দুই দিনে বরিশাল মোকামে এসেছে প্রায় ৫’শ মন পাঙ্গাস দুই দিনে বরিশাল মোকামে এসেছে প্রায় ৫’শ মন পাঙ্গাস - ajkerparibartan.com
দুই দিনে বরিশাল মোকামে এসেছে প্রায় ৫’শ মন পাঙ্গাস

2:58 pm , October 30, 2022

হেলাল উদ্দিন ॥ ‘নদীর পাঙ্গাস’ একদিকে যেমন মানুষের কাছে কাঙ্খিত একটি মাছ তেমনি অনেকটা দুর্লভ মাছ বটে। বছরের সব সময় কিংবা যত্রতত্র ধরা পড়ে না এই মাছটি। মাছটি ধরার জন্য জেলেদের পাঙ্গাস স্পেশাল কোন জাল নেই। ইলিশের জালেই সাধারনত ধরা পড়ে মাছটি। তবে বেশীর ভাগ পাঙ্গাস ধরা পড়ে বড়শিতে। মা ইলিশ নিধনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর জেলেদের জালে ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে ঝাকে ঝাকে পাঙ্গাস। জেলেরা বলছেন বিগত ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের পাঙ্গাস। তাদের দাবী এত পাঙ্গাস বিগত ২৫ বছরে ধরা পড়েনি। মৎস্য বিভাগ বলছে ইলিশের জালে নদীতে এত পরিমান পাঙ্গাস ধরা পড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। মূলত এটা মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ফসল। এক কাজে দুই কাজ হয়েছে। ইলিশ রক্ষা করতে গিয়ে পাঙ্গাসও রক্ষা হয়েছে। যার ফলে এত পরিমান পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। তথ্য বলছে নিষেধাজ্ঞার পর গত দুই দিনে বরিশাল মোকামে অন্তত ৫’শ মন পাঙ্গাস এসেছে। যা প্রায় সবই ধরা পড়েছে স্থানীয় বিভিন্ন নদ নদী থেকে। ওজনে এসব মাছ সর্ব নি¤œ ৫ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত। শুধু পাঙ্গাস নয় মোকামে এসেছে রেকর্ড পরিমান ইলিশ। দুই দিনে প্রায় ৮’শ মন ইলিশ এসেছে বরিশাল পোর্ট রোডের মোকামে। জেলেরা বলছেন আরো কয়েকদিন পূর্নিমা পর্যন্ত নদ নদীতে পাঙ্গাস ও ইলিশ ধরা পড়বে। তবে নদীর তুলনায় সাগরে বর্তমানে কম ইলিশ ধরা পড়ছে। আর সাগরে অবস্থানরত জেলেদের জালে কোন পাঙ্গাস ধরা পড়ছে না বলেও জানিয়েছেন জেলেরা। বরিশাল পোর্ট রোড মৎস ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য জহির সিকদার বলেন, খবর এসেছে সাগরে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। আর পাঙ্গাস নেই বললেই চলে। কিন্তু ভিন্ন চিত্র স্থাণীয় নদ নদীর ক্ষেত্রে। এসব নদীতে ও সাগর মোহনায় সমান তালে ইলিশ ও পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। জহির বলেন, গত বছরও এই সময়ে প্রচুর পাঙ্গাস ধরা পড়েছে। তবে দুই দিনের চিত্র বলছে গত বছরের চেয়েও এবার বেশী পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। কারন এবার দুই দিনে প্রায় ৫’শ মন পাঙ্গাস এসেছে মোকামে। যা গতবার আসেনি। তিনি বলেন এই সময়ে শীত মৌসুমের প্রথম তথা নতুন শিশির পড়া শুরু করে। আমরা যতদুর জানি শিশির পাঙ্গাসের প্রিয় একটি খাবার। শিশির খাওয়ার জন্য পাঙ্গাস স্থাণীয় নদ নদীতে চলে আসে। তবে এর সাথে একটু যুক্ত করে ব্যতিক্রম ব্যাখ্যা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। জেলার মৎস কর্মকর্তা ( ইলিশ) বিমল চন্দ্র হালদার বলেন, এই সময়ে ইলিশের সাথে পাঙ্গাস মাছও ডিম ছাড়তে উপকূলের নদ নদীতে ও সাগর মোহনায় চলে আসে। যে কারনে ইলিশের সাথে সাথে পাঙ্গাসও ধরা পড়ছে। তিনি বলেন এটা মা ইলিশ রক্ষার অভিযানের সফলতার বাস্তব চিত্র। ২৩ দিন স্থাণীয় নদ নদীতে জেলেরা জাল না ফেরার কারনে ইলিশের সাথে পাঙ্গাস মাছও আসা শুরু করেছে ডিম ছাড়তে। বরিশালের জেলেরা বলছেন, জালে আশানুরূপ ইলিশ না মিললেও পাঙাশ সেই স্থান পূরণ করে দিয়েছে। প্রতিটি জালে প্রতি গোনে ১৫ থেকে ২০টি পাঙ্গাস ধরা পড়েছে। সর্বোচ্চ ২৫ কেজি থেকে সর্বনি¤œ ৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস রয়েছে। তার সঙ্গে বড় বড় সাইজের ইলিশ থেকে শুরু করে জাটকা ইলিশও ধরা পড়ছে। শনিবার সকাল থেকে ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিতি বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে জড়িতদের অলস সময় কাটাতে হয়েছে। সেখান থেকে বের হয়ে ইলিশের সাইজ নির্ধারণ শুরু করে ট্রলার থেকে ইলিশ নামানো এবং মাপ দিয়ে তা বরফজাত করাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। তার মধ্যে বড় বড় সাইজের পাঙাশ সকলের চোখমুখে এনে দিয়েছে বাড়তি আনন্দ। মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করে পোর্ট রোডে ট্রলার নিয়ে আসা জেলে মোজাম্মেল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আগে ভাগেই ট্রলার ছেড়ে নদীতে যান। গত শনিবার র?াত সাড়ে ১১ টার দিকে জাল ফেলেন। ৩ ঘণ্টা পর জাল যখন টান দিচ্ছিলেন তখন ভারে তাদের কাছে মনে হয়েছে জাল ভর্তি ইলিশ। আনন্দে জাল টেনে কাছে আসতেই বড় বড় সাইজের পাঙ্গাশে তাদের চোখে মুখে আনন্দ ফুটে ওঠে। প্রথমবার তাদের এক জালে ছোট-বড় ২২টি পাঙাশ উঠেছে। এর সাথে বড় ও ছোট সাইজের ইলিশও ছিল। তবে যে পরিমাণ ইলিশের আশা করেছিলেন তা ওঠেনি। সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের পাঙাশও পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, তিনবার জাল টেনে ৫৩ পিস পাঙাস তুলেছেন। তবে জালের প্রকার ভেদে অনেকে এর চেয়ে বেশি পাঙ্গাসও শিকার করেছেন। এ মৌসুমে পাঙ্গাস ধরা পড়ার বিষয়টি তারা আগেভাগেই জানতেন। তবে এত পাঙাস উঠবে তা তারা আশা করেননি। ভোলার তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকার শেষে পোর্ট রোডে আসা জেলে কাঞ্চন বলেন, ‘২৫ বছরের ধারণা থেকে বলতে পারি, এত পাঙ্গাস আর কখনও ইলিশের জালে ওঠেনি। গত রাতে আমাদের আশা ছিল জাল ভরে বড় বড় সাইজের ইলিশ উঠবে। কারণ ২২ দিন জাল ফেলা হয়নি। এ কারণে ২২ দিনের ইলিশ রয়েছে নদীতে। কিন্তু আমাদের জালে ইলিশ ওঠেনি, উঠেছে পাঙ্গাস। ইলিশের দুঃখ পাঙাশে ভুলে গিয়েছি বলে এক গাল হাস দিলেন তিনি। তারপর বললেন, ‘আসলেই আমরা অনেক খুশি। যে পরিমাণ ইলিশ জালে ওঠার আশা ছিল, তা না উঠলেও পাঙাশ সে স্থান পূরণ করে দিয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তাছাড়া ইলিশ যে পরিমাণ ডিম ছেড়েছে, তা বড় হতে পারলে আগামী মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাবে বলে ?আশা করছেন তিনি। পোর্ট রোডের ইলিশের আড়তদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মা ইলিশের যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সে সময়টা সঠিক ছিল। তবে সময়টা আরও বাড়ানো দরকার। কারণ নদী থেকে যে ইলিশ আসছে তাতে ডিম রয়েছে। এক মাস সময় বেধে দিলে ওই মাছগুলোও ডিম ছাড়তে পারতো। তারপরও নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি। অপর আড়তদার জহির সিকদার বলেন, ‘আজ জেলে ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দারুণ খুশি। কারণ তারা যে পরিমাণ ইলিশ শিকারের আশা করেছিলেন, তা না না পেলেও পাঙাশ সে জায়গাটা পূরণ করে দিয়েছে। প্রতিটি ট্রলার থেকে ইলিশের সাথে সাথে বড় সড় সাইজের পাঙাশ নামছে। ২শ’ মণের অধিক পাঙাশ এসেছে ?আজ। যা পাইকারী সাড়ে ৩’শ থেকে ৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ অন্য সময় এ মাছের কেজি বিক্রি হতো ৬শ’ ৮শ’টাকা কেজি দরে। তিনি আরও বলেন, ‘আড়াই কেজি থেকে শুর“ করে দুই কেজি ও এক কেজি ওজনের ইলিশসহ জাটকা ইলিশও ধরা পড়েছে। তবে কিছু কিছু মাছের পেটে ডিম পাওয়া গেছে। তবে তার পরিমাণ তেমন বেশি নয়। এ বছর নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে বলে দাবি করলেন এই আড়তদারও। তিনি বলেন ‘দুই কেজি ওজনের ইলিশের মণ ৮০ হাজার টাকা, ১২শ’ গ্রাম ৫০ হাজার, কেজি সাইজের ৪৬ হাজার, রফতানিযোগ্য এলসি সাইজ ৩৮ হাজার এবং ভেলকা প্রতি মণ ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT