3:07 pm , October 8, 2022
বাবুগঞ্জ প্রতিবেদক ॥ বাবুগঞ্জে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র সিনিয়র ষ্টাফ নার্স (ব্রাদার)’র থাপ্পরে আহত হয়ে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে লামিয়া(৯)নামের এক শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ নভেম্বর দুপুরে। লামিয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া গ্রামের মৃতঃ মোসলেম আলী ঘরামীর নাতনী এবং পশ্চিম ভূতেরদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। তার মামী মোসাঃ সাবেরা খাতুন বলেন, লামিয়ার বাবার বাড়ি ঢাকা সাভার এলাকায়। লামিয়া ৯মাস বয়সের সময় তার মা মারা গেলে বাবা খায়রুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করে ইটালী চলে যান। তার পর থেকে সে নানী আলমতাজ বেগমের কাছে লালিত পালিত হতে থাকে। ৭অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সে বাথরুম থেকে বের হবার সময় হাত ঝাকি দিলে অসাবধানাতার কারনে টিনে লেগে তার ডান হাতের আঙ্গুল অনেক খানি কেটে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারনে তাকে তার নানী এবং পরিবারের লোকজন দ্রুত বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়াতে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে ডাক্তার ছিলোনা। সেখানে কর্তব্যরত সিনিয়র ষ্টাফ নার্স (ব্রাদার) মোঃ সুমন হাওলাদার চেতনা নাশক কোন ব্যবস্থা ছাড়াই লামিয়ার অঙ্গুলে সেলাই করা শুরু করে। এতে ব্যাথায় চিৎকার দিলে সুমন লামিয়ার ডান গালে কশে থাপ্পর দেয়। থাপ্পরে তার গাল রক্তাক্ত হয়ে উঠে এবং সুমনের হাতের আঙ্গুলের ছাপ পড়ে যায়। এমন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সুমনের অপসারনসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান লামইয়ার পরিবার। এঘটনায় সুমনের বিরুদ্ধে ৮অক্টোবর বাবুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন লামিয়ার মামী মোসাঃ সাবেরা খাতুন। সাধারণ ডায়রী নং-৩২১, এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা সুবাস সরকার’র কাছে সুমনের বিচার চেয়ে অভিযোগ করেছেন তার নানী আলমতাজ বেগম। এব্যাপারে ষ্টাফ নার্স(ব্রাদার)সুমন বলেন, লামিয়াকে চেতনা নাশক(অচেতন)ইনজেকশন দিতে তিনি বার বার ব্যর্থ হয়ে তাকে ডান কাঁধে আলতো ভাবে থাপ্পর দিতে গিয়ে একটু জোরে তার গালে লেগেছে। এ জন্য তার পরিবারের কাছে বারবার ক্ষমা চেয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা সুবাস সরকার বলেন, ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জেনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
