3:38 pm , October 1, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বরিশালেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে ছিল ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহীত পূজা।সকালে বেলতলায় দেবীকে কল্পারম্ভ পূজার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয় ধরণীতে। সন্ধ্যায় দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় মূল ম-পে। দশটায় কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন শেষ হয়। দিনের শুরু থেকেই চ-ীপাঠে মুখরিত থাকে সব ম-প এলাকা।এর মধ্য দিয়ে মন্দিরগুলোতে উৎসব শুরু হয়েছে।ঢাক-ঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ম-প।এবার কৈলাস থেকে দুর্গাদেবী মর্তে এসেছে গজে চড়ে। কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় করে।উৎসবকে কেন্দ্র করে ম-পগুলো সেজেছে নবরূপে।আজ রোববার শারদীয় দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিনে মহাসপ্তমী। সকালে ত্রিনয়নী দেবীদুর্গার চক্ষুদান করা হবে। এর পর সকালে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহীত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে উৎসব চলবে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।এবার শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও জোড়ালো হবে বলে আশা করেন তারা।এদিকে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর কালী বাড়ি রোডের ধর্মরক্ষিণী সভা চত্বর থেকে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের একটি বর্ণাঢ্য শারদ শোভাযাত্রা বের হয়। বিপুল সংখ্যক ভক্তের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের ধর্মরক্ষিনী সভার সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি থেকে শান্তি এবং সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু।এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পুরো নগরী। ম-পগুলোর ভিতর ও সামনের সড়ক সাজানো হয়েছে বাহারি রঙের আলো দিয়ে।গতকাল শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পূজা ম-প ঘুরে বাহারি আলোকসজ্জা দেখা গেছে। আধুনিক নানা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। বড় বড় মঠ ও মন্দিরে থাকা পুকুরের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পদ্ম সেতু ও পায়রা সেতু। এই আলোকসজ্জায় ঝলমলে হয়ে উঠেছে বরিশাল নগর।নগরীর সর্ববৃহৎ পূজা ম-প শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক সবুজ দাস বলেন, করোনার প্রকোপ কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় অনেকটাই ফিরেছি আমরা।তাই এ বছর বড় ভাবে পূজা উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। আধুনিক লাইট দিয়ে মূল মন্দির সাজানো হয়েছে। এছাড়া মন্দিরের মধ্যের ও বাইরের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে আলোকসজ্জায় করা হয়েছে। পুকুরের মধ্যে টিউব লাইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পদ্মা সেতু। পাশাপাশি এলইডি লাইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুইটি বিশাল তোড়ন।
অপরদিকে পূজা ম-পগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, চলতি বছর বরিশাল বিভাগে ৬ জেলার ৪২ উপজেলায় মোট এক হাজার ৭৬৬টি ম-পে পূজা হবে। এর মধ্যে বরিশাল নগরীতে ৪৫টিসহ জেলার ৬০০ ম-প রয়েছে।
