প্রচার-প্রচারনার অভাবে দর্শনার্থী পাচ্ছে না বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর প্রচার-প্রচারনার অভাবে দর্শনার্থী পাচ্ছে না বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর - ajkerparibartan.com
প্রচার-প্রচারনার অভাবে দর্শনার্থী পাচ্ছে না বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর

3:50 pm , September 9, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ভবনে অবস্থিত বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর। সাত বছর পূর্বে জাদুঘরের দ্বার উম্মুক্ত করা হলেও তেমন কোন দর্শনার্থী আসে না এ জাদুঘরে থাকা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন দর্শনে। যদিও জাদুঘরের সহকারী কাষ্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানালেন গড়ে দৈনিক ২০/২৫ জন দর্শনার্থী আসে এখানে। তিনি বলেন, জাদুঘরের জন্য যে এরিয়া প্রয়োজন, সেই এরিয়া নেই। শুধু জাদুঘর থাকলেই হবে না। সাথে বিস্তৃত এলাকা, গাছ-গাছালি, পুকুর নিরিবিলি বসার স্থান থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তো।
শুধু প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন দর্শনের জন্যই দর্শনার্থীরা আসেন না জানিয়ে সহকারী কাষ্টোডিয়ানের মন্তব্য, খোলামেলা পরিবেশ পেলে দর্শনার্থীরা এসে ঘোরাফেরা করতো। ফাঁকে জাদুঘরে প্রবেশ করতো। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগে কোনো কার্যালয় নেই। খুলনার বিভাগীয় প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে এর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ হয় না। যার কারনে জাদুঘরটি উপেক্ষিত রয়েছে বলে জানান সহকারী কাষ্টোডিয়ান। জাদুঘরের প্রবেশ পথে রয়েছে একটি পান সিগারেট বিক্রির দোকান। দোকানী দেলোয়ার হোসেনের মন্তব্য জাদুঘরে তেমন কোন লোকজন আসে না। তাই তার দোকানে তেমন কোন বেচা কেনা নেই। দেলোয়ার বলেন, এখানে যে জাদুঘর আছে, সেটা অনেকেই জানে না। এ নিয়ে কোন প্রচার প্রচারনাও নেই। তার মন্তব্য প্রচার প্রচারনা চালানো হলে জাদুঘরটি জমে যেতো।
গেটে একটি টেবিলে টিকিট নিয়ে বসে থাকা জাদুঘরের পরিচারক পরিচয় দেয়া মো. আব্দুল ওহাব বলেন, জাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে ১০ টাকা ও ৫ টাকা করে টিকিট কাটতে হয়। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেয়া হয়। অন্যান্যদের কাছ থেকে নেয়া হয় দশ টাকা।
তিনি জানান, রোববার জাদুঘর বন্ধ থাকে। সোমবার দুইটার পর খোলা হয়। এছাড়া সপ্তাহে সাতদিন সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ৯ থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তিনি বলেন, আগে তেমন দর্শনার্থী আসতো না। এখন একটু আসতে শুরু করেছে।
দর্শনর্থী উজিরপুর উপজেলার পল্লী চিকিৎসক দীলিপ বলেন, একটু কাজে এসেছি বরিশাল। জাদুঘর দেখে ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ঢুকে পড়লাম। তিনি বলেন, বরিশালে জাদুঘর আছে, সেটা জানতাম। কিন্তু কোথায়, সেটা জানতাম না। যারাও এসেছে, জাদুঘর নিয়ে তেমন কোন আলোচনা না করার কারনে জাদুঘরের বিষয়টি আড়ালে পড়ে আছে।
দিলীপ বলেন, জাদুঘরে দর্শনার্থী বাড়ানোর জন্য আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হবে। তাহলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
জাদুঘরের পরিবেশ তার কাছে তেমন ভালো লাগেনি মন্তব্য করে বলেন, সব কিছুতে একটা জাকজমক থাকতে হয়। এখানে সব কিছু কেমন জানি। ব্যাপক আলোকসজ্জা করাসহ ভবনের রং করে আধুনিক সাজ দিতে হবে।
জাদুঘর ঘুরে দেখা গেছে, প্রাচীন অনেক পুরাকীর্তিতে ভরপুর রয়েছে ৯টি গ্যালারী। ১২/১৩ শতকের শিবলিঙ্গ, ১৪/১৫ শতকের শিবলিঙ্গ ও গৌরিপত্র, একাদশ/দ্বাদশ শতকের তৈরি পেঁচার উপর বসে থাকা লক্ষ্মীমূর্তি। এছাড়াও ১১/১২ শতকের একটিসহ বেশ কয়েকটি প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি রয়েছে এ জাদুঘরে। রয়েছে প্রাচীন দেব-দেবির মূর্তি অলংকৃত ইট, বিভিন্ন প্রাচীন মুদ্রা, পাথরের তৈরি তৈজষ পত্রসহ ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী শতাধিক পুরাকীর্তির নিদর্শন।
সহকারী কাষ্টোডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, প্রচার-প্রচারনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে কবে দিয়েছেন সেটি মনে করতে পারেননি তিনি। প্রযোজনে আবারো নতুন করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
আলোকসজ্জার বিষয়ে বলেন, বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ঘোষনা দিয়েছে। তবে উন্নয়নের বিষয়ে কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসানুজ্জামান বলেন, আগে জাদুঘরে প্রবেশের একটি পথ ছিলো। গত ফেব্রুয়ারীতে প্রধান সড়কের পাশে আরেকটি প্রবেশ পথ করার পর দর্শনার্থী বেড়েছে। তিনি জানান, গত ৮ মাসে জাদুঘরে ৫ হাজার ৯৪৭ জন দর্শনার্থী এসেছিলো।
হাসানুজ্জামান বলেন, বৃহত্তর বরিশালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার লক্ষ্যে নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় পুরনো কালেক্টরেট ভবনে গড়ে তোলা হয় বিভাগীয় জাদুঘর। খোদ ভবনটিই একটি পুরাকীর্তি। ১৮২১ সালে এটি নির্মিত হয়েছিল, ১৯৮৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০৪ সালে ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রয়োজনীয় সংষ্কার ও সংরক্ষণ শেষে এই ভবনেই স্থাপন করা হয় জাদুঘর। ২০১৫ সালের ৮ জুন এটির উদ্বোধন হয়।
পুরনো কালেক্টরেট ভবন ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্মারক। এটি বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম প্রশাসনিক ভবনও। জাদুঘরে ভবনটির ইতিহাস, স্থাপত্য শৈলীর বিবরণ, আলোকচিত্র ও নির্মাণ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন উপস্থাপন করা হয়েছে। দোতালায় সজ্জিত নয়টি গ্যালারিতে ফারসি হরফে উৎকীর্ণ মুসলিম যুগের শিলালিপি, গুপ্ত যুগের পোড়ামাটির নিদর্শন, প্রস্তর নির্মিত পাল যুগের বুদ্ধমূর্তি, পদ্মখচিত সুলতানি যুগের পোড়ামাটির ফলকচিত্র, মাটির সামগ্রী, তৈজষ পত্র, গ্রামোফোন রেকর্ডার (কলের গান), আসবাব, শিবলিঙ্গ, মারীচী মূর্তি, কৃষ্ণমূর্তি, হরগৌরি মূর্তি, মহাদেব মূর্তি, ব্রোঞ্জের বদনা, পাথরের মালাসহ অনেক মূল্যবান, দুষ্প্রাপ্য ও আকর্ষণীয় নিদর্শন প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রয়েছে বরিশাল বিভাগের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিচিতি। বরিশাল বিভাগের কীর্তিমানদের তথ্য ও আলোকচিত্র। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পকলায় উপস্থাপন করা হয়েছে বরিশালের গৌরবময় সমৃদ্ধ ইতিহাস।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT