3:48 pm , September 5, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের কৃতি সন্তান মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহা পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রেষন-১ অধিশাখা এর উপ সচিব আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তার চাকুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করা হয় এবং বলা হয়েছে জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তিনি এর আগে একই দপ্তরের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।
সম্প্রতি এনটিএমসিতে মহাপরিচালক পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপরই তাকে সংস্থার প্রথম মহাপরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয় সরকার। গত ২১ জুলাই জিয়াউল আহসানকে মেজর জেনারেল হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, বরিশালের কৃতি সন্তান জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক অফিসার হিসাবে কমিশন লাভ করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণসহ মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর প্রশিক্ষন নেন। ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার, প্যারা কামান্ডো ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার এবং পদাতিক ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্কুল অব ইনফেন্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিস, জালালবাদ সেনানিবাসের স্পেশাল ওয়ারফেয়ার উইংয়ের প্রশিক্ষক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউল আহসান ২০০৯ সালে মেজর পদে প্রেষণে বদলি হয়ে প্রথমে র্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক পদে নিযুক্ত হন। পরের বছর ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি র্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসাবে দায়িত্ব পান। তিনি অসাম্প্রদায়িক এবং ন্যায়বিচার ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেপথ্যে থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্কাই ডাইভার এবং কমান্ডো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। জিয়াউল আহসান দুবার পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক বিপিএম (সাহসিকতা) ও পিপিএম পদকপ্রাপ্ত হন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি টানা চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হন।
