ঘূর্ণিঝড় মিলিয়ে গেলেও রেখে গেছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন ঘূর্ণিঝড় মিলিয়ে গেলেও রেখে গেছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন - ajkerparibartan.com
ঘূর্ণিঝড় মিলিয়ে গেলেও রেখে গেছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন

3:23 pm , October 29, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাধ এবং বনসহ নগর ও গ্রামীন যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমান প্রায় ২শ কোটি টাকারও বেশী ক্ষতি হয়েছে। গত সোম ও মঙ্গলবারের এ ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্বাসনে কতদিন সময় লাগবে, তা বলতে পারেছন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু নগরীর রাস্তাঘাটের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্বাসনে শতাধিক কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ঝড়ে সাধারন মানুষের হাজার গাছ পড়ে গেছে। আর  গাছ পড়ে বিপুল সংখ্যক ঘর বাড়ীরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে হিসেব টাকার অংকে কেউ করেনি। অপর দিকে দুর্বল পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে এ নগরীর রাস্তাঘাট প্লাবনমুক্ত হতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ দিন। মাঝারী মাত্রার এ ঝড় প্রতিহত করতে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে উপকূলীয় বনভূমিও। একইভাবে উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ সহ দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার মাঠে থাকা প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার হেক্টর ফসলের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ঝড়ের ক্ষতির কবলে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরমধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান মারাত্মক প্লাবনের শিকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই দু একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত ক্ষতির হিসেব মন্ত্রনালয়ে জানাবে । তবে বাস্তবে প্লাবিত জমির পরিমান লক্ষাধিক হেক্টরেরও বেশী বলে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। আমন বাদেও মাঠে থাকা বিভিন্ন ধরনের সবজি, পান, কলা ও পেপে বাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে সিত্রাং-এ ভর করে প্রবল বর্ষণসহ স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতার জোয়ারে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য সেক্টরেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৭ কোটি টাকা বলে জানানো হলেও মৎস্য চাষী ও মৎস্যজীবীদের মতে, ভেসে যাওয়া মাছ ও মাছের পোনা  এবং অবকাঠামোসহ দক্ষিণাঞ্চলে মৎস্য সেক্টরে ক্ষতির পরিমান শতাধিক কোটি টাকা। সিত্রাং-এর প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশী পুকুর, দিঘি ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়। এছাড়াও ৫৫টি মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে এঅঞ্চলে কোন জেলের মৃত্যু বা নিখোঁজের খবর নেই।  বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে  পোনা ছাড়াও মাছ ভেসে যাওয়ায় এ অঞ্চলের  অনেক মৎস্যজীবী সর্বশান্ত হয়ে গেছে। মৎস্য সেক্টরে বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীতেই সর্বাধিক পরিমান ক্ষতি হয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে প্রাণি সম্পদ সেক্টর থেকেও যথেষ্ট দু:সংবাদ পাওয়া গেছে। সিত্রাং-এর তান্ডবে দক্ষিণাঞ্চলের ৪২ উপজেলার ২০৯টি ইউনিয়নে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগির খামারের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মতে প্রায় ৩৪ হাজার গরু, ১০ হাজার মহিষ, ২৮ হাজার ছাগল এবং ২ হাজার ভেড়া ছাড়াও প্রায় আড়াই লাখ মুরগী ও ৯০ হাজার হাঁস দুর্যোগের শিকার হয়েছে।  ঝড়ের  বিপর্যয়ের শিকার এসব প্রাণির মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭ হাজার মুরগী ও আড়াই হাজার হাঁস ছাড়াও আড়াইশরও বেশী মহিষ, ৪২টি গরু, ১৩০টি ছাগল ও ৮০টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার হেক্টর চারনভূমি প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণি সম্পদ সেক্টরে দ্বীপ জেলা ভোলাতেই ক্ষতির পরিমান সর্বাধিক। সিত্রাং-এ ভর করে আসা ঝড় জলোচ্ছাসে দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণিসম্পদ সেক্টরে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশী বলে জানিয়েছেন হাঁস-মুরগী ও গবাদিপশুর খামারীরা।
এ ঝড়ে পল্লী অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলজিইডি এবং জেলা ও উপজেলা পরিষদ এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব করছে। তবে এ সেক্টরেও ক্ষতির পরিমান ব্যাপক বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং দুর্বল হয়ে ভোলা-হাতিয়া ও সন্দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানলেও তাকে প্রথমেই প্রতিহত করতে গিয়ে উপকূলীয় বনাঞ্চলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগের উপকূলীয় বন অঞ্চল থেকে প্রাথমিক যে প্রতিবেদন তৈরী করেছে তাতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৭ কোটি বলে জানা গেছে।  দেশের ৭১০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর বনভূমি সৃজন করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক ঘূর্ণিঝড় প্রতিহত করতে গিয়ে সুন্দরবন সহ উপকূলীয় লবনাম্বুজ বনভূমি বার বারই ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। এরপরেও  এসব বনভূমিই যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিহত করতে ‘প্রকৃতির ঢাল’ বা ‘রক্ষা কবজ’ হিসেবেই কাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT