দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে

3:43 pm , September 11, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ভাদ্রের পূর্ণিমার ভরা কাটালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নি¤œচাপে পরিনত হয়ে ভারতের উড়িষ্যার দিকে এগুচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদ-নদীর পানি গত ৭২ ঘন্টায় বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। সাগর মাঝারী মাত্রায় উত্তাল রয়েছে। সামগ্র উপকূল জুড়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে উপকূলসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে আগামী ২ থেকে ৩দিন অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং বিজলী চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টির সাথে বজ্র বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে দক্ষিণাঞ্চলে ভারী থেকে অতি বর্ষনের সম্ভাবনার কথা বলছে আবহাওয়া বিভাগ। বরিশালে রোববার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ৬৩.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে নগরীর বেশীরভাগ রাস্তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ থেকে দেড় ফুট পানির তলায় ছিল। সাগর মাঝারী মাত্রায় উত্তাল রয়েছে। সামগ্র উপকূল জুড়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে উড়িষ্যা উপকূলে এগুচ্ছে বলে আবহাওয়া বিভাগের বুলেটিনে বলা হয়েছে। এটি তৎসংলগ্ন উত্তরÑপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নি¤œচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিমÑউত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাসসহ রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বরিশালে ২ মিলিমিটার এবং ভোলাতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও পটুয়াখালীতে ১৯ ও কলাপাড়ায় ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝড়েছে। পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দরকে ১ নম্বর নৌ হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বরিশাল বন্দরে কীর্তনখোলা থেকে শুরু করে সাগর উপকূলে বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালীসহ সবগুলো নদÑনদীর পানি শনিবার দুপুরেই বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে।
ভোলার তেতুলিয়ায় দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, দৌলতখানে মেঘনায় প্রায় দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার, তজুমদ্দিনে মেঘনা ও সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝালকাঠীতে বিষখালী নদীর পানিও বিপদ সীমার দশমিক ৪ সেন্টিমিটার, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জে পায়রা ও বুড়িশ^র নদীর পানি বিপদ সীমার দশমিক ১২ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর পানিও ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাউড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে। পিরোজপুরের বলেশ^র ও কঁচা নদীর পানিও বিপদ সীমার দশমিক ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের বেশীরভাগ কৃষি জমি আরেকটি প্লাবনের কবলে। তবে গত দুটি বছর ভাদ্রের বড় অমাবশ্যায় দক্ষিন উপকূল জুড়ে ব্যাপক প্লাবনে ফসলী জমি প্লাবিত হবার সাথে প্রবল বর্ষনে জনজীবন বিপন্ন হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার ভাদ্রের অমবশ্যায় প্লাবন ও বৃষ্টি না হলেও গত মাসে এবং চলতি মাসের পূর্ণিমায় সব সয়লাব হয়ে গেছে।
গত মাসের পূর্ণিমার ভরা কাটালেও একইভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হবার পাশাপাশি প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরে। সাথে বিপুল ফসলী জমি প্লাবিত হয়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের বিপুল পরিমান উঠতি আউশ ছাড়াও রোপা আমন ও আমন বীজতলা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমন রোপনে আর মাত্র এক সপ্তাহ অবশিষ্ট থাকলেও এখনো ২০ ভাগ জমিতে বীজ রোপন বাকি।
চলতি খরিপ-২ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৭ লাখ হেক্টরে আমন আবাদের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়ের। এমনকি বৃষ্টির অভাবে সদ্য সমাপ্ত খরিপÑ১ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে আউশের আবাদ ও উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসে। আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রার অনেক পেছনে এবার খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চল। আমন আবাদের সময় শেষ হয়ে আসলেও বীজের অভাবে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলায় এবার ২ লাখ ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টরে আউশের আবাদ হলেও তা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর পেছনে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT