বাংলাদেশের চিকিৎসা কেন সিঙ্গাপুর বা ভারত নির্ভর বাংলাদেশের চিকিৎসা কেন সিঙ্গাপুর বা ভারত নির্ভর - ajkerparibartan.com
বাংলাদেশের চিকিৎসা কেন সিঙ্গাপুর বা ভারত নির্ভর

3:55 pm , September 6, 2022

ইকবাল হোসেন তাপস ॥ চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বাংলাদেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন । আমাদের সরকারের এবং দেশের ডাক্তারদের জরুরী ভাবে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে এর প্রতিকার নিয়ে ভাবা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ আমাদের দেশ থেকে শতশত কোটি টাকা বিদেশে চলে যাওয়া থেকে রোধ করা সম্ভব । আমাদের সরকার ও দেশের স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত সকল ডাক্তার নার্সসহ অন্যান্য কর্মীদের খতিয়ে দেখা উচিত কেন বাংলাদেশের মানুষ ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন । কি নাই আমাদের কাছে, যা দিয়ে আমাদের দেশের রোগীদের সন্তুষ্ট করতে পারছেন না আমাদের ডাক্তাররা । অবশ্যই উন্নতদেশে আমাদের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তি থাকতে পারে তবে বর্তমান যুগে বিশ্বের যে কোনো প্রযুক্তি সকলের জন্য উন্মুক্ত । চলতি আগস্ট মাসে আমি সিঙ্গাপুরে একটি এবং ভারতে একটি হাসপাতাল ঘুরে আমার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। সিংগাপুরে আমি আমার ছোটো ভাইয়ের চিকিৎসা পরামর্শের জন্য যেতে বাধ্য হই কারণ বাংলাদেশের সকল নামিদামি হাসপাতাল ও ডাক্তারদের উপর আস্থা রাখতে পারিনি । সেখানে গিয়ে দেখলাম আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য যে সকল সুবিধা প্রয়োজন সবই সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে যেমন আছে তেমনি বাংলাদেশেও ছিলো। বাংলাদেশের হাসপাতালে যেটা পাইনি সেটা হচ্ছে – পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও জবাবদিহীতা। আমাদের দেশের বেশীরভাগ ডাক্তাররা সমাজের অন্যসব সাধারণ মানুষের মতোই চিন্তা করেন। তাদের পেশাকে তারা অন্যসব ব্যবসার মতো চিন্তা করার কারনে পেশাদারীত্ব ছুটে যায় । মাথার মধ্যে শুধু টাকা রোজগারের কথাটাই ঘুরপাক খাওয়ার কারনে মনুষ্যত্ব পালিয়ে বেড়ায়। একজন ডাক্তার যখন টেস্ট রিপোর্ট করতে দিয়ে কমিশন নেওয়ার কথা চিন্তা করবেন তখন নিশ্চয়ই রোগীদের বিনা প্রয়োজনে নানান ধরনের টেস্ট করতে বলবেন। ওষুধ লিখেও কমিশনের নেয়ার কথা শোনা যায় । হার্টে স্টেনডিং করবেন সেখানেও কমিশন । রোগী সংগ্রহ করার জন্য দালাল আরো কতো কি। একজন ডাক্তারের যখন অনেক টাকার দরকার, তখন তিনি অনেক রোগী দেখবেন ব্যবসায়িক চিন্তা করবেন সেটাই স্বাবাভিক । যত রোগী তত ভিজিট ও ফি, ততই টেস্ট আর কমিশন উপার্জন। রোগীর রোগের কথা চিন্তা করার সময় কোথায় । আমাদের দেশের ডাক্তারদের অনেক টাকা দরকার উনারা ভুলক্রমে ডাক্তার হয়েছেন আর ডাক্তার হয়ে ব্যবসা করছেন। সরকারের দুর্বলতা ও জনগনের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এদেশের মানুষকে প্রতিদিন প্রয়োজনবিহীন টেস্ট ও ঔষধ দিতে দিতে কখন যে নিজেদের পেশাদারীত্ব হারিয়েছেন তা হয়তো তারা জানেনও না। ফলে মানুষের মাঝে তাদের শ্রদ্ধার জায়গাটি হারাতে হারাতে শূন্যের কোটায় নেমে যাচ্ছে সে দিকে তাদের কোনো লক্ষ্য আছে বলে মনে হচ্ছে না।
খুব সাধারণ ভাবে যদি দেখি তাহলে মানুষ পুলিশে যেতে ভয় পায় কারণ, বেশীরভাগ পুলিশ জনগণকে সঠিক পথের পরিবর্তে গরল পথ দেখান। যার কারন হলো, জনগণ ভয় পেয়ে পুলিশ কে টাকা দেবেন । অনুরূপ ইনকামট্যাক্স , কাস্টমস এবং অন্যান্য সরকারী অফিসের যেখানেই যান না কেন সেখানকার কর্মকর্তারা আপনাকে সঠিক পথের পরিবর্তে গরল পথে হাঁটতে বলবে। যাতে তারা অবৈধভাবে আপনার কাছে টাকা দাবী করতে পারেন। আমাদের এই মানুষগুলোর বংশধর যখন ডাক্তার হন তখন তারাও রোগীদের সাথে সেই একই রকম আচরণ করেন । আমাদের দেশের ডাক্তাররা বেমালুম ভুলে বসে আছেন তারা সাধারণ আর পাঁচজনের মতো ব্যাবসায়ী নন তারা মানুষকে সুস্থ করার কারিগর। আপনাদের অনেক টাকার প্রয়োজন হলেও মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা খুবই গর্হিত একটি কাজ যা আপনারা ভুলে বসে আছেন ।
গত কয়েকদিন আমি ভারতের একটি ছিলাম। সেই হাসপাতালে বসেই এই লেখাটি লিখছি। হাসপালটির নাম উৎ.জবষধ রহংঃরঃঁঃব ্ সবফরপধষ পবহঃবৎ (জবষধ ঐড়ংঢ়রঃধষ) মাত্র পাঁচ বছর পুর্বে উৎ. গড়যধসধফ জবষধ যার হাত ধরে এই হাসপাতালের যাত্রা । আজকে সারা বিশ্বের তথা সারা ভারতের প্রথম সারির হাসপাতালের একটি এই হাসপাতাল যেখানে লিভার প্রতিস্থাপন সহ লিভারের জটিল সব রোগের চিকিৎসা করা হয়। মাত্র ৬৫ বছর বয়সে একজন লিভার সার্জন বিশ্ব তথা ভারতবাসীর জন্য ৪৫০ বেডের যে আধুনিক হাসপাতাল উপহার দিলেন তা চোখে না দেখলে বুঝানো প্রায় অসম্ভব। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে রোগীরা আসেন চিকিৎসা গ্রহনের জন্য। আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট যেখানে একজন বিদেশী রোগীর জন্য দোভাষী সহ এয়ারপোর্ট থেকে আনা-নেওয়া, বাসস্থানের ব্যবস্থাসহ সকল সুবিধা রেখেছেন। এখানকার ডাক্তারসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব ব্যবহার সত্যিকারের শিক্ষনীয় । আমি গত তিনদিনে কমপক্ষে ১৫/২০জন বাংলাদেশী রোগীর দেখা পেয়েছি তাদের সবার মুখেই বাংলাদেশের ডাক্তার ও হাসপাতাল সম্মন্ধে তিক্ত সব অভিজ্ঞতার কথা শুনলাম। আমি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের একজন তথাকথিত নামজাদা লিভার বিশেষজ্ঞের উপর বিরক্ত হয়েই এখানে এসেছি । আমি যে ২০ জন রোগীকে দুইদিনে দেখলাম, তারা যদি জনপ্রতি কম করে হলেও দশ হাজার (১০,০০০) ডলার বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসেন তাহলে দুই লক্ষ ডলার নিয়ে এসেছেন। এই ভাবে সারা বছর কোটি কোটি ডলার বিদেশে শুধু চিকিৎসার জন্যই চলে যাচ্ছে । সরকার এবং দেশের চিকিৎসকসহ এই পেশার সাথে যারা জড়িত তাদের আন্তরিকতা থাকলে দেশের এই কোটি কোটি টাকা বাঁচানো যেত। বিদেশে চিকিৎসার জন্য খরচ করা থেকে বিরত রেখে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হতো । আমাদের দেশে কি আর দুএকজন ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের জন্ম হতে পারেনা । দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার ডাক্তার পাশ করে বের হন। তাদের মধ্যে একজন ডাক্তার মোহাম্মদ রেলা বা একজন ডাঃ দেবী শেঠী বা ডাঃ আদবানী জন্ম হতে পারে না যারা স্বাস্থ্য খাতকে একটি স্বাস্থ্য শিল্পে পরিণত করে মানব কল্যানে কাজ করবে আমাদের দেশের চিকিৎসা খাতের মানুষ গুলো শুধু মাত্র ব্যবসায়ী না হয়ে মানবিক ব্যবসায়ী হলেই এখানে ভালো চিকিৎসা সম্ভব ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT