পিতাকে ছেলের হুমকি ‘তোকে শেখের হত্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝুলাবো’ পিতাকে ছেলের হুমকি ‘তোকে শেখের হত্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝুলাবো’ - ajkerparibartan.com
পিতাকে ছেলের হুমকি ‘তোকে শেখের হত্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝুলাবো’

3:30 pm , October 4, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কোনভাবে পিতার নিকট থেকে ভবনসহ জমি লিখে নিতে না পারায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সাথে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেছে ছেলে। এমনকি ওই বিচারের মুখোমুখী করতে খোশ গল্পের ফাঁকে বিষয়টি তার পিতা প্রকাশ করে বলে সাক্ষীও দাঁড় করানো হয়েছে। তবে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। তিনি বিষয়টিকে বাকোয়াজ বলে অবহিত করেছেন। অভিযোগকারী হচ্ছে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার উকিলবাড়ি সড়কের ইসমাইল মিয়ার ছেলে মোস্তফা কামাল। সে বর্তমানে তার বাবার বাড়ি দখল করে অবস্থান করছেন। আর পিতা অবস্থান করছেন নগরীর কাউনিয়া থানা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায়। ইসমাইল মিয়া অভিযোগ করেন, বয়স যত বাড়তে থাকে মোস্তফার চাহিদাও ততই বাড়তে থাকে। আর এতে মদদ দিয়ে আসছে রূপাতলী এলাকার মামুন মোল্লা। সর্বশেষ এ্যাম্বুলেন্স কিনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওই সময় তাকে এ্যাম্বুলেন্স কিনতে ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়। নেশা করে ওই টাকা উড়িয়ে দিয়েছে। এর পূর্বে বিভিন্ন সময় চাপ দিয়ে নগদ অর্থ আদায় করে আসছিল। এমনকি ছোট মেয়ে ও মোস্তফার আপন ছোট বোন সাথীর মুখমন্ডলে এসিড মারার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেছে মোস্তফা। সাথীর বিয়ের পর তার বাসায় গিয়ে পেট্রোল বোমা পর্যন্ত মেরেছে। এভাবে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে মোস্তফা। এরপরও ভালো হয়ে যাবে ভেবে রূপাতলীর সাবেক কাউন্সিলর সুলতান আহম্মদের ভাইর মেয়ের সাথে মোস্তফার বিয়ে দেন। ওই ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর থেকে মোস্তফা দাবি তোলেন ওই মেয়ে তার না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীর সাথে বাগবিতন্ডার কারনে সে (স্ত্রী) মোস্তফাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। মেয়েটিকে মোস্তফার মা রেখে দেন। ওই নাতীকে তার দাদী মোস্তফার মা ৫ শতাংশ জমি লিখে দেয়। মোস্তফা ওই জমিও দখল করে তা বিক্রি করে দিয়েছে। এমনকি যার কাছে জমি বিক্রি করেছে তার নিকট মাদ্রাসার জন্য আনা ৫ হাজার ইটও বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে মোস্তফা আবারও বিয়ে করে। বর্তমানে ওই সংসারে তিন ছেলেমেয়ে রয়েছে। কিন্তু আগের স্ত্রী যে মেয়ে রেখে গেছে তাকে সে দেখতে পারে না মোস্তফা। এ কারনে তাকে তার নিকট রেখেছেন। এরপর মোস্তফার মা মারা যাওয়ার পর তার দেখাশুনার জন্য তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে বিয়ে করেন ইসমাইল মিয়া। ওই বিয়ে অপর ছেলেমেয়েরা মেনে নিলেও মানতে পারেনি মোস্তফা। সে ১২শতাংশ জমির উপর তিনতলা ভীত দিয়ে সম্পন্ন করা একতলা ভবন তার নামে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু ওই জমির ওয়ারিশ রয়েছে তার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। সে কোনভাবে তা তাদের দেবে না। এ কারনে একদিন গভীর রাতে তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয় মোস্তফা। ওই সময় মোস্তফা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পিতা ও সৎ মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। সেই রাতে অল্পের জন্য বেচে যান তারা। ইসমাইল মিয়া তার ফ্লাটে তালা মেরে নিজ বাসভবন ছেড়ে নিরাপত্তার জন্য দুই মেয়ে জামাই যেখানে থাকেন সেখানে বাসা ভাড়া নেন। এমনকি কাউনিয়া থানার সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে বসবাস করছেন। যাতে করে মোস্তফা কোন হামলা চালালে সাথে সাথে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করতে পারেন। বাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে মোস্তফা ও তার স্ত্রী ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দুইটি স্টিলের আলমারী, একটি গ্রিজার, পানি তোলার মোটর এবং জালানার গ্রিল বিক্রি করে দেয়। এখন মোস্তফার দাবি ওই জমি ভবনসহ লিখে দেয়ার। তা লিখে দিলে সব ধরনের অভিযোগ তুলে নেবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে ইসমাইল এর কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। তানা হলে শেখের মামলায় (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা) জড়িয়ে ফাঁসিতে ঝুলাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই হুমকির ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প কাহিনী লিখে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছে। ইসমাইল মিয়া আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা মাদকে আসক্ত। এ কারনে বিভিন্ন সময় তাকে জেলে রাখা হয়। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আবারো সে তার উপর মানষিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া তার অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে তাকে ত্যাজ্য করে দিয়েছেন। এরপর কোন এক ফিরোজকে সাক্ষী বানিয়ে তার নিকট আমি নাকি মেজর ডালিমকে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌছে দিয়েছি বিষয়ে গল্প করেছি। বিষয়টি একেবারে ঢাহা মিথ্যা। ওই লোককে আমি চিনি না। জীবনে কোনদিন তার সাথে আমার কথাও হয়নি। অথচ সে বলছে এক সময় সে নাকি আমার সহকর্মী ছিলেন। মোস্তফার আপন ছোট বোন মৌসুমী আক্তার সাথী বলেন, আমার বোঝার পর থেকেই মোস্তফাকে দেখে আসছি বাবাকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা। সে আমার মুখে এসিড মারার হুমকি দিয়ে বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে। তার কারনে আমাকে বাবা চুপিসারে মাদ্রাসায় দিয়ে আসতো আবার আনতো। এখন বাবার সম্পত্তি গ্রাস করতে সে বাবার সম্পত্তি দখল করে নিতে বিভিন্ন স্থানে মিথ্যাচার করছে। মোস্তফা কামালের দাবি সন্তান হিসেবে তার সম্পত্তির ভাগ তারও রয়েছে। কিন্তু সে কোনভাবে তাকে তার সন্তান হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। এ কারনে বারবার তাকে জেলে যেতে হয়েছে। এমনকি তাকে ত্যাজ্য পুত্রও করার আবেদন করা হয়। তৎকালীন স্বাস্থ্য বিভাগের চালক ফিরোজ আলম তাকে (মোস্তফা) জানিয়েছেন তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের রিকুইজেশন ডিউটিতে কয়েকজন ড্রাইভার একত্রিত হই। খোশ গল্পের এক পর্যায়ে ইসমাইল মিয়া বলেন, যেদিন বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবারকে হত্যা করে মেজর ডালিমসহ অন্যান্যরা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সেই সময়ে তার গাড়িতে বিমানবন্দের পৌছে দেন। তখন তিনি বিদ্যুত বিভাগের চালক হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি জানার পর একাধিকবার বল আপনি দোষ স্বিকার করেন। এছাড়ার মোস্তফার বিরুদ্ধে যে সেকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয় বলে দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি বাকোয়াজ। তারপরও গোয়েন্দা বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT