দেড় দশকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারী বিধি বিধান পালনের উদ্যোগ নেই দেড় দশকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারী বিধি বিধান পালনের উদ্যোগ নেই - ajkerparibartan.com
দেড় দশকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারী বিধি বিধান পালনের উদ্যোগ নেই

3:19 pm , October 22, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলের দুটি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ৬টি জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩৬টি উপজেলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করণের ন্যূনতম কোন ব্যবস্থা আজো অনুপস্থিত। অথচ সরকার এ লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ‘পরিবেশ সংরক্ষন আইন’র ক্ষমতা বলে ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর ‘চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮ প্রনয়ন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষন আইন এবং ২০০৮ সালের বিধিমালা অনুুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলে সরকারী হাসপাতাল গুলোতেই চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ফলে এসব চিকিৎসা বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমশ বিপর্যয় ডেকে আনছে ।
২০০৮ সালের ওই বিধিমালার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে  একটি কতৃপক্ষও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালককে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে বিভাগীয় কমিশনারের মনোনীত একজন কর্মকর্তা ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের সব সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ পর্যন্ত সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে অনেক দূরে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল মহলও স্বীকার করেছেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রনালয় থেকে সারাদেশের হাসপাতাল সমূহের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকের কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই একটি ‘ইনসাইনেরেটর’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক জানিয়েছেন।
এমনকি বরিশাল মহানগরীর ছোট ও মাঝারী প্রায় ৫০টি বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালের অবস্থা আরো করুন। কয়েকটি এনজিও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও ছাড়পত্র নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা বর্জ্য যেনতেন প্রকারে অপসারণ করলেও অতি সম্প্রতি সিটি করপোরেশন এ দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর ওইসব এনিজিও’র নিবন্ধন নবায়ন করেনি। চলতি মাস থেকেই মহানগরীর সব বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর  চিকিৎসা বর্জ্য সিটি করপোরেশন গ্রহণের কথা থাকলেও তা এখনো সম্ভব হয়নি। যদিও আগামী মাস থেকে  নগর ভবন এ কাজটি শুরু করবে বলে জানিয়েছে । সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিনাঞ্চলের অন্যসব জেলা উপজেলা সদরগুলোর অবস্থা আরো করুন। ওইসব জেলাÑউপজেলার ক্লিনিকগুলোর  চিকিৎসা বর্জ্যরে বেশীরভাগই  রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকেই পৌরসভাগুলোর পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তা সংগ্রহ করে থাকেন।
এমনকি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল সমূহ এবং নগর ভবনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কোন প্রশিক্ষন নেই।  বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও চিকিৎসা বর্জ্য সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, প্যাকেটজাতকরণ, বিনষ্টকরণ, ভষ্মীভূতকরণ, পরিশোধন, বিশোধনসহ অপসারণ হচ্ছে না। এমনকি সংক্রমিত ও অসংক্রমিত তরল বর্জ্য প্রেসারাইজড বর্জ্য, অসংক্রমিত ও ক্ষতিকর নয় সাধারন বর্জ্য, এনাটমিক্যাল বর্জ্য,প্যাথলজিক্যাল বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য,ফার্মাসিউটিক্যাল বর্জ্য, জীবানুযক্ত বর্জ্য, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য, ধারালো বর্জ্য সমূহ সংগ্রহ, অপসারণ ও বিনষ্টকরণে ন্যূনতম কোন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মত ব্যবস্থা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে এখনো অনুপস্থিত।
বরিশাল মহানগরীতে এনজিও সমূহ চিকিৎসা বর্জ্য  সংগ্রহ করছে। তবে তারাও পরিবেশ সম্মতভাবে অপসারণ বা বিনষ্ট করছে না। শুধুমাত্র বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক, হাসপাতাল ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থেকে  বর্জ্যসমূহ সংগ্রহ করে তারা সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগারেই ফেলে আসছে। আগামী মাস থেকে নগর ভবনের পক্ষ থেকে এসব বর্জ্য সংগ্রহের কথা বলছে।  যথা সম্ভব  সতর্কতা ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেই কাজটি করা হবে বলে জানিয়েছেন নগর ভবনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূরাবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বিষয়টি নিয়ে তাগিদ দিয়ে আসছি। সরকারী প্রতিষ্ঠান বিধায় চাইলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সব কিছু করতে পারে না। আমরা চলমান চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর রেখে তা সরকারী বিধি বিধান অনুযায়ী পরিবেশ সম্মতভাবে  করার তাগিদ দিচ্ছি ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক  ও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সভাপতি ডাঃ হুমায়ুন শাহিন খানের সাথে আলাপ করা হলে তিনিও বিষয়টি নিয়ে সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কথা স্বীকার  করেন। তবে খুব শীঘ্রই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফার্মাসিউটিক্যাল এবং জীবানুযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি ‘ইনসাইনেরেটর’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সারাদেশের ন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের সব সরকারী হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহনে সুপারিশ করবেন বলে জানান স্বাস্থ্য দপ্তরের এই কর্মকর্তা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT