ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ দুর্বল হয়ে ভোলা-সন্দ্বীপ উপকূল অতিক্রমকালে ৩ জনের মৃত্যু ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ দুর্বল হয়ে ভোলা-সন্দ্বীপ উপকূল অতিক্রমকালে ৩ জনের মৃত্যু - ajkerparibartan.com
ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ দুর্বল হয়ে ভোলা-সন্দ্বীপ উপকূল অতিক্রমকালে ৩ জনের মৃত্যু

3:05 pm , October 25, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ উপকূলের কোটি মানুষকে সোমবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দুর্যোগ দুর্ভাবনায় রেখে ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ ভোলা ও হাতিয়াÑসন্দ্বীপের মধ্যবর্তী মেঘনা উপকূল হয়ে স্থলভাগ অতিক্রমের মধ্যেই দুর্বল হয়ে গেছে। স্বস্তি ফিরেছে উপকূলের কোটি মানুষের মাঝে। প্রায় ৬০Ñ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের দেয়াল ও গাছ চাপা পড়ে ভোলা ও বরগুনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভোলার দৌলতখান ও চরফ্যাশনে দুজন এবং বরগুনায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হেক্টর জমির আমন ধান এখন পানির তলায়। প্লাবিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ হেক্টর পুকুর, দীঘি ও ঘেরের মাছ। বরিশাল মহানগরীর ৭৫ ভাগ এলাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ জনপদ এখনো পানির তলায় । সাগর মাঝারী মাত্রায় উত্তাল রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার প্রায় ৩ হাজার আশ্রয় কেন্দ্রে কম-বেশী ৫ লাখ মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা ঘরে ফিরেছেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীÑসিপিপি’র প্রায় ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলে সতর্ক বার্তা প্রচারসহ লাখ লাখ মানুষ এবং লক্ষাধিক গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে ব্যাপক তৎপর ছিলেন।
‘সিত্রাং’ সোমবার বিকেলের দিকে গতিপথ আরো পরিবর্তন করে পূর্ব ও উত্তরÑপূর্ব দিকে ভোলা ও হাতিয়াÑসন্দ্বীপের মধ্যবর্তী মেঘনা উপকূলে এগুতে থাকলে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা ও বাগেরহাট এলাকার আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। পাশাপাশি মেঘনায় ভোলা ও সন্দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানার সাথেই মাঝারী মাত্রার এ ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ দুর্বল হয়ে ভূমিতে উঠে যায়।
বরিশাল থেকে ভোলাসহ উপকূলের কিছু এলাকায় সোমবার রাতটিকে যেভাবে ভয়াল  আতংকের বলে আশংকা করা হয়েছিল সন্ধ্যার পরেই সে চিত্র পরিবর্তন হতে শুরু করে। কারণ বিকেল থেকেই সিত্রাং দ্রুত দিক পরিবর্তন করে আরো পূর্বে ঘুরে ভোলা ও সন্দ্বীপ উপকূলে এগুতে শুরু করে। রাত দেড়টায় আবহাওয়া বিভাগের ১২ নম্বর বুলেটিনে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রমের কথা জানিয়ে তা ক্রমশ দুর্বল হবার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত ৩ নম্বরে নামিয়ে আনা হয়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব নদী বন্দরগুলোতেও সতর্ক সংকেত নামানোর নির্দেশ দেয়ায় দুপুর ১২টার দিকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বরিশাল বিমান বন্দরে ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক হয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে।
সিত্রাং গতি পরিবর্তন করায় বরিশাল,পটুয়াখালী,পিরোজপুর ও ঝালকাঠীতে সোমবার রাত ৮টার মধ্যেই বৃষ্টিপাত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সারারাত আর তেমন ঝড়-বাদল না হলেও দক্ষিনাঞ্চলের বেশীরভাগ একাই ছিল বিদ্যুৎ বিহীন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় বরিশালে সোয়া ৩শ মিলিমিটার এবং সাগর পাড়ের খেপুপাড়ায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির তলায়। তবে দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো নদীর পানি এখন বিপদসীমার ওপরে  প্রবাহিত হলেও বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হয়নি।
তিন দিন পরে মঙ্গলবার সকাল ৮টা দুই মিনিটে বরিশাল মহানগরীতে সূর্য হাসি ছড়ালেও দুর্যোগের আতঙ্ক কাটিয়ে একটি সুন্দর দিনের সূচনায় দক্ষিণাঞ্চলবাসী অনেকটাই প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
তবে গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হেক্টর জমির আমন ধান এখন পানির তলায়। অতি দ্রুত পানি সরে না গেলে এবার দক্ষিণাঞ্চল থেকে যে ১৫ লাখ টন আমন চাল পাবার লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রনালয়, তা দুরাশায় পরিনত হতে পারে বলে শংকিত কৃষিবীদরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ কর্মীদের দ্রুত এলাকায় খোঁজ খবর নেয়াসহ কৃষকদের সব ধরণের কারিগরি পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। অপর দিকে দক্ষিনাঞ্চলের ৪২টি উপজেলার প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার পুুকুর ও দীঘিসহ বিপুল সংখ্যক ঘের প্লাবিত হওয়ায় লাখ লাখ মাছ ও পোনা ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। মাছে উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫৪.৬০ লাখ হেক্টর জলাশয়ে বছরে ৮ লাক্ষাধিক টন মাছ উৎপাদন হয় বলে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।
এদিকে সোমবার দিনভরই বরিশাল মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। রাতভর চেষ্টা করেও অনেক এলাকায় আলো দিতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT