2:59 pm , October 6, 2022
শেবাচিম হাসপাতালের মূল প্রবেশ পথে গেট নির্মান
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশে দুটি প্রবেশ পথ অর্থাৎ গেট রয়েছে। এর মধ্যে একটি এমারজেন্সী বা জরুরী বিভাগে প্রবেশের গেট এবং অন্যটি মূল বা প্রধান গেট। যে গেটটির অবস্থান হাসপাতালেসব মধ্য ভাগে। হাসপাতালে প্রবেশে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন গেট হিসাবে বিবেচিত হয় এটি। কারন রোগীর প্রয়োজনীয় জরুরী ঔষধ,খাবার,পরীক্ষা নিরীক্ষা যাবতীয় সব প্রয়োজনে এই গেটটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু গেট নির্মানের অযুহাতে কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশী সময় ধরে চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ন এই পথটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতি এবং তদারকি প্রতিষ্ঠান বরিশাল গনপূর্ত বিভাগের নিশ্চুপ ভূমিকার কারনে গেট নির্মানের কোন অগ্রগতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন সত্যি বলতে আমি কিছুই বুঝতেছি না তারা কেন এরকম করছে। কেন বিলম্ব করছে। তিনি বলেন আজও (বৃহস্পতিবার) গনপূর্ত বিভাগকে ডেকে ছিলাম। তারা বলেছে কাজ চলছে এবং দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তবে তেমন কিছুই দেখছি না।
বরিশাল গনপূর্ত বিভঅগ সুত্রে তথ্য সুত্রে গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রবেশের প্রধান গেটটি নির্মানের জন্য অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। যার জন্য বরাদ্ধ ধরা হয় ৪১ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী জুন মাসেই কাজটির জন্য দরপত্র আহবান করে গনপূর্ত বিভাগ। কাজটি পায় ফারদীন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করে বরিশাল গনপূর্ত বিভাগের এক প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজটি তার অনুসারী ৩/৪ কে ভাগ ভাটোয়া করে দেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবিদ,চপল,সুমন। কিন্তু তারা নানা তালবাহানা করে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু করেনি। অবশ্য এ সুযোগটি করে দিয়েছে স্বয়ং গনপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারাই। তারা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ৩১ জুনের পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেননি। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাই তারা নিজেদের সুবিধা মত এখন কাজটি শুরু করেছেন। যদিও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারনে ওই কাজের খরচ বেড়ে দেড় কোটি টাকা দাড়িয়েছে।
কাজের দায়িত্বে থাকা গনপূর্ত বিভাগের মেডিকেল জোনের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ কামাল হোসেন বলেন গেটটি লম্বায় প্রায় ১০০ ফিট এবং চওড়ায় ১৮ ফিট। এর জন্য প্রাথমিক বরাদ্ধ ৪১ লাখ টাকা হলেও এখন তা দেড় কোটি ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন জুন জুলাই মাস জুড়ে বৈরী আবহাওয়ার কারনে কাজটি করা সম্ভব হয়নি। এখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানেরও গাফেলতি রয়েছে। তারপরও উন্নয়নমূলক কাজটির অর্থ যাতে ফেরত না যায় সেজন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বরাদ্ধ যাতে ফেরত না যায় সে ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু কাজ শেষ না করা পর্যন্ত টাকা ঠিকাদারদের প্রদান করা হবে না। তিনি আরো বলেন আমি জানি গেটটি বন্ধ থাকায় রোগীসহ হাজারো মানুষের দৈনিক সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। তাই চেষ্টা করছি আগামী ২০ দিনের মধ্যে গেটটি দিয়ে যেন গাড়ি চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা করার জন্য। তবে গেটটি সম্পূর্ন শেষ করতে মাস তিনেক লেগে যাবে। এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে কাজটি গত অর্থ বছরের। টেন্ডার,বরাদ্ধ সবই হয়েছিলো গত অর্থ বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেল জুন মাসে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ৩১ জুনের মধ্যে বরাদ্ধ কৃত কাজ সম্পন্ন করে কর্র্তপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়ে বিল উত্তোলন করে নিবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশ পথ (গেট) নির্মানের বেলায় ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। অর্থ বছর শেষ হয়ে গেছে ৩ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরিশাল গনপূর্ত বিভাগ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাত্র সপ্তাহখানেক হলো গুরুত্বপূর্ন গেটটি নির্মানের কাজ শুরু করেছে। কাজ শেষ না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ৩১ জুনের মধ্যে বরাদ্ধকৃত অর্থ ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গনপূর্ত বিভাগ বরাদ্ধকৃত অর্থ ফেরত না দিয়ে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সে অর্থ রেখে দেন। যে কারনে ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধামত নির্দিষ্ট সময়ের এত মাস পরে এখন কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
আর এ কারনেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের খেয়াল খুশি মত ধীর গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার দরুন হাসপাতালে আসা রোগী স্বজনসহ অন্তত প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারন নির্মানাধীন গেটটি হাসপাতালের মুল প্রবেশ পথ ও যাতায়াতের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন ও সহজ মাধ্যম। গনপূর্ত বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তেমন কোন সুদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা বলেছেন বৈরী আবহাওয়াসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতির কারনে যথাসময়ে কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গেটটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলা হবে।
হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা বলেন এবাবে আমাদের দুর্ভোগে রাখার কোন মানেই হয় না। মনে হয় আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে এসে জিম্মি হয়ে আছি। রোগীর ঔষধ ক্রয় করাসহ জরুরী যে কান প্রয়োজনে মূল গেট থেকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এখন গেটটি বন্ধ হওয়ার কারনে অনেক পথ ঘুরে জরুরী বিভাগের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এটা অসহনীয় ও অবর্ননীয় দুর্ভোগ।
