3:37 pm , October 4, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ইষ্টার্ণ জোনে উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবরাহে মারাত্মক ত্রুটির রেশ ধরে জাতীয় গ্রীড থেকে বেশীরভাগ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম জোনের ২১ জেলায়ও ব্যাপক বিদ্যুৎ ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার কিছু আগে পশ্চিম জোনের সবগুলো সঞ্চালন লাইনে ভোল্টেজ আশংকাজনক হারে হ্রাস পাবার সাথে সঞ্চালন ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় জরুরী ভিত্তিতে বেশীরভাগ ৩৩ কেভী ও ১১ কেভী ফিডারে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হয়। তবে ভোলার ২২৫ মেগাওয়াট ও বরিশালের ১১০ মেগাওয়াটের সামিট পাওয়ারসহ পটুয়াখালীর ইউনাইটেড পাওয়ার এবং গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনা অঞ্চলের বেশীরভাগ উৎপাদনকেন্দগুলো ট্রিপ করে। ফলে পশ্চিম জোনের ২১ জেলার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ মারাত্মক বিদ্যুৎ ঘাটতির শিকার হন ।
আপতকালীন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সঞ্চালন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সমগ্র দক্ষিন ও দক্ষিণÑপশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় ব্যাপক বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত ছিল। বরিশালে দুপুরে প্রায় ১শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছিলো। খোদ মহানগরীর একাধিক ফিডার বন্ধ থাকায় শরতের অস্বাভাবিক গরমে মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছিলোনা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোলার ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ ছিলো। ভোলার কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার স্টেশনটি পূর্ণ উৎপাদনে আসতে অনেক রাত হয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। তবে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিট দুটি চালু রয়েছে।
পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘আমরা নিবিড় নজরদারী ও সার্বক্ষনিক প্রচেষ্টায় পশ্চিম জোনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ইউনিটগুলো জাতীয় গ্রীডে যুুক্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে’ বলেও জানান তিনি।
জাতীয় গ্রীডে বড় ধরনের গোলযোগের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দেশের পশ্চিম জোনের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও সরবারহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত ছিলো।
