উজিরপুরে বিরোধ মিমাংসা করতে গিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানই মামলার আসামী ॥ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা-বিক্ষোভ উজিরপুরে বিরোধ মিমাংসা করতে গিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানই মামলার আসামী ॥ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা-বিক্ষোভ - ajkerparibartan.com
উজিরপুরে বিরোধ মিমাংসা করতে গিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানই মামলার আসামী ॥ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা-বিক্ষোভ

3:35 pm , September 17, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের উজিরপুরের সাতলায় সরকারী সম্পত্তি দখল করে ঘর নির্মানকে কেন্দ্র করে নিয়ে দু পক্ষের বিরোধ মিমাংশার নোটিশ দিয়ে বিপাকে পরেছে ইউপি চেয়ারম্যান। রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ এড়াতে এবং সরকারী সম্পত্তি দখল মুক্ত রাখতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে আইন সৃংখলা রক্ষারর জন্য দু পক্ষকেই নোটিশ দিয়েছিলেন তিনি। উত্তেজনা থামাতে এবং সরকারী সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে গিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই জমি দখল চেষ্ঠা ও ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন দখলদাররা। এ নিয়ে ওই এলাকায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দখলদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জর সাথে উজিরপুর ও বরিমালের সংযোগ ঘটাতে সাতলার কচা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের জন্য পশ্চিম সাতলা ২নং ওয়ার্ডের সিরাজ হাওলাদারের ছেলে রিন্টু হাওলাদার, মবিন হাওলাদারের ছেলে চাপলুস হাওলাদারের নিকট থেকে জমি অধিগ্রহন করে সরকার। ব্রীজ নির্মানের পর অধিগ্রহনকৃত জমিতে সাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আলামদী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলি বিশ্বাসের ছেলে মোতালেব বিশ্বাস ব্রীজের এ্যাপ্রোসের অবশিষ্ট জমি দখল করে জোরপূর্বক ৩০-৩২ টি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ নিয়ে পৈত্রিক সূত্রে ওই জমির দাবীরাব রিন্টু হাওলাদার ও চাপলুস হাওলাদারের সাথে বিরোধ দেখা দেয় দখলদার মোতালেব বিশ্বাসের। স্থাপনা নির্মানে বাধা দিলেও ক্ষমতার দাপটে প্রতিপক্ষরা দোকান ঘর নির্মান করেন। এক পর্যায়ে দোকান ঘর নির্মান শেষে ওই দোকানের ফ্লর পাকা করে দোকানের সামনে থাকা সরকারী রাস্তা পর্যন্ত বালু ভরাট করে দোকানের বারান্দা নির্মানের চেষ্ঠা করে মোতালেব বিশ্বাস। এ ঘটনার পর জমির দাবীদার রিন্টু হাওলাদার ও চাপলুস হাওলাদার ইউনিয়ন পরিষদে মোতালেব বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে বেদখলকৃত সরকারী ভূমি পরিমাপ করে দখলমূক্ত করে সীমানা নির্ধারনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান লিখিত ভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এরপর উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার। নোটিশ পাওয়ার পরই দখলদার মোতালেব বিশ্বাস উল্টো ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে আদালতে জমি দখল চেষ্ঠার অভিযোগ একটি মামলা দায়ের করেন।
সরকারী সম্পত্তি দখলের বিষয়ে সাতলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো : আসাদ হাওলাদার বলেন, ভূমিদস্যু মোতালেব বিশ্বাসের কারনে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। ইতিপূর্বে তিনি রাতের আধারে নিজ ঘরে অগ্নি সংযোগের নাটক করে চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের ফাশানোর চেষ্ঠা করেছেন। তিনি এলাকার প্রতিবন্ধি সেলিম বিশ্বাসসহ এলাকার বিভিন্ন লোকের জমি দখল করেছে। শুধু তাই নয়, নিজের আপন ছোট ভাই মান্নান বিশ্বাসের জমিও দখল করেছে ভূমিদস্যু মোতালেব বিশ্বাস। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেন ও আলতাফ বিশ্বাস জানান, ইউপি চেয়ারম্যান যখন সুনামের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করছেন তখন একটি কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার করছেন। তারা মোতালেব বিশ্বাসের দখলে থাকা সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের দাবী জানান। এ বিষয়ে সাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো : শাহীন হাওলাদার বলেন, উক্ত জমি আমি কখনো দখল করতে যাইনি এবং আমাদের জমিও নয়। সরকারের জমি দখলমুক্ত রাখতে এবং দুই পক্ষের উত্তেজনা নিরসনের জন্য চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে মোতালেব বিশ্বাস গং আমাকে হয়রানি করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছে। তিনি বলেন, ওই মামলাবাজ ভূমিদস্যু মোতালেব বিশ্বাসের কবল থেকে সরকারি জমি দখলমূক্ত করতে গিয়ে তিনি হয়রানীর শিকার হচেছন এবং দখলদাররা বিভিন্ন অপপ্রচার করে তার সম্মানের হানি ঘটাচ্ছে। এ বিষয়ে দখলদার মোতালেব বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগর চেষ্ঠা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT