3:35 pm , October 20, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মেহেন্দিগঞ্জে একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরে থাকা লোকদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে মহিষ বিক্রির নগদ দেড় লাখ টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৯) অক্টোবর রাত তিনটার দিকে মেহেন্দিগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেউটিয়া গ্রামের জামাল আকনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী জামাল আকন বলেন, বুধবার দিনগত রাত তিনটার দিকে ঘরের পিছনের জানালা ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে ঢুকে ৭/৮ জনের একদল ডাকাত হানা দেয়। তাদের হাতে ছিলো ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও তালা ভাঙ্গার মেশিন। আমিসহ পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরে থাকা মহিষ বিক্রির নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। ডাকাতদের হামলায় আমি ও আমার ছেলের বউ আহত হয়েছি। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, বাবা আমি গরু মহিষ কেনা বেচা করে থাকি। গত সপ্তাহ খানেক আগে একটি মহিষ বিক্রি করেছি ১ লক্ষ টাকা। আর ঘরে ছিলো আরো ৫০ হাজার টাকা। যা দিয়ে ফের গরু কিনবো। তাই ঘরে রেখে ছিলাম। সব ডাকাতদল নিয়ে গেলো। আমি এখন পথের ফকির। জামাল আকনের স্ত্রী বলেন, জমিজমা নিয়ে র্দীঘ দিন ধরে বাড়ির পাশের এক ব্যক্তির সাথে বিরোধ চলে আসছে আমাদের। এবং কয়েকদিন আগে তাদের সাথে একটি ঝামেলাও হয়। এর জের ধরে প্রতিপক্ষরা এঘটনা ঘটাতে পারে। তবে ডাকাতদের মুখে মুখোশ থাকায় কাউকে চিনতে পারেনি তারা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে প্রায় সময়ই মেহেন্দিগঞ্জের চর আঞ্চলে ডাকাতি হতো। তবে র্দীঘ ১০ বছর ধরে আমাদের গ্রামে কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করে আজ শুনলাম জামালের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। তবে আমার ধারণা এটা পূর্ব শক্রতার কারনে হতে পারে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া এস আই রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এমনই একটি খবর ৯৯৯ ফোন করে জানানো হয়েছে। পরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে ডাকাতি হওয়ার তেমন কোন আলামত পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ডাকাতি হয়েছে সে রকমের মনে হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীরা যাদের নাম বলছে তাদের সাথে কিছু দিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে থানায় একটি মামলা হয়। তাদেরকেই তারা সন্দেহ করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
