নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পরেও অনেক স্থানে চাল পায়নি দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পরেও অনেক স্থানে চাল পায়নি দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা - ajkerparibartan.com
নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পরেও অনেক স্থানে চাল পায়নি দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা

3:29 pm , October 16, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ইলিশ আহরণের ২২ দিনে নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পার হলেও দক্ষিনাঞ্চলের ৩  লক্ষাধিক জেলে পরিবারের মধ্যে যে ৯ হাজার ১৮২ টন চাল বিতরণের কথা তা অনেক স্থানে এখনো শুরু হয়নি। এ কারণে গত ১০ দিনে পেটের দায়ে মৎস্য আহরণে নদীতে নেমে এ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩শ জেলের ৩ মাস থেকে এক বছরের কারাদন্ডাদেশ নিয়ে জেলখানায় ঠাঁই হয়েছে। জরিমানা হয়েছে আরো বিপুল সংখ্যক জেলের। জেলে নৌকা ও ট্রলারসহ বিপুল সংখ্যক বৈধ ও অবৈধ জাল বাজেয়াপ্ত সহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এসব অভিযোগ বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি উপজেলার বেকার জেলেদের। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নির্বিঘœ ও ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে এবার ৭ অক্টোবর রাতের প্রথম প্রহর থেকে ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার প্রজনন এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ সহ সারা দেশে ইলিশ আহরন, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণে নির্ভরশীল দেশের ৩৭টি জেলার ১৫৫টি উপজেলার ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৭ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে  সর্বমোট ১৩ হাজার ৮৭৩ টন চাল বিতরণের জন্য মঞ্জুর করেছে সরকার। এরমধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগেরই ৩ লাখ ৬ হাজার ১২০ জেলে পরিবারের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার ১৮৪ টন চাল। সারাদেশে আহরিত ইলিশের প্রায় ৭০ ভাগই পাওয়া যায় দক্ষিণাঞ্চলে।
গত ৪ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মৎস্য শাখাÑ২ থেকে এসব চালের বরাদ্দ পত্র প্রেরণ করার ১২ দিন পরেও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক উপজেলাতেই এখনো চাল বিতরণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। তবে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের দায়িত্বশীল মহল বিষয়টির সাথে ভিন্নমত পোষন করেছেন। তাদের মতে, চালের বরাদ্দ হলেও জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা হয়ে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জেলেদের কাছে পৌঁছতে কম করে হলেও এক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ১০ দিন ও বরাদ্দ প্রদানের ১২ দিন পরেও জেলেদের কাছে চাল না পৌঁছার বিষয়টি খুঁজে যত দ্রুত সম্ভব তা বিতরণের কথা বলেছেন কর্তৃপক্ষ।
খোদ বরিশাল সদর উপজেলার ৯ নম্বর টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলে ইউনুস মাঝি নিষেধাজ্ঞার ৯ দিন পরেও সরকারী চাল না পাবার কথা জানিয়ে পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপনের কথা  বলেছেন।
একই ইউনিয়নের ফোরকান গাজী বলেন, ‘যহন ইলিশ ধরা বন্ধ থাহে তহন আপনারা আইয়্যা জিগান মোরা মাছ ধরি ক্যা। কিন্তু অবরোধ দেওয়ার আগে সরকার মোগো যে চাউল বরাদ্দ দেছে তা পাইছি কিনা কোন খোঁজ লননা। খালি মাছ ধরার সময় আইলেই আমহেগোরে দেহি’। তিনি বলেন, দেনার শেষ নাই, ঘরে যা আছেলে সব শেষ, এহন খামু কি। দুই সপ্তাহ গেলেও সরকার গোনে মোরা কিছু পাই নাই। পেডের দায় বাধ্য অইয়া মাছ ধরতে গেছি, পুলিশ আইয়া জাল লইয়া গেছে।’
সব জেলেরই একই অভিযোগ নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন শেষে এখনো কেন তাদের ঘরে চাল পৌঁছায়নি। ফলে অনেকেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই জাল নিয়ে নদীতে নামছে। চাল না পাওয়ার ব্যাপারে সদর উপজেলার ৯ নম্বর টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নূর হোসেন মামুন বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দের চালের চিঠি আমাদের হাতে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই বিতরণ শুরু হবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য দফতর জানিয়ছে, জেলার দশটি উপজেলায় মোট ৭৫ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৫১ হাজার ৭ শ’ জনের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন পার হলেও এখনও জেলার সকল উপজেলায় সে চাল বিতরণ শুরু হয়নি। এর মধ্যে বাকেরগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলায় ইতিমধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এদিকে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের রোববার পর্যন্ত ১০ দিনে বহু সংখ্যক জেলেদের কারাদ-, জাল উদ্ধার এবং ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ইলিশ রক্ষা অভিযান শেষে জেলের ট্রলারে আগুন দেয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও মা ইলিশ নিধন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। তবে জেলেদের অভিযোগ পরিবার বাঁচিয়ে রাখতে তারা চোরা মাছ শিকারীতে পরিনত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, অভিযানের গত ১০দিনে ইলিশ শিকারের দায়ে ৬ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩শ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-াদেশ দেয়া হয়েছে। ?এছাড়া ৭ কোটি টাকা মূল্যের ৩১ লাখ ঘন মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।  মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, এক হিজলা উপজেলাতেই ৩১২ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT