সাবেক জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণের জন্মদিন আজ সাবেক জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণের জন্মদিন আজ - ajkerparibartan.com
সাবেক জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরণের জন্মদিন আজ

2:59 pm , October 14, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ‘তাঁর অনেক গল্প শুনেছি-গল্প শুনে অল্প অল্প ভালোবেসেছি।’ একটু ঘুরিয়ে এ গানটির চরনে আশ্রয় নিতে হয় একজন সাদা মনের মানুষের কথা স্মরণ করে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ঢাকার মীরপুর ৬ নম্বর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতের জমায়েতে বরিশালের একজন ঈমাম প্রসঙ্গত মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়া নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তখন বরিশালের একজন মেয়র শওকত হোসেন হিরণকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলছিলেন ‘আমরা মসজিদের সভাপতি করা নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণ এর কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি আমাদের বসালেন। চা নাস্তা খাওয়ালেন। তারপর মেয়র বললেন, ‘আমিতো নিয়মিত নামাজি নই। মসজিদের সভাপতি সেই মানুষটিকে বানান যে কখনো ফজরের নামাজটাও কাজা করেনি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করেন। তা যদি না পান তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্তত চার ওয়াক্ত জামাতের সাথে আদায় করেন এমন মানুষকে মসজিদ কমিটির সভাপতি করুন। আমিতো আপনাদের সেবা দিতে সবসময় পাশেই আছি’। এভাবেই আমাদের ঘাট মসজিদের কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ। ফলে মসজিদের মোয়াজ্জেম হয়েছেন কমিটির সভাপতি। আজ ১৫ অক্টোবর আধুনিক বরিশালের রূপকার এই মানুষটির জন্মদিন। বেঁচে থাকলে এই দিনে ৬৭ বছরে পা রাখতেন তিনি। বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার বেশিরভাগ উন্নয়নমূলক কর্মসূচীও তার সময়ে গৃহীত বা পরিকল্পিত হয়েছে। এছাড়া তিনি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে শান্তিপূর্ন সমঝোতা বজায় রেখেছিলেন। তিনি একাধারে একজন যোগ্য রাজনীতিক, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র এবং সংসদ সদস্য। আধুনিক বরিশালের রূপকারও বলা হয়েছে শওকত হোসেন হিরণকে। ১৯৮৬ সালে তিনি যোগ দেন এরশাদের জাতীয় পার্টিতে। ১৯৮৮ সালে ২২ বছর বয়সে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য পদের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐবছর অপর একটি উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন হিরণ। ১৯৯৭ সালে ঐকমত্যের সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ফলে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি’র বরিশাল বিভাগের নেতৃত্বে আসেন।১৯৯৬ সালে তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাত ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হিরণ যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সদর আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন তিনি। সক্রিয়ভাবে রাজপথের আন্দোলনের ভূমিকা রাখায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। তাই যোগ্যতা বিবেচনা করে ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মনোনীত করে। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন হিরন। ২০১৩ সালের ১৫ জুন বিসিসি’র নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে পরাজিত হন। ২০১২ সালের সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ২২ মার্চ, শনিবার রাত ১০টায় হিরণের বরিশাল ক্লাবে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার একটি অস্ত্রোপচার হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা হিরণের বাঁচার সব আশা ছেড়ে দেয় এবং বাংলাদেশে এনে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার পরামর্শ দেয়। ৯ই এপ্রিল, ২০১৪; বুধবার সকাল সাতটায় তিনি পরলোকগমন করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT