3:47 pm , September 4, 2022
১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নের শেষ দিন
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরগরম এখন বরিশালের ৬ জেলার রাজনীতি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। বিশেষ করে বরিশাল সদরের রাজনীতিতে বিএনপি ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলেরই দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।
পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১০ দিন পর গত ১৭ এপ্রিল দেশের ৬১ জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদেরই আবার প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন জেলা পরিষদের প্রশাসকদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়। ওই সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ৬১টি জেলায় সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যানদের স্ব-স্ব জেলা পরিষদেরপ্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জেলা পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলো পুনরুজ্জীবিত করা হয়। ওই নির্বাচন প্রধান বিরোধী দলগুলো বয়কট করায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরাই জেলার চেয়ারম্যান হন। এছাড়া ১৩ জেলায় স্বতন্ত্র হিসেবে যারা জয়ী হন, তারাও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। এরপর গত ৩১ আগস্ট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ অক্টোবর জেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন তারিখ নির্ধারন হয়েছে। আর এ নিয়ে বরিশাল সদর ও জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিযোগীতা লবিং। এ প্রতিযোগীতায় রয়েছেন পরিষদগুলোর বর্তমান প্রশাসক ও সাবেক সংসদ-সদস্য, পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানরাও। চেয়ারম্যান ও প্রশাসক হিসাবে টানা ৩-৪ বার দায়িত্বে থাকা নেতারাও চাইছেন চেয়ারম্যান হতে। যদিও এবার ভিন্ন দাবী তুলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী এবার অন্তত বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সুযোগ দেয়া হোক। দলীয় মনোনয়ন পাক সত্যিকারের ত্যাগীরা। এ ক্ষেত্রে সাবেক সংসদ-সদস্য, জেলা চেয়ারম্যান, পৌরমেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের বাদ দেয়ারও দাবী তাদের।
নিয়মানুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, পৌর মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যন ও ভাইস চেয়ারম্যানরা ভোট দেন এ নির্বাচনে। জেলা পরিষদে সর্বশেষ চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৭ এপ্রিল। তাদেরই আবার অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় সরকার। ৩১ আগস্ট জেলা পরিষদের নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এ নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ফলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মানেই নিশ্চিত বিজয়। আর এ সম্ভাবনায় বরিশালে এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতা মাঠে নেমেছেন দলীয় মনোনয়নের দৌঁড়ে। এ দৌঁড়ে আছেন বর্তমান প্রশাসক সাবেক সংসদ-সদস্য মাইদুল ইসলাম ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আলতাফ হোসেন ভুলু । আরও চারজনের নাম রয়েছে মনোনয়ন প্রার্থীর আলোচনায়। এ লবিং এ এগিয়ে আছেন চারজন আওয়ামী লীগ নেতা। তারা হলেন সাবেক সংসদ-সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, চেম্বার সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজালুল করিম। বিষয়টি সম্পর্কে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দলের মনোনয়ন বোর্ড। শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন দলীয় প্রার্থী।
জেলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে। তবে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
