়িতে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন চুরির অপবাদ সইতে না পেরে জান্নাতুল ফেরদৌস রতœা (২৫) নামের গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। গৃহবধূ রতœা ওই বাড়ির মো. লিটনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।
রতœার বাবা লালমোহন বাজারের ব্যবসায়ী এবং পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, তার মেয়ে স্বামী বাড়িতে সুখেই ছিলো। জামাই লিটন তার আপন ভাগ্নে হয়। কিন্তু কিছুদিন আগে রতœার চাচা শ^শুর স্থানীয় নাম মো. হাফিজুর রহমান তার পরিবার নিয়ে ভারত থেকে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসে। ভারতে তিনি বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়ে সন্তোষ দে নামে বসবাস করেন। তিনি নিজেদের সাথে থাকা স্বর্ণালংকার রতœার কাছে জমা রাখেন। ওই ঘর থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন চুরি হয়। এই চুরির অপবাদ চাচা শ^শুর রতœার উপর দেন।
রতœার বাবা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত মানসিকভাবে অত্যাচার করে তার চাচা শ^শুর ও বাড়ির অন্যান্য স্বজনরা। অপমান, লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে রতœা ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে।
মৃত্যুর আগে রতœা তার কষ্টের কথাগুলো লিখে গেছেন ডায়েরির নোটে। রতœা লিখেন, “বাবা আমার অনুরোধ আমার স্বামীকে বাদে বাকি কেউরে ছাড় দিবানা, ওরা সবাই মিথ্যেবাদি। আমার চাচা শ^শুর ওরা সবাই নাটের গুরু। ওরা সবাই আমার নামে মিথ্যে অপবাধ রটাইছে। আমি কতটা বিশ্বাসী আর সৎ ছিলাম সেটা আমার আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। একটা মানুষের জীবন ছাড়া প্রিয় আর কি হতে পারে!! আমি আমার জীবনের বিনিময়ে বলছি আমি চুরি করি নাই। এখন তোরা খুশী, সবাই খুশীই থাক। আমি চলে গেলাম কেউ আর তোদের সাথে সত্যের প্রতিবাদ করবেনা। আর বেশি কিছু লিখলাম না। অনেক কথা বলার ছিলো সমাজকে, এই সমাজে ভালো মানুষের মূল্য নাই। সবার কাছে একটা অনুরোধ রইলো আমার মেয়ে দুজনকে দেখিয়েন। ওদের জন্য আমার কতটা কষ্ট হয় বলে বুঝাতে পারবো না। মা ছাড়া কতটা অবহেলিত সন্তান সেটা যার মা নাই সে বুঝে – বাবা মা পারলে ওদের খেয়াল নিও, না পারলে জোর নাই।”
এভাবে ডায়েরির ১৩টি পাতায় আরো অনেক লেখা লিখে গেছেন রতœা। স্বামীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, দুই মেয়ের উদ্দেশ্যে লিখেছেন। নিজের দাফন কোথায় করবে সেটাও লিখেছেন। ডায়েরিটি রতœার স্বামী লিটনই ঘর থেকে উদ্ধার করেন। তবে ডায়েরিতে ৮টি পাতা ছেড়া পাওয়া গেছে।
স্বামী লিটনও তার স্ত্রীকে যারা অপবাদ দিয়ে মেরেছে সেই চাচাদের বিচার চান। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার চাচারা অনেক গালিগালাজ করেছে। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রতœার লাশ ময়না তদন্ত করে আনা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT