3:37 pm , September 8, 2022
মো. পলাশ হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ ॥ বাকেরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে অবশেষে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে নাম করন শেষে নাম ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আল মামুনের সভাপতিত্বে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ নাম ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক জামাল উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকমল হোসেন, সমাজ সেবক ও প্রতিষ্ঠাতা নাটুবাবুর স্ত্রী ছায়া রায় চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের শংকর দাস, বিক্রম দাস, সাংবাদিক নেত্ববৃন্দসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক গন্যমান্য ব্যকিতরা উপস্থিত ছিলেন। ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সোনাম দি চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ বিষয়ে তার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিপ্লব রায় চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশে শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম করনের মহৎ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য তিনি সকল প্রশংসা মহান সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, উপশিক্ষামন্ত্রী এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করেন। বক্তব্যে তিনি স্বরণ করেন, তার বাল্যবন্ধু সহপাঠী মরহুম মাসুদুর রহমানকে যিনি এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করতে উৎসাহ যুগিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়াও সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত এ বিদ্যালয়টি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জমিদার নাটুবাবু ১৯৩২ সানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পড়ালেখার সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন শুরু থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়ে স্থানীয় কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব সরকার, তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সব রকম সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। সংবাদ পেয়ে এগিয়ে এসে পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৎকালীন বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মরহুম মানিক হোসেন মোল্লার নেতৃত্ব একদল মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বিতর্কিত কমিটি গঠনের পায়তারা। নিজ খরচে মুক্তিযোদ্ধাদের যাবতীয় খরচ বহনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরীর পরিবারকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা বিষয়টি বহুল ভাবে প্রচারিত হলে টনক নড়ে প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারা মুক্তি যুদ্ধের এই মহান মানুষটির সম্মান রক্ষায় সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিলে পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী নাটুবাবু মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে নাম করনের আবেদন করে।
