রোটেশন প্রথায় ফিরছে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ রোটেশন প্রথায় ফিরছে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ - ajkerparibartan.com
রোটেশন প্রথায় ফিরছে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ

3:43 pm , September 13, 2022

যাত্রী সংকট চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালÑঢাকা নৌ পথে রোটেশন প্রথায় ফিরে যাচ্ছে লঞ্চ চলাচল। এখন থেকে উভয় প্রান্ত থেকে তিনটি করে লঞ্চ চলাচল করবে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌযান চলাচল (যাপ) সংস্থার ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা নদী বন্দর নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নৌযান মালিক কমিটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাপের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আমরা একটি আলোচনা সভা করেছি। কিভাবে ধ্বংসের পথ থেকে এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা যায়। সেই বিষয়ে বিভিন্ন লঞ্চ মালিকরা নানা প্রস্তাবনা দিয়েছে। সেই প্রস্তাবনার আলোকে আমরা তিনটি করে লঞ্চ চালানোর সিদ্বান্ত নিয়েছে।
রিন্টু বলেন, লঞ্চ ব্যবসায় হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কিন্তু যাত্রীর অভাবে এ লঞ্চ ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন লঞ্চ মালিকরা ১ থেকে ২ দুই লাখ টাকা করে লস দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো আমরা বাচবো কিভাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে লঞ্চের ডেকে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ যাত্রী হয়। কেবিনের ৭০ ভাগ খালি থাকে। লঞ্চ বন্ধ করলে মানুষ কি বলবে। তাই আর্থিক ক্ষতি মেনে চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষায় নানা অজুহাত দিয়ে লঞ্চ বন্ধ রাখছি। এভাবে তো চলতে পারে না। তাই লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে কিভাবে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, সেই চেষ্টাই করছি।
সদর উপজেলার এ চেয়ারম্যান রিন্টু বলেন, শুধু পদ্মা সেতু নয়, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ায় মানুষ এখন আর ঘর থেকে বের হতে চায় না। তাই লঞ্চের যাত্রী নেই।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্বান্ত অনুযায়ী এখন থেকে ঢাকা বরিশাল রুটের ১৮টি লঞ্চ চলাচল করবে। এ ১৮ লঞ্চ ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক গ্রুপে পারাবত ১১, সুন্দরবন ১১ ও কীর্তণখোলা ২।
খ গ্রুপে সুরভী ৮, মানামী ও অ্যাডভেঞ্চার ৯।
গ গ্রুপে সুন্দরবন ১০, পারাবত ১২ ও অ্যাডভেঞ্চার ১।
ঘ গ্রুপে পারবত ৯, সুরভী ৭ ও প্রিন্স আওলাদ ১০।
ঙ গ্রুপে পারাবত ১০, সুন্দরবন ১৬ ও কুয়াকাটা ২ এবং চ গ্রুপে সুরভী ৯, পারাবত ১৮ ও কীর্তণখোলা ২০।
সভার সিদ্বান্ত অনুযায়ী, ক গ্রুপ বরিশাল থেকে ছাড়লে, খ গ্রুপ ঢাকা থেকে ছাড়বে। একইভাবে অন্যান্য গ্রুপের লঞ্চ উভয় প্রান্ত থেকে চলাচল করবে।
সিদ্বান্ত অনুযায়ী,প্রতিদিন ঢাকা সদর ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ ভোর ৫টার মধ্যে বরিশাল নদী বন্দরে পৌছাবে এবং বরিশাল নদী বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি লঞ্চকে সকাল ৬টার মধ্যে ঢাকা সদর ঘাটে পৌছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।
মাঝ নদীতে কোন লঞ্চ একটি অপরটিকে ওভারটেক করতে পারবে না।
সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল ও ঢাকা নদী বন্দর নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মামুন অর রশিদ। পাশাপাশি লঞ্চ মালিকরাও উপস্থিত ছিলেন সভায়।
এ সকল সিদ্বান্ত কবে থেকে কার্যকর করা হবে তা নিশ্চিত না করলেও রিন্টু বলেন, এতে করে কিছুটা হলেও যাত্রী সংকট কাটানো সম্ভব হবে।
যে লঞ্চ যার পিছনে ছেড়ে আসবে গন্তব্যে ওই লঞ্চের পিছনেই থাকতে হবে। কোনভাবে প্রতিযোগিতা করা চলবে না। তাতে করে দুর্ঘটনার আশংকা থাকছে না। এটি কঠোরভাবে মানতে লঞ্চের মাস্টারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পূর্বে পর্যন্ত ৬ থেকে ৭টি করে লঞ্চ বরিশাল ও ঢাকা প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসতো। প্রতিটি লঞ্চের কেবিন থেকে শুরু করে ডেকে যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকতো। এখন সে রমরমা বানিজ্য আর নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT