‘আব্বার মুখটা আমারে একবার দেহান’ ‘আব্বার মুখটা আমারে একবার দেহান’ - ajkerparibartan.com
‘আব্বার মুখটা আমারে একবার দেহান’

3:50 pm , September 21, 2022

সৌদি প্রবাসী আউয়াল হাওলাদারের ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র মো. আরিফের আকুতি

আমতলী প্রতিবেদক ॥ ‘আমার আব্বারে আইন্না দেন, আব্বার মুখটা আমারে একবার দেহান, আমার আব্বা সৌদি গেছে। গত মাসেও টাহা পাডাইছে। আব্বার সাথে প্রত্যেকদিন কতা না কইলে আমার রাইতে ঘুম অয় না’। এভাবেই বাবার কথা মনে করে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন কাউনিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আউয়াল হাওলাদারের ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র মো. আরিফ, চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী মারিয়া আর নির্বাক হয়ে বসে থাকে প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী কারিমা। আরিফ বলেন ‘কয়েক দিন আমার আব্বা ফোন দেয় না। মানসে কয় আমার আব্বা নাকি মইরা গেছে ! আমার আব্বা মরে নাই। যদি মইরা যাইত তাইলে আব্বার লাশ বাড়িত আনতে এত দেরী লাগে ক্যা? আমনেরা সবাই আমার লগে মিচা কতা কইতাছেন ক্যা? আমারে কান্দাইয়া আমনেগো লাভ কী?’ যেকোনো মানুষ দেখলে এভাবেই আহাজারি শুরু করেন সৌদি আরবে হুদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আউয়ালের অবুঝ শিশুরা। জীবিকার সন্ধানে পরিবার পরিজন নিয়ে ভবিষ্যাতের কথা চিন্তা করে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবার আশায় গত এক বছর পূর্বে সৌদি আরব গিয়েছিলেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউনিয়া গ্রামের খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে আউয়াল হাওলাদার (৩৫)। সেখানে কাজও শুরু করেছিলেন। ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান আউয়াল। লাশ এখনও সৌদি আরবে। টাকার অভাবে দেশে আনতে পারছেনা পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আউয়াল হাওলাদার (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। ২০২১ সালের ২১ আগষ্ট বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), কৃষি ব্যাংকের কাছে জমি বন্ধক রেখে আত্মীয় স¦জন ও পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে যান। সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করেন বাড়ীতেও কিছু টাকা পয়সা পাঠাতে থাকেন। ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আউয়াল হাওলাদার (৩৫)। আউয়ালের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া । পরিবারের উপার্জনক্ষম এক মাত্র ব্যক্তির মৃত্যুতে ২ মেয়ে ১ ছেলেকে সাথে নিয়ে স্বামীর ছবি নিয়ে কেঁেদ কেঁদে দিন পার করছেন নিহত আউয়ালের স্ত্রী খাদিজা (৩০)। আউয়ালের পিতা খোরশেদ হাওলাদার বলেন, এক বছর পূর্বে আউয়ালকে বিদেশে পাঠাই কিন্তু বছর না যেতেই আমার ছেলে স্ট্রোক করে মারা গেলো। এখন আমি শুধু ছেলের লাশ চাই যেনো মসজিদের পাশে কবর দিতে পারি। তিনি আরো বলেন, ‘ছেলের লাশটা পাইলেও কিছু সান্তনা পাইতাম। বিদেশ থেকে ছেলের লাশটারে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাই।’ আউয়ালের লাশ সৌদি আরবের আল কাসিম জেলার গুরাইদার মারগাজী হাসপাতালে রয়েছে। আউয়াল সৌদি গিয়ে ফ্রি ভিসায় কাজ করতেন । যেদিন আউয়াল মারা যান সেদিন সৌদি নাগরিক সলেমান দাখাইন এর কাজ করছিল। কিন্তু আউয়ালের নিয়োগ দাতা সলেমান দাখাইন না হওয়ায় লাশ দেশে না পাঠিয়ে সে হাসপাতালে রেখে দিয়েছেন। আউয়ালের পরিবার সৌদি আরবে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে জানানো হয় লাশ আনতে হলে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। নতুবা লাশ পাঠাতে পারবেনা। অসহায় দরিদ্র এপরিবারের সবকিছু বিক্রি এবং ধার করা টাকায় বিদেশ গিয়েছিলেন আউয়াল। ধারদেনাই পরিশোধ করা হয়নি। কিভাবে এত টাকা জোগাড় করবে। কোথায় পাবেএত টাকা ।
আউয়ালের লাশটি দেশে আনার জন্য তার অসহায় পরিবারটি প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT