শ্মশান দিপালী উৎসবে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা শ্মশান দিপালী উৎসবে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা - ajkerparibartan.com
শ্মশান দিপালী উৎসবে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা

3:18 pm , October 23, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নগরীর মহা শশ্মানে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপমহাদেশের বড় শ্মশান দীপাবলি  উৎসব। রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট থেকে ভুত চতুদর্শীর পূন্য তিথী শুরু মাধ্যমে এ উৎসবের শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ৫ টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। দিনটি পালনে প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় পূজা-অর্চনা করা হয়েছে। প্রয়াতদের আত্মার শান্তির জন্য স্বজনরা শশ্মানের মঠে  মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে। এ সময় প্রয়াতদের প্রিয় খাবার পরিবেশন করা হয়। নিরবতা পালন করে তা আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
স্বজনরা মনে করেন প্রয়াতদের সমাধিতে পূজা অর্চনা করলে তাদের আত্মা শান্তি পায়। পাশাপাশি এসময় অনেকেই মৃতদের পছন্দের খাবার সমাধীতে রেখে উৎসর্গ করা হয়। তাই স্বজনদের সমাধিতে কেউ মোমবাতি, প্রদীপ প্রজ্বলন করেন, আবার কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির পছন্দের খাবার দিয়ে নৈবেদ্য সাজিয়ে স্মরণ এবং আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এদিকে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা যারা দেশে থাকেন না। সেসব মৃত ব্যক্তিদের সমাধিগুলোকে কমিটির পক্ষ থেকে আলাদা রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাধিগুলোতে শ্মশান কমিটির উদ্যোগে দিপাবলি উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।
যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও শশ্মানে অনেকেই দিপাবলির আয়োজন দেখতে আসেন।  এদিকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও ভারত, নেপাল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বলনের জন্য স্বজনরা এসেছেন।
শ্মশান কমিটির নেতারা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরানো নগরী কাউনিয়াতে ৫ একর ৫৯ শতক জমিতে এ মহাশ্মশানের অবস্থান। যেখানে ৭০ হাজারের মতো কাঁচা ও পাকা সমাধি রয়েছে। প্রায় দুইশ বছর ধরে চলা এই উৎসবে সমাধিগুলোতে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। ৭০ হাজার সমাধির এ মহাশ্মশানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্মশান দিপালী এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাবসহ সাদাপোষাকে আইন শৃংখলা বাহিনী কাজ করেছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন শ্মশান রক্ষা কমিটির একশ’ স্বেচ্ছাসেবক। বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, শশ্মানের সার্বিক নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব ভলান্টিয়ারও নিয়োজিত রয়েছে। তবে করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কিছু করা হচ্ছে। অপরদিকে ধর্মীয় এই অনুষ্ঠান নির্বিঘেœ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার।  তিনি বলেন, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকেছে পুরো মহাশ্মশান এলাকা। এদিকে উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলামসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রসঙ্গত, কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যামনন্দ দাশগুপ্ত, পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত, ব্রিটিশবিরোধী নেতা বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, মনোরমা বসু মাসিমাসহ বহু খ্যাতিমান মানুষের সমাধি রয়েছে এ মহাশ্মশানে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT