3:18 pm , October 17, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রবাস থেকে দেশে ফেরা স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন রহিমা বেগম (৪০)। নির্যাতনের বিচার চাইতে স্বামী মনির হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশী মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করায় আরেক দফা মারধরের শিকার হলেন রহিমা বেগম। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাকে বেদম মারধর করেছেন স্বামী মনির। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর গ্রামে।
রহিমা বেগম ওই গ্রামের শাহজাহান হাওলাদারের মেয়ে। ২১ বছর আগে একই গ্রামের এছাহাক হাওলাদারের ছেলে মনির হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়েছিলো। এখন দুইসন্তানের জননী রহিমা।
তিনি জানান, বেকার স্বামীকে বাবার বাড়ি থেকে দেয়া আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় পাঠান। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে। গত জুলাই মাসে স্বামী দেশে ফিরেছে। বিদেশ থেকে আনা টাকা নেশা ও জুয়ায় শেষ করে ফেলেন। পুনরায় বিদেশ যাওয়ার জন্য আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে মনির। টাকা না দেয়ায় তার (রহিমা) ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
রহিমা জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সালিশ-বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্থানীয়রা। রহিমার অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর স্বামী মনির ও শ্বাশুড়ী মিনারা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন রহিমার বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে বেদম মারধর করেছে। এ সময় তাকে রক্ষায় মেয়ে খুকু মনি এগিয়ে আসায় তাকেও বেদম মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশী মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি পুলিশী তদন্তাধীন রয়েছে।
রহিমা জানান, গত শনিবার তিনি পাশের বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে স্বামী মনিরের সঙ্গে দেখা হয়। মামলা করায় আবারও বেদম মারধর করে মনির। মেয়ে খুকু মনি (১৬) বলেন, আমরা প্রতিমুহুর্তে বাবার হামলা-নির্যাতনের আতংকে থাকি। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বামী মনির হাওলাদার বলেন, তিনি বিদেশ থাকাকালীন স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। ৫ বছর পর দেশে আসলে ওই টাকার হিসেব চাইলে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ কারণে বাবার বাড়ি চলে গেছে। তাকে মারধর করা হয়নি।
